গভীর প্রেমের কবিতা

গভীর প্রেমের কবিতা। আসসালামু আলাইকুম বন্ধুগণ আশা করি ভাল আছেন। আপনাকে আপনার প্রিয় মানুষটিকে প্রেমের কবিতা শোনানোর জন্য প্রেমের কবিতা খুঁজছেন। এবং আপনার প্রিয় মানুষটির জন্য কোন কবিতাগুলো নির্বাচন করবেন সেগুলো ভেবে পাচ্ছেন না। 

আপনার আর কোন টেনশন নেই আপনার এই সমস্যার সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছি আমরা। আপনি যদি আমাদের আর্টিকেলটি মনোযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পড়েন তাহলে আপনার গভীর প্রেমের কবিতার একটা লম্বা তালিকা পেয়ে যাবেন। এই কবিতাগুলো মধ্য থেকে আপনি আপনার ভালবাসা র মানুষটির জন্য কবিতাটি নির্বাচন করুন। এবং সেই কবিতাটি কি আপনার ভালবাসার মানুষটির সামনে আবৃত্তি করে তার মনোরঞ্জন করুন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।
কাজী নজরুল ইসলামের "তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি" একটি গভীর প্রেমের কবিতা। কবিতাটির মূল উপজীব্য হল প্রেমিকের প্রতি অপার মুগ্ধতা ও ভালোবাসা। নিচে কবিতাটি সম্পূর্ণরূপে দেওয়া হলো:

তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি প্রিয়,

সেকি মোর অপরাধ?
চাঁদেরে হেরিয়া কাঁদে চকোরিণী
কাঁদে কি সে চাঁদের সাথ?
জানি না তুমি কোন্ নন্দন-কাননের
কুসুম, তুমি কোন্ তারার আলো,
পেয়ে তোমার দেখার অধিকার
এ জনমে ধন্য হ’লাম ভালো!

কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতায় প্রেমের চিরন্তন আকর্ষণ ও সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধতা ফুটে উঠেছে।

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবিতায় মানবিক অনুভূতির গভীরতা ও সরলতা একসঙ্গে প্রকাশ পায়। তার প্রেমের কবিতাগুলিও একইভাবে মর্মস্পর্শী। নিচে তার একটি সুন্দর প্রেমের কবিতা "আমার প্রেম" দেওয়া হলো:

আমার প্রেম

আমার প্রেম ধোওয়া আকাশের গায়ে
কাঁচা রোদ্দুর হয়ে লাগুক,
অন্ধকার যত— সব দূরে সরে যাক।
আমার প্রেম পাতাঝরার বেলায়
নতুন পাতার জন্ম হয়ে ফোটে
আমার প্রেম পাথরের স্তূপে
অঙ্কুরিত ঘাস হয়ে বাঁচুক।
মাটি যতই শক্ত হোক— ভেদ করে।
আমার প্রেম ঢেউয়ের আছাড়ে
তলিয়ে যাওয়া নৌকো হয়ে ভাসুক,
আর একবার দাঁড়।
আমার প্রেম মৃত্যুর ভিতরে
জীবনের গান হয়ে বাজুক,
শেষ হবার নয়।

এই কবিতায় প্রেমের বিভিন্ন রূপ ও অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে প্রেমকে পুনর্জন্ম, আশা ও জীবনধারা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের "বনলতা সেন" বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা। এটি প্রথম প্রকাশিত lহয় ১৯৪২ সালে তাঁর কাব্যগ্রন্থ "নক্ষত্রের রাত"-এ। এই কবিতায় কবি দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তি শেষে শান্তি খুঁজে পান বনলতা সেন নামক এক নারীর মধ্যে। কবিতাটি নিম্নে সম্পূর্ণরূপে দেওয়া হলো

বনলতা সেন

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল-সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার-অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরও দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিল নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;
অতিদূর সমুদ্রের পর হাল ভেঙে যে নাবিক
হঠাৎ দেখে দিশা,
সবুজ ঘাসের দেশ,
এতদিন কোথায় ছিলে তুমি?
প্রশ্ন করে নাবিকের মতো,
দেখেছি তারে অন্ধকারে;
বলেছে সে, “এতদিন কোথায় ছিলেন?”
পাখির নীড়ের মতো চোখ তার,
সন্ধ্যার মতো তারে।
ধূসর জগতে,
অনেক ঘুরে আমি এসেছি তার কাছে,
নাটোরের বনলতা সেন।

এই কবিতায় জীবনানন্দ দাশ সময় ও ক্লান্তির পরিপ্রেক্ষিতে বনলতা সেনের মধ্যে এক অনির্বচনীয় শান্তি ও মমতার সন্ধান পান। বনলতা সেন প্রতীকী এক নারীমূর্তি, যিনি কবির নিঃসঙ্গতা ও ক্লান্তির শেষ আশ্রয়।

জীবনানন্দ দাশের "অবসাদ" কবিতাটি তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ "ধূসর পাণ্ডুলিপি" থেকে নেওয়া। এটি তাঁর অন্যতম একটি বিখ্যাত কবিতা, যেখানে অবসাদ ও বিষণ্ণতা গভীরভাবে ফুটে উঠেছে। নিচে কবিতাটি সম্পূর্ণরূপে দেওয়া হলো:

অবসাদ

জীবনানন্দ দাশ
অবসাদ বলিয়া কিছু নাই,
বালির ভিতরে যেমন বালি
কৃষ্ণপক্ষের এই মাঠে এখন তেমন শুয়ে আছে ক্লান্তি।
পিপাসা নাই; ঘাসের ভিতরে
জলের মতো লেগে আছে মৃত্তিকা, চৈত্রের আকাশ জোড়া আলো।
পৃথিবী দাঁড়িয়ে আছে একা, যেন একটা নামহীন বৃক্ষ,
বাতাসহীন সারা দুপুর; পাখির ঝাঁকের মতন
দেখা যায় দিগন্তের উপর নির্জনতা হয়ে গেছে কালো।

এই কবিতায় কবি এক ধরনের গভীর নিঃসঙ্গতা ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। পৃথিবীর শূন্যতা ও ব্যক্তির অবসাদপূর্ণ মানসিক অবস্থার সাথে প্রকৃতির নিস্তব্ধতাকে মেলানো হয়েছে।

"যদি ঘর ছাড়তে ইচ্ছে করে" কবিতাটি বিখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা। এটি একটি অনুপ্রেরণামূলক কবিতা যেখানে জীবনের প্রতিকূলতা, ক্লান্তি এবং পালানোর ইচ্ছার মাঝে আশার আলো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নিচে কবিতাটি সম্পূর্ণরূপে দেওয়া হলো:

দি ঘর ছাড়তে ইচ্ছে করে

          শঙ্খ ঘোষ
যদি ঘর ছাড়তে ইচ্ছে করে
তবে ঘর ছেড়ো না।
যদি কিছু বলতে ইচ্ছে করে
তবে মুখ খোলো না।
ভালোবেসে ফেললে যদি কাউকে
তবে কক্ষনো তাকিও না মুখের দিকে।
নির্জন দুপুরে যখন পাখি ডাকে
তখন জানালার কাছে যেও না।
ভেবো না বৃষ্টির ভিজে রাতের কথা,
অন্ধকারে দোর খুলে দিও না।
আর যদি একান্ত ইচ্ছে করে কিছু
তবে চোখ বুজে চুপ করে পড়ে থাকো
চেয়ারটাতে।
কিছু কোরো না, কিছু কোরো না, কিছু কোরো না।

এই কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ জীবনের বিভিন্ন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও ক্লান্তির মুহূর্তগুলোতে একজন মানুষ কীভাবে নিজের ইচ্ছাগুলোকে সংযম করতে পারে বা কীভাবে কিছু না করার মধ্য দিয়েও শান্তি খুঁজে নিতে পারে, তা ব্যাখ্যা করেছেন।

বর্তমান সময়ের বাংলা সাহিত্যের অনেক বিখ্যাত কবি আছেন যারা প্রেম নিয়ে চমৎকার কবিতা লিখেছেন। তবে কিছু কবিতা খুব দীর্ঘ, তাই তাদের সম্পূর্ণভাবে এখানে দেয়া সম্ভব নয়। আমি কিছু বিখ্যাত বর্তমান কবির প্রেমের কবিতা উল্লেখ করছি। আপনি যদি বিশেষভাবে কোনও কবিতা জানতে চান বা ছোট করে দিতে চান, আমাকে জানাতে পারেন:

“মুখোমুখি”

                শঙ্খ ঘোষ
**যদি এ-ই মুখোমুখি হওয়া**
যদি এ-ই মুখোমুখি হওয়া, কথা নয় কোনো মুখের,
যদি স্রেফ হাত ছোঁওয়া, যেন প্রথম চেনাশোনা,
আড়াল-ঢাকা আলো, স্পর্শের মাপজোখ—
তাহলে চিহ্ন রেখে যাও শেষ কথার মতো
আমরা যেদিন হেঁটেছি প্রথম হাত ধরাধরি করে।

 “ঘুমন্ত প্রেম”

         জয় গোস্বামী
**তুমি নিঃশব্দে আসে না**
তুমি নিঃশব্দে আসে না, আমি ঘুমের গভীরে
ঘুমিয়ে আছি—এত গভীর যে তা বললে ছুঁয়ে দিতে হবে না
সে কেমন প্রেম, জানো?

“আমি তোমাকেই বলছি”

             সুবোধ সরকার
**তোমার কণ্ঠস্বর পাইনি চিরকাল**
তোমার কণ্ঠস্বর পাইনি চিরকাল,
কখনও তোমার পাশে এসে বসিনি,
তবু কেমনভাবে যেন প্রতি সকালে তুমি আমাকে ডাকো,
‘চা’ এর গন্ধে তোমার মুখ থেকে বকুলফুল ঝরে পড়ে।

 “তোমার নামে”

 অর্ণব চক্রবর্তী
**তোমার নামে লেখা সব কবিতাগুলো**
তোমার নামে লেখা সব কবিতাগুলো
ভুল হয়ে যাবে, যদি আমি ভুলে যাই
তোমার চোখের ভাষা।

“তোমার জন্য অপেক্ষা”

      বিপুল দাশগুপ্ত 
**তোমার অপেক্ষায় বসে আছি আমি**
তোমার অপেক্ষায় বসে আছি আমি—
রোদ উঠে গিয়েছে, বাতাস থেমে গেছে,
কিন্তু তুমি আসো না।
তবু, এই পথটি চিরদিন তোমার জন্য অপেক্ষা করে রবে।

“অনুভব”

      দেবারতি মিত্র
**কতবার ভেবেছি**
কতবার ভেবেছি আমি—
তোমার প্রতি আমার অনুভূতিগুলো ঠিক কী?
কোনো শব্দে বাঁধা যায় না।
শুধু একটি অনুভব আছে—তুমি আছো।

বিষাদের আকাশে

               শ্রীজাত‘
**তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে**
তুমি আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে,
তবু আজও যখন আকাশ দেখি—
তোমার মুখটা ভেসে ওঠে

“কিছু বলবে না”

       রুদ্র গোস্বামী
**তুমি কিছু বলবে না**
তুমি কিছু বলবে না, শুধু চেয়ে থাকবে
আর আমি তোমার চোখে প্রেম পড়বো—
এর বেশি কিছু চাই না

 তোমার ছোঁয়া”

  নন্দিনী চক্রবর্তী
**তোমার হাতের ছোঁয়া পেলেই আমি জীবন্ত হয়ে উঠি**
তোমার হাতের ছোঁয়া পেলেই আমি জীবন্ত হয়ে উঠি,
যেন পৃথিবীটা আবার জন্ম নেয়—
তোমার স্পর্শে।

 “তোমার প্রতীক্ষায়”

         কবীর সুম
**তোমার প্রতীক্ষায় আছি আমি**
তোমার প্রতীক্ষায় আছি আমি—
সময়ের ঘড়ি থেমে গেছে,
কিন্তু হৃদয়ের ঘড়ি কখনো থামবে না—
যতক্ষণ না তুমি আসো।

এই কবিতাগুলির মধ্যে প্রেমের বিভিন্ন অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা, বিরহ এবং মুগ্ধতার প্রকাশ ঘটেছে। আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট কবিতা সম্পর্কে আরও জানতে চান বা আরো বিস্তারিত চান, জানাবেন।

অনামিকা

  কাজী নজরুল ইসলাম
কোন নামে ডাকব তোমায়
নাম-না-জানা- অনামিকা
জলে স্থলে গগনে-তলে
তোমার মধুর না যে লিখা।
গীষ্মে কনক-চাঁপার ফুলে
তোমার নামের আভাস দুলে
ছড়িয়ে আছে বকুল মূলে
তোমার নাম হে নিকা।
বর্ষা বলে অশ্রুজলের মানিনী সে বিরহিনী।
আকাশ বলে, তরিতে লতা, ধরিত্রী কয় চাতকিনী।
আষাঢ় মেঘে রাখলো ঢাকি
নাম যে তোমার কাজল আঁখি
শ্রাবণ বলে, যুঁই বেলা কি?
কেকা বলে মালবিকা।
শারদ-প্রাতে কমল বনে তোমার নামে মধু পিয়ে
বানীদেবীর বীণার সুরে ভ্রমর বেড়ায় গুনগুনিয়ে!
তোমার নামের মিল মিলিয়ে
ঝিল ওঠে গো ঝিলমিলিয়ে
আশ্বিণ কয়, তার যে বিয়ে
গায়ে হলুদ শেফালিকা।
নদীর তীরে বেনুর সুরে তোমার নামের মায়া ঘনায়,
করুণা আকাশ গ'লে তোমার নাম ঝরে নীহার কণায়
আমন ধানের মঞ্জরীতে
নাম গাঁথা যে ছন্দ গীতে
হৈমন্তী ঝিম্ নিশীতে
তারায় জ্বলে নামের শিখা।
ছায়া পথের কহেলিকায় তোমার নামের রেণু মাখা,
ম্লান মাধুরী ইন্দুলেখায় তোমার নামের তিলক আঁকা।
মোর নামে হয়ে উদাস
ধুমল হোলো বিমল আকাশ
কাঁদে শীতের হিমেল বাতাস
কোথায় সুদূর নীহারিকা।
তোমার নামের শত-নোরী বনভূমির গলায় দোলে
জপ শুনেছি তোমার নামের মুহহুমুর্হু বোলে।
দুলালচাঁপার পাতার কোলে
তোমার নামের মুকুল দোলে
কুষ্ণচুড়া, হেনা বলে
চির চেনা সে রাধিকা।
বিশ্ব রমা সৃষ্টি জুড়ে তোমার নামের আরাধনা
জড়িয়ে তোমার নামাবলী-হৃদয় করে যোগসাধনা।
তোমার নামের আবেগ নিয়া
সিন্ধু উঠে হিল্লোলিয়া
সমীরনে মর্মরিয়া
ফেরে তোমার নাম -গীতিকা।

অভিশাপ

কাজী নজরুল ইসলাম
যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে,
অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
ছবি আমার বুকে বেঁধে
পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে
ফিরবে মরু কানন গিরি,
সাগর আকাশ বাতাস চিরি'
যেদিন আমায় খুঁজবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে,
কাহার যেন চেনা-ছোওয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে, -
জাগবে হঠাৎ চমকে!
ভাববে বুঝি আমিই এসে
ব'সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে,
ধরতে গিয়ে দেখবে যখন
শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন!
বেদনাতে চোখ বুজবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
গাইতে ব'সে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না,
ব'লবে সবাই - "সেই যে পথিক, তার শেখানো গান না?"
আসবে ভেঙে কান্না!
প'ড়বে মনে আমার সোহাগ,
কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ!
প'ড়বে মনে অনেক ফাঁকি
অশ্রু-হারা কঠিন আঁখি
ঘন ঘন মুছবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!
আবার যেদিন শিউলি ফুটে ভ'রবে তোমার অঙ্গন,
তুলতে সে-ফুল গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ -
কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন!
শিউলি ঢাকা মোর সমাধি
প'ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি'!
বুকের মালা ক'রবে জ্বালা
চোখের জলে সেদিন বালা
মুখের হাসি ঘুচবে -
বুঝবে সেদিন বুঝবে!

 নিঃসঙ্গতা

আবুল হাসান
অতোটুকু চায় নি বালিকা!
অতো শোভা, অতো স্বাধীনতা!
চেয়েছিলো আরো কিছু কম,
আয়নার দাঁড়ে দেহ মেলে দিয়া
বসে থাকা সবটা দুপুর, চেয়েছিলো
মা বকুক, বাবা তার বেদনা দেখুক!
অতোটুকু চায় নি বালিকা!
অতো হৈ রৈ লোক, অতো ভিড়, অতো সমাগম!
চেয়েছিলো আরো কিছু কম!
একটি জলের খনি
তাকে দিক তৃষ্ণা এখনি, চেয়েছিলো
একটি পুরুষ তাকে বলুক রমণ

 প্রেমিকের প্রতিদন্দ্বী

               আবুল হাসান
‘অতবড় চোখ নিয়ে, অতবড় খোঁপা নিয়ে
অতবড় দীর্ঘশ্বাস বুকের নিশ্বাস নিয়ে
যত তুমি খুলে দাও কোমরের কোমল সারস
যত তুমি খুলে দাও ঘরের পাহারা
যত আনো ও- আঙুলে অবৈধ ইশারা
যত না জাগাও তুমি ফুলের সুরভি
আঁচলে আলগা করো কোমলতা, অন্ধকার
মাটি থেকে মৌনতার ময়ুর নাচাও কোনো
আমি ফিরবো না আর, আমি কোনো দিন
কারো প্রেমিক হবে না; প্রেমিকের প্রতিদ্ধন্দ্বি চাই আজ
আমি সব প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী হবো।

 আকাঙ্খা

 আবুল হাসান
তুমি কি আমার আকাশ হবে?
মেঘ হয়ে যাকে সাজাব
আমার মনের মত করে ।
তুমি কি আমার নদী হবে?
যার নিবিড় আলিঙ্গনে ধন্য হয়ে
তরী বেশে ভেসে যাব কোন অজানা গন্তব্যের পথে ।
তুমি কি আমার জোছনা হবে?
যার মায়াজালে বিভোর হয়ে
নিজেকে সঁপে দেব সকল বাস্তবতা ভুলে ।
তুমি কি আমার কবর হবে?
যেখানে শান্তির শীতল বাতাসে
বয়স যাবে আমার চিরনিদ্রার অফুরন্ত প্রহর ।

প্রশ্ন

আবুল হাসান
চোখ ভরে যে দেখতে চাও
রঞ্জন রশ্মিটা চেনো তো?
বুক ভরে যে শ্বাস নিতে চাও
জানো তো অক্সিজেনের পরিমাণটা কত?
এত যে কাছে আসতে চাও
কতটুকু সংযম আছে তোমার?
এত যে ভালোবাসতে চাও
তার কতটুকু উত্তাপ সইতে পারবে তুমি?

 ভালবাসার সরল সংজ্ঞ

ভালবাসা। এইতো তোমারি মাঝে আমার বাঁচা।
ভালোবাসা মানে তোমার মাঝেই বেঁচে থাকা
তোমার মাঝেই নিজেকে পাওয়া
তোমাকে ঘিরেই আমার নতুন জীবন।।
শিশুকাল থেকেই আলতো আলতু কথা বলতে শুরু হয়
তখনই আমরা মা বাবা বলতে শিখি।
তখন থেকেই আমাদের মনে পরিবারের মানুষের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি
ধীরে ধীরে শৈশব কাটিয়ে কৈশোরী পা দেওয়া
তারপরেই অপর একটি মানুষকে বিশ্বাস করতে শেখা
তার হাত ধরেই জীবনকে নতুন করে দেখা,
পরিণত বয়সে জীবনের কত ছবি আমরা একে চলি!
পরিণত বয়স থেকে বার্ধক্যে পা দেওয়া।
প্রিয় মানুষ, প্রিয় কথা, প্রিয় ঘর,সবকিছুই ধীরে ধীরে স্মৃতির খাতায় জমা হয়। ।
সারা জীবন আমরা ভালবাসায় বেঁচে থাকতে চাই
কিন্তু কতজনেরই বা ভালোবাসার আশা বাঁচে
প্রতিনিয়ত এই ভালোবাসার প্রতি আমরা মনোনিবেশ করি 

তীব্র ভালোবাসা

চেয়ে আছি আমি দূর আকাশে, রাতের তারা দেখি
তুমি ছাড়া এ জীবনটা আমার শুধুই দিশেহারা।
আমাকে তুমি যতই দূরে রাখো তবুও কাছে আসবো,
কষ্ট তুমি যতই দেবে, আমায় তোমাতেই ভালোবাসবো।
চেয়ে দেখো দূর আকাশে চলছে অনেক তারা
প্রথম দেখায় তোমাকে আমার লেগেছে অনেক ভালো
তোমায় নিয়ে আমি চলে যাব ওই বহুদূরে
শুধু আমায় জায়গা দিয়েও তোমার মনের মনিকোঠায়।
স্বপ্ন আমি তোমায় নিয়ে বুকের মাঝে রাখি,
দিবানিশি তোমার ছবি আমার মনেই আঁকি।
চাঁদ হয়ে তুমি জ্বলে থাকবে, আমার মনের ঘরে
ভালোবাসা দিয়ে তোমায় রাখবো যতন করে।
হাতে হাত রেখে বলো,কোনদিন ছেড়ে যাবে নাকো
তোমায় ছাড়া এই জীবনে আমার কিছু আর নাইকো।
কাজে আমার মন বসে না, তোমার কথাই ভাবি
তুমি আমার জীবন মরণ তুমি আমার সাথী।
এই মনেতে তুমিই থাকো,আর থাকে না কেউ
আর শুধু তোমার জন্য বুকের মাঝে অকুল ঢেউ।
আজ আমায় তুমি কথা দাও ,যাবে না তো দূরে….
তুমি দূরে গেলে আমি হারাবো চিরদিনের তরে।
প্রেম আগুনে জ্বলে পুড়ে আমি যাচ্ছি মরে
কখন তুমি যতন করে, রাখবে আমায় মনের ঘরে।
আর কতকাল থাকবো একা? গুনবো কতদিন
ভালো থাকতে পারিনা আমি, কাটছে না আমার দিন
কখন দিবে তুমি সাড়া, আসবে আমার কাছে।

তোকে ছাড়াই

জানি, তোকে ছাড়াই আমার কেটে যাবে কয়েকটা বছর, কয়েকটা যুগ
তোকে ছাড়াই-.
শুনতে পাব ভোরের আকাশে উড়ন্ত পাখির কলরব-
দেখতে পাবো ধুধু করা মাঠের পাশে বয়ে চলা যৌবনা নদী
তবুও,
আমি হারিয়ে যাব তোকে খোঁজার ছলে,
নিরুদ্দেশের দেশে।
জানি,
এক টুকরো ভালোবাসা খুঁজে পাব দূর আকাশের নিচে-
তারার মাঝে গাংচিলেরা এসে নিয়ে যেতে চাইবে,
দিগন্তের ওপারে !
শুভ্র বরফের মাঝে কোন এক এক্সিমোরা আমাকে নিয়ে গান লিখবে।
তবুও,
তোকে ভুলবো না কোনদিন, শুধু একটিবার তোকে ছুঁয়ে দেখার আশায়।
তোর অপেক্ষায় চাতক হয়ে মরতে চাই আমি-
তোর জন্য আমার চির বসন্তের দেশে যাওয়ার স্বপ্ন ঘুচে যাবে।
তোর জন্য হয়তো বা কষ্ট আর বেদনারা হবে আমার প্রতিবেশী।
তবুও,
স্বপ্নে বিভোর হয়ে উদ্ভ্রান্ত মেঘের সাথে দল দেব না আর,
শুধুই তোকে চাইবো,আর বলব একবার বেড়াতে-
এসো সুখ ! আমার ঘরে।

কৈশোরের ভালোবাসা

জীবনের মধ্যাহ্নে এসে যখন ভাবি বসে একা
স্মৃতির অতলান্ত হতে ভেসে আসে পুরনো দিনের কথা।
কত শত শৈশবের স্মৃতি নিয়ে কাটানো মধুর বেলা
হারিয়ে গেছে কত আজ সময় স্রোতে
বর্তমান হয়ে গেছে যা অতীতের হাতে
হৃদয় বিদ্ধ হয় শৈশবের পুরনো স্মৃতির তীরে
ইচ্ছে করে যেতে আবার শৈশবের পথে ফিরে|
এ ফেরা হবেনা অনন্তকাল
তবুও মনের মাঝে রয়ে যাবে এই ফেরার বাসনা চিরকাল।

অন্ধ প্রেম

অতীতের নেপথ্য হইতে
অযাচিত করুণার মতো,
এসেছিল হাসিতে হাসিতে।
ভুলাইতে পথক্লেশ যত|
কি জানি কি রহস্য জড়িত?
এই অন্ধ মানব জীবন!
কোন দিব্য প্রেমে নিয়ন্ত্রিত
পর কেন হয় গো আপন?
অযাচিত অতিথির কাছে
মুক্ত করি হৃদয় ভান্ডার
সুখ দুঃখ সঞ্চিত যা আছে
সমাদরে দিল উপহার|
নিরাশায় হয়ে প্রতি হত
তব পাশে আসিনো যখন,
মায়াময়ী জননীর মতো
স্নেহাঞ্চলে করিলে ব্যঞ্জন|
যদি এই আশ্রিতে তোমার
হারিয়েছো স্নেহের নয়নে,
তবে এরে ভুলিও না আর
আর জন্মান্তরে যুগ আবর্তনে|

বেশ্যার সাথে সংসার

বেশ্যার সাথে কি আর সংসার পাতা যায়?
সেই দিন কি আর আছেরে পাগল!
কে কার বুকে কান পেতে তুলা ধুনটের শব্দ শুনে?
তা ছাড়া শান্তিতো শুধুই দৈহিক বিষয়। তাই নয় কি?
টিভি খুলে প্রতিদিন নিয়ম করে ভালোবাসার নাটক দেখলেই চলে যায়।

শেষ কথা: গভীর প্রেমের কবিতা

গভীর প্রেমের কবিতা আর্টিকেটে যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে আপনার নিকটস্থ বন্ধুদের কাছে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

আরিফুল প্লাস এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url