রোমানিয়া বেতন কত: রোমানিয়া ইউরোপের একটি খুবই আকর্ষণীয় গন্তব্য। অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের তুলনায় এখানে প্রবেশ প্রক্রিয়া সহজ এবং খরচও কম। প্রতি বছর প্রচুর মানুষ কাজের সন্ধানে রোমানিয়াতে যান, কারণ এখানকার ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ।

তবে সাবধান, অনেক সময় কিছু এজেন্সি উচ্চ বেতনের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়। মনে রাখবেন, রোমানিয়া ইউরোপের একটি উন্নত দেশ এবং এখানকার জীবনযাত্রার মান নিঃসন্দেহে ভালো। তাই, কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে এই আর্থিক দিকগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
যারা কাজের সন্ধানে রোমানিয়া যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রোমানিয়ার বেতনের মানদণ্ড এবং রোমানিয়া ভিসার দাম কত, এই সংক্রান্ত বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য জানা। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে হলে অবশ্যই আপনাকে এই লেখাটি শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়া উচিত।
রোমানিয়া বেতন কত ২০২৬
রোমানিয়ায় কাজের বেতন সম্পর্কে সঠিক তথ্য ইন্টারনেটে খুঁজে বের করা বেশ কঠিন। এর প্রধান কারণ হলো, এজেন্সিগুলো অনেক সময় কর্মীদেরকে উচ্চ বেতনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সেই বেতন অনেক কম হতে পারে।
📌আরো পড়ুন👉সুইজারল্যান্ড সর্বনিম্ন বেতন কত ২০২৬
বেতন বা মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রভাব ফেলে। এই বিষয়গুলো হলো:
- ১. কাজের ক্ষেত্র ও প্রকৃতি: আপনার কাজের ধরন কী—তার ওপর বেতনের পরিমাণ নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, নির্মাণ, কারখানা, স্বাস্থ্যসেবা, বা আইটি সেক্টরের মতো ভিন্ন ভিন্ন শিল্প বা পেশার ক্ষেত্রে বেতনের পরিমাণে স্বাভাবিকভাবেই পার্থক্য দেখা যায়।
- ২. অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা: কর্মক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা একটি বড় প্রভাব ফেলে। সাধারণত, যারা অভিজ্ঞ এবং বিশেষ কোনো কাজে দক্ষ, তারা নতুন বা কম অভিজ্ঞ কর্মীদের তুলনায় স্বভাবতই বেশি বেতন পেয়ে থাকেন।
- ৩. প্রতিষ্ঠানের আকার: আপনি কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন, সেটিও বেতনের ক্ষেত্রে তারতম্য তৈরি করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বড় বা সুপ্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো ছোট বা নতুন প্রতিষ্ঠানের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন প্রদান করে থাকে।
| ক্রমিক নম্বর | কাজের ধরন | মাসিক বেতন (টাকা) |
| ১ | মেকানিক্যাল | ১০৫,০০০-১,৫০,০০০ |
| ২ | ড্রাইভার | ১০৫,০০০-১,৩০,০০০ |
| ৩ | সাধারণ শ্রমিক | ১,০০,০০০-১,২০,০০০ |
| ৪ | ইলেকট্রিশিয়ান | ১,১০,০০০-১,৩০,০০০ |
| ৫ | কনস্ট্রাকশন শ্রমিক | ১,০০,০০০-১,৩০,০০০ |
| ৬ | হোটেল কর্মী | ১,০০,০০০-১,৩০,০০০ |
| ৭ | ডিজাইনার | ১,০০,০০০-১,৩০,০০০ |
| ৮ | টাইলস শ্রমিক | ১,০০,০০০-১,৩০,০০০ |
| ৯ | হোটেল ম্যানেজার | ১,১০,০০০-১,৫০,০০০ |
| ১০ | ক্লিনার | ১,০০,০০০-১,১৫,০০০ |
রোমানিয়া সর্বনিম্ন বেতন কত ২০২৬
রোমানিয়াতে উন্নত জীবনের আশায় যারা পাড়ি জমান, তাদের জন্য সাফল্য নির্ভর করে প্রধানত দক্ষতা, ভাষা জ্ঞান এবং বৈধতার উপর। বৈধ ভিসা নিয়ে প্রবেশ করা একজন দক্ষ কর্মী মাসিক $১০০০ থেকে $১২০০ ডলার পর্যন্ত আয় করতে পারেন।
তবে, যারা অবৈধ পথে দেশটিতে যান, তাদের আয় তুলনামূলকভাবে কম, যা সাধারণত প্রায় $৭০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে। বেতনের অঙ্কটি কিন্তু নির্দিষ্ট নয়; রোমানিয়ার শ্রমবাজারে অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার গুরুত্ব অনেক। দক্ষ শ্রমিকরা এখানে ভালো সুযোগ পেলেও, অদক্ষ কর্মীদের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন।
সম্প্রতি একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে রোমানিয়া শেনজেনভুক্ত হওয়ায় কর্মীদের বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমানে রোমানিয়াতে সর্বনিম্ন বেতন প্রায় ৮১৪ ইউরো।
রোমানিয়া ভিসার দাম কত ২০২৬
রোমানিয়া ভ্রমণের মোট খরচ মূলত ভিসার ক্যাটাগরি এবং এর মেয়াদের উপর নির্ভরশীল। আপনার উদ্দেশ্য অনুসারে সঠিক ভিসা নিতে হবে—যেমন: পড়াশোনার জন্য স্টুডেন্ট ভিসা, কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, চিকিৎসার জন্য মেডিকেল ভিসা, অথবা ভ্রমণের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা।
প্রতিটি উদ্দেশ্যের জন্য নির্দিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় খরচ নির্ধারিত হয়। নিম্নলিখিত টেবিলের মাধ্যমে আপনি রোমানিয়া ভিসার আনুমানিক মূল্য সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন:
| ক্রমিক নম্বর | ভিসা ক্যাটাগরি | ভিসা খরচ (টাকা) |
| ১ | স্টুডেন্ট ভিসা খরচ | ৪-৫ লক্ষ |
| ২ | ড্রাইভিং ভিসা খরচ | ৭-৮ লক্ষ |
| ৩ | ওয়ার্ক পারমিট ভিসা খরচ | ৮-১০ লক্ষ |
| ৪ | গার্মেন্টস ভিসা খরচ | ৬-৭ লক্ষ |
| ৫ | কোম্পানি ভিসা খরচ | ১১-১৩ লক্ষ |
| ৬ | জব ভিসা খরচ | ১০-১২ লক্ষ |
| ৭ | কৃষি ভিসা খরচ | ৬-৭ লক্ষ |
| ৮ | টুরিস্ট ভিসা খরচ | ৫-৬ লক্ষ |
| ৯ | সিজনাল ভিসা খরচ | ৬-৭ লক্ষ |
বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া যেতে কত টাকা লাগে
রোমানিয়া যাওয়ার মোট ব্যয় নির্ভর করে মূলত আপনি কোন ধরনের ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন এবং আপনার যাত্রা কীভাবে সম্পন্ন হচ্ছে, তার উপর। রোমানিয়াতে স্টুডেন্ট ভিসা, বিজনেস ভিসা, বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসাসহ বিভিন্ন ধরনের ভিসা পাওয়া যায় এবং প্রতিটি ভিসার খরচ আলাদা হয়।

সাধারণত, ভিসা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মিলিয়ে আপনি যদি সরকারিভাবে রোমানিয়া যান, তাহলে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। তবে কিছু অতিরিক্ত খরচ থাকতে পারে যা সাধারণত নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগকারী কোম্পানি বহন করে থাকে।
📌আরো পড়ুন👉নরওয়ে যেতে কত টাকা লাগে 2026
অন্যদিকে, আপনি যদি কোনো এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে যান, তবে এই খরচ প্রায় ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। মনে রাখবেন, অন্যান্য খরচ ও ভিসার মূল্যের পরিবর্তনের উপর ভিত্তি করে এই মোট ব্যয় কম বা বেশি হতে পারে।
রোমানিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?
রোমানিয়াতে স্টুডেন্ট ভিসা পেতে হলে আপনাকে বাধ্যতামূলকভাবে সে দেশের কোনো একটি ইউনিভার্সিটি থেকে ভর্তির অনুমোদন নিশ্চিত করতে হবে। একবার অনুমোদন পাওয়ার পরই আপনি স্টুডেন্ট ভিসায় রোমানিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
যদি আপনি সরকারিভাবে স্টুডেন্ট ভিসা পান, তবে আপনার সর্বোচ্চ ৮০ থেকে ৯০ ইউরো খরচ হতে পারে। অন্যদিকে, বেসরকারিভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গেলে মোট খরচ প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
রোমানিয়ায় টুরিস্ট ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?
রোমানিয়াতে পর্যটকদের জন্য চোখ জুড়ানো বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। আপনি যদি কেবল ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রোমানিয়া যেতে চান, তাহলে আপনাকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক পর্যটক রোমানিয়া ভ্রমণে আগ্রহী হচ্ছেন।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রোমানিয়া ট্যুরিস্ট ভিসার মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মতো হতে পারে। তবে, আপনি যদি বেসরকারিভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তবে খরচ এই অঙ্কের চেয়েও বেশি হতে পারে।
রোমানিয়ায় ড্রাইভিং ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?
বর্তমানে রোমানিয়াতে ড্রাইভিং পেশাটি বেশ লাভজনক, যেখানে ভালো পরিমাণে অর্থ উপার্জনের সুযোগ রয়েছে। এই কারণেই অনেক বাঙালি এবং অন্যান্য দেশের প্রবাসীরা, যাদের ড্রাইভিং দক্ষতা আছে, তারা রোমানিয়ার দিকে ঝুঁকছেন। কারণ এখানে ড্রাইভিং করে ভালো মানের বেতন পাওয়া সম্ভব।
ড্রাইভিং কাজের উদ্দেশ্যে রোমানিয়া যেতে চাইলে আপনাকে ড্রাইভিং ভিসা নিতে হবে। ড্রাইভিং ভিসাসহ রোমানিয়া যেতে আপনার সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
রোমানিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?
রোমানিয়াতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিতে হবে। বর্তমানে রোমানিয়াতে বিভিন্ন ধরনের কাজের জন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে এবং এখানে শ্রমিকদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো।
বর্তমানে, আপনি যদি সরকারিভাবে ওয়ার্ক পারমিট ভিসাসহ রোমানিয়া যান, তবে আপনার সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে। তবে, বেসরকারিভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলে খরচ ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা অথবা তার থেকেও বেশি হতে পারে।
সরকারিভাবে রোমানিয়া যাওয়ার উপায় ২০২৬
অনেক বাংলাদেশি প্রতি বছরই কাজের সন্ধানে রোমানিয়ার পথে পাড়ি জমান। সুখের বিষয় হলো, সরকারি প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক কম খরচে সেখানে যাওয়া সম্ভব। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোমানিয়ান নিয়োগকারী কোম্পানি কর্মীর প্রয়োজনীয় খরচ বহন করে থাকে।
বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগের জন্য রোমানিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি সাধারণত বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ হয়। সরকারিভাবে রোমানিয়া যেতে আগ্রহীদের তাই নিয়মিত বোয়েসেলের ওয়েবসাইট অনুসরণ করা উচিত।
বোয়েসেল তাদের অফিসিয়াল সার্কুলারের মাধ্যমে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করে। সার্কুলার প্রকাশিত হলে আগ্রহী প্রার্থীরা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করেন এবং পরবর্তীতে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়।
সাক্ষাৎকারে নির্বাচিত প্রার্থীদের তখন ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দক্ষতার প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। সাক্ষাৎকারে সফল হওয়া এবং রোমানিয়ার দূতাবাস থেকে ভিসার অনুমোদন মিললেই কেবল চূড়ান্তভাবে রোমানিয়ায় কাজের জন্য যাওয়া সম্ভব হয়।
রোমানিয়া যেতে কি কি লাগে?
রোমানিয়ায় বিভিন্ন উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। তবে, ভিসার ক্যাটাগরিভেদে কিছু নির্দিষ্ট কাগজপত্র প্রয়োজন হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে একই ধরনের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়।

এটি মনে রাখা অত্যন্ত জরুরি যে, সঠিক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। এমনকি, সঠিকভাবে আবেদনপত্র জমা না দিলে ভিসা অনুমোদনের সম্ভাবনাও কমে যায়।
তাই রোমানিয়া যেতে কী কী কাগজপত্র লাগবে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ গ্রহণ করলে আপনার ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও ত্রুটিমুক্ত হতে পারে। সাধারণত রোমানিয়া ভিসার জন্য যে সমস্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়:
📌আরো পড়ুন👉ওমান যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে
- বৈধ পাসপোর্ট
- পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফর্ম
- কাজের দক্ষতার সার্টিফিকেট
- কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ
- ইংরেজি ভাষার দক্ষতার সার্টিফিকেট (আবশ্যিক নয়)
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- মেডিকেল রিপোর্ট সার্টিফিকেট
- জাতীয় পরিচয়পত্র
- পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট
- রোমানিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অফার লেটার
- ভ্রমণ বীমা (টুরিস্ট ভিসার জন্য)
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট)
- ভ্রমণের উদ্দেশ্যের প্রমাণ (টুরিস্ট ভিসার জন্য)
- অন্যান্য সহায়ক কাগজপত্র
রোমানিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি
রোমানিয়ায় বর্তমানে বিভিন্ন শিল্প ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিপুল সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন। দেশের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কারণে নির্মাণ খাত সবচেয়ে বেশি চাহিদা সৃষ্টি করেছে, যেখানে কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, রাজমিস্ত্রী, টাইলস শ্রমিক, প্লাম্বার ও ইলেকট্রিশিয়ানদের কদর সবচেয়ে বেশি। এই দক্ষ শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে ভালো পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন।
এছাড়াও, উৎপাদনশীল শিল্পেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মীর দরকার, যেমন: কারখানার শ্রমিক, ওয়েল্ডার, মেকানিক্যাল টেকনিশিয়ান ও অপারেটরগণ। রোমানিয়ার পরিবহন ও সরবরাহ (লজিস্টিকস) ব্যবস্থার উন্নতির কারণে ট্রাক ও বাস ড্রাইভার, ডেলিভারি ম্যান ও ওয়্যারহাউজ কর্মীদের চাহিদাও বেশ চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে, পর্যটন কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে হোটেল কর্মী, হাউসকিপার, রিসেপশনিস্ট, বাবুর্চি এবং ওয়েটারদেরও ভালো চাহিদা রয়েছে। কৃষিখাতেও প্রচুর সংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন, বিশেষ করে ফল ও শাকসবজি চাষ, ফার্ম শ্রমিক ও পশুপালন সংক্রান্ত কাজে, যা প্রায়শই মৌসুমি ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়।
রোমানিয়া যেতে কত বয়স লাগে
রোমানিয়ায় যাওয়ার জন্য সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। তবে, আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করেন, সেক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২১ বছরের মধ্যে থাকলে তা কিছুটা সুবিধা দিতে পারে। অন্যদিকে, চিকিৎসা, ভ্রমণ বা অন্যান্য ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণত বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয় না।
তবে, অপ্রাপ্তবয়স্কদেরক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। অপ্রাপ্তবয়স্করা যদি অভিভাবকের সাথে ভ্রমণ করে, তবে তাদের জন্ম সনদের অনুবাদ এবং একটি নোটারাইজড অনুমতিপত্র প্রয়োজন হবে।
অভিভাবক ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্করা একা ভ্রমণ করলে নোটারাইজড অনুমতিপত্রের পাশাপাশি অবশ্যই অভিভাবকের যোগাযোগের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।
লেখকের শেষ মতামত
রোমানিয়াতে ২০২৬ সালের সম্ভাব্য বেতন কাঠামো এবং ভিসা খরচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর এটা স্পষ্ট যে, অর্থনৈতিকভাবে উন্নত জীবনের হাতছানি থাকলেও সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি বেশ চ্যালেঞ্জিং। মনে রাখবেন, উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা নির্ভর করে আপনার দক্ষতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভাষাগত জ্ঞানের ওপর।
ভিসা খরচ বা বেতন যাই হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক তথ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। রোমানিয়া যেতে চাইলে আজই আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গোছানোর কাজ শুরু করুন। আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সফল হোক!