রাইস কুকার প্রাইস: সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের জীবনযাত্রায় এসেছে আমূল পরিবর্তন, যার প্রভাব পড়েছে আমাদের রান্নাঘরেও। এখনকার ব্যস্ত জীবনে রান্নার পেছনে ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যয় করার সময় আমাদের হাতে খুব কম। আর এই সমস্যার সবচাইতে সহজ সমাধান হলো একটি ভালো মানের রাইস কুকার।

শুধু ভাত রান্না নয়, স্টিমিং থেকে শুরু করে খিচুড়ি কিংবা সবজি সেদ্ধ সবই এখন হচ্ছে এক তুড়িতে। কিন্তু বাজারে এত এত ব্র্যান্ড আর মডেলের ভিড়ে সঠিক রাইস কুকারটি বেছে নেওয়া বেশ কঠিন।
আজকের পোষ্টে আমরা আপনাদের জানাব ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বাজারে সেরা ৪টি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের রাইস কুকারের দাম যা আপনাকে আপনার বাজেট অনুযায়ী সেরা পণ্যটি খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।
রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে রাইস কুকারের দাম সাধারণত ব্র্যান্ড, আকার, ধারণক্ষমতা এবং আধুনিক ফিচারের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে একটি রাইস কুকার সর্বনিম্ন ১২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি দামেও পাওয়া যেতে পারে।
সাধারণত নামী ব্র্যান্ডের রাইস কুকারগুলোর দাম কিছুটা বেশি হয়, কারণ এগুলোর স্থায়িত্ব এবং রান্নার মান সব দিক থেকেই উন্নত থাকে।
আপনার বাজেট যদি ভালো হয়, তবে আপনি আধুনিক সব ফিচারযুক্ত প্রিমিয়াম মানের রাইস কুকার বেছে নিতে পারেন। আর বাজেট যদি কিছুটা কম থাকে, তবে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের সাধারণ মডেলগুলোও নিতে পারবেন।
ভিশন রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ভিশন রাইস কুকারের দাম সাধারণত এর ধারণক্ষমতা বা লিটার এবং বিভিন্ন মডেলের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।

বর্তমানে বাজারে ভিশন ব্র্যান্ডের রাইস কুকারগুলো সর্বনিম্ন ২,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪,২০০ টাকা পর্যন্ত দামে পাওয়া যাচ্ছে। আপনার সুবিধার জন্য নিচে ভিশন রাইস কুকারের বর্তমান বাজারদরের একটি বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরা হলো।
📌আরো পড়ুন👉ভিশন ইলেকট্রিক চুলা দাম কত ২০২৬
- Vision Rice Cooker 1.8L REL-40-06 SS Red এর দাম ২,৫৪১ টাকা
- Vision Rice Cooker 1.8L -40-06 SS Blue এর দাম ২,৫৪১ টাকা
- Vision Rice Cooker 1.8L REL-40-06 SS-Coffee এর দাম ২,৯৯০ টাকা
- Vision Rice Cooker 2.8L REL-Prime Red এর দাম ৩,১৯০ টাকা
- Vision Rice Cooker 3.0L 100 SS Red এর দাম ৩,১৯০ টাকা
- Vision Stainless Steel Rice Cooker 50-05 3.0L এর দাম ৩,১১৯ টাকা
- Vision Rice Cooker 3.0L REL-50-05 SS Blue এর দাম ৩,১১৯ টাকা
- Vision Rice Cooker 3.0L REL-50-05 SS Coffee এর দাম ৩,১১৯ টাকা
- Vision Stainless Steel Smart Rice Cooker 3.0L এর দাম ৪,২০৭ টাকা
ভিশন রাইস কুকার আপনি নিজের পছন্দমতো অনলাইন বা অফলাইন যেকোনো মাধ্যম থেকেই সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে কেনার সময় পণ্যের গুণগত মান এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে অবশ্যই এক বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি আছে কি না, তা ভালোভাবে দেখে নেওয়া জরুরি।
বাজারে বিভিন্ন বিক্রেতার কাছে দাম বা ফিচারে কিছুটা পার্থক্য থাকতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবকিছু খুঁটিয়ে দেখে এবং ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। এতে করে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় বাজেটের মধ্যে একটি সঠিক ও নির্ভরযোগ্য রাইস কুকার বেছে নিতে পারবেন।
ওয়ালটন রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে ওয়ালটন রাইস কুকারের দাম সাধারণত এর মডেল, ডিজাইন এবং ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। বর্তমানে বাজারে ওয়ালটনের বিভিন্ন মডেলের রাইস কুকারগুলো সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা বা তার বেশি দামে পাওয়া যাচ্ছে।

প্রতিটি রাইস কুকারের লিটার বা ধারণক্ষমতা অনুযায়ী দামের এই ভিন্নতা দেখা যায়। নিচে ওয়ালটন রাইস কুকারের মডেল ও ধারণক্ষমতা অনুযায়ী বর্তমান বাজারদরের একটি ধারণা দেওয়া হলো:
📌আরো পড়ুন👉ওয়ালটন ইলেকট্রিক চুলা দাম ২০২৬
- Walton Rice Cooker WRC-NEXUS 1.8L এর দাম ২,৯৯০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-Nexus-Deluxe 3.0L এর দাম ৩,৬৯৫ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-NEXUS 3.0L এর দাম ৩,৫৯০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-SGAE 1.8L এর দাম ২,৯২০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-SGAE 2.2L এর দাম ৩,৩২০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-SGAE 2.8L এর দাম ৩,৬৭০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-Star-Deluxe 3.0L এর দাম ৩,৭৯০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-GLORIA-DELUXE 2.2L এর দাম ৩,৪৯০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-CANDY 3.0L এর দাম ৫,৩৯০ টাকা
- Walton Rice Cooker WRC-PAPE 2.8L এর দাম ৪,৯৯০ টাকা
ওয়ালটন রাইস কুকার কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য বেশ চমৎকার কিছু বিক্রয়োত্তর সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। কোম্পানিটি তাদের প্রতিটি রাইস কুকারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বা পার্টসের ওপর ১ বছরের ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি নিশ্চয়তা দেয়।
এছাড়া কেনার পর প্রথম ৩ মাসের মধ্যে যদি রাইস কুকারে কোনো বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, তবে গ্রাহক সরাসরি রিপ্লেসমেন্ট বা পণ্য পরিবর্তনের সুবিধাও উপভোগ করতে পারবেন।
কিয়াম রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশের গৃহিণীদের পছন্দের তালিকায় কিয়াম রাইস কুকার একটি অতি পরিচিত নাম। বর্তমানে এই ব্র্যান্ডের রাইস কুকারগুলো মডেল এবং লিটার অনুযায়ী সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
আপনার বাজেট এবং পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী পছন্দমতো যেকোনোটি বেছে নিতে পারেন। নিচে বর্তমান বাজারের সেরা কিছু কিয়াম রাইস কুকারের দামের ধারণা দেওয়া হলো:
- Kiam Rice Cooker 1.8L SJB-602 এর দাম ২,৫৮০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 1.8L SFB-5702 এর দাম ২,৫০০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 1.5L SJBS-701 এর দাম ২,৩৯০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 1.8L SJBS-702 এর দাম ২,৫৮০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 2.8L SJBS-704 এর দাম ৩,১৪০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 2.8L DJB-204 এর দাম ২,৯৫০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 3.2L SFB-5705 এর দাম ৪,২৯৯ টাকা
- Kiam Rice Cooker 1.8L SJBS-802 এর দাম ২,৭৭০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 2.8L SJBS-804 এর দাম ৩,৩৯০ টাকা
- Kiam Rice Cooker 3.2L SJBS-8705 এর দাম ৫,২৫০ টাকা
কিয়াম রাইস কুকার গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এর উন্নত মানের নন-স্টিক কোটিং। রান্নার গুণগত মান এবং ভাতের ঝরঝরে ভাব বজায় রাখার ক্ষেত্রে কিয়াম একটি নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছে।
এছাড়া দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে কিয়াম তাদের প্রতিটি রাইস কুকারের সাথে এক বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি প্রদান করে থাকে। কেনার সময় এই ওয়ারেন্টি কার্ডটি সঠিকভাবে যাচাই করে এবং সংগ্রহ করে নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কোনো যান্ত্রিক সমস্যায় আপনি প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।
মিয়াকো রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে মিয়াকো ব্র্যান্ডের রাইস কুকারগুলো তাদের উন্নত মান এবং দীর্ঘস্থায়ী পারফরম্যান্সের জন্য গৃহিণীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। বর্তমানে বাজারে এই ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেলের রাইস কুকার পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলোর দাম মূলত ধারণক্ষমতা বা লিটার এবং ফিচারের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়।
সাধারণত ২৬০০ টাকা থেকে শুরু করে উন্নত ও বড় মডেলগুলোর দাম ৬৬০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। নিচে মিয়াকো রাইস কুকারের বর্তমান বাজারদরের একটি বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হলোঃ
📌আরো পড়ুন👉ভিশন ফ্রিজ ৮, ১০ ও ১২ সেফটি দাম কত ২০২৬
- Miyako Rice Cooker 1.2L MRC-512 YLD এর দাম ২,৬৬০ টাকা
- Miyako Rice Cooker 1.2L MCM-P2512 এর দাম ২,৮০০ টাকা
- Miyako Rice Cooker 2.8L ASL1280-KND এর দাম ৩,৭৮০ টাকা
- Miyako Rice Cooker 3.0L MRC-300-JPN এর দাম ৪,০৯৯ টাকা
- Miyako Rice Cooker 3.2L MRC-320-JPN এর দাম ৪,১৯৯ টাকা
- Miyako Rice Cooker 2.8L ASL-28-HC এর দাম ৫,০০০ টাকা
- Miyako Rice Cooker 6.0L EPC-A612 এর দাম ৬,৬৯৯ টাকা
মিনি রাইস কুকার প্রাইস ইন বাংলাদেশ
বাংলাদেশে মিনি রাইস কুকারের দাম সাধারণত এর ব্র্যান্ড, গুণগত মান এবং লিটার বা ধারণক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ১,০০০ টাকা থেকে ২,৫০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। যেহেতু এই রাইস কুকারগুলোর আকার ও ধারণক্ষমতা তুলনামূলক কম, তাই সাধারণ বড় রাইস কুকারের তুলনায় এগুলোর দামও বেশ সাশ্রয়ী হয়।
যারা ব্যাচেলর হিসেবে থাকেন অথবা ছোট পরিবারের জন্য খুব অল্প পরিমাণে রান্নার প্রয়োজন হয়, তাদের জন্য এই মিনি রাইস কুকারগুলো একটি চমৎকার পছন্দ। আপনি আপনার বাজেটের মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মিনি রাইস কুকার বাজারে পেয়ে যাবেন।
১.০ লিটার বা তার কম ধারণক্ষমতার এই কুকারগুলো ওজনে হালকা হওয়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করাও খুব সহজ। কম খরচে যারা দৈনন্দিন রান্নার ঝামেলা কমাতে চান, তারা নিজেদের পছন্দমতো ভালো মানের একটি মিনি রাইস কুকার অনায়াসেই বেছে নিতে পারেন।
ভালো রাইস কুকার চেনার উপায়
একটি ভালো মানের রাইস কুকার শুধুমাত্র দ্রুত ভাত রান্না করার জন্যই নয়, বরং রান্নার সময় বাঁচানো এবং খাবারের প্রয়োজনীয় পুষ্টিমান অটুট রাখার জন্যও অত্যন্ত জরুরি। একটি মানসম্মত রাইস কুকার চেনার বেশ কিছু কার্যকর উপায় রয়েছে যা কেনার আগে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
- স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি রাইস কুকারগুলো বেশ মানসম্মত এবং স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটা নিরাপদ, যা দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের নিশ্চয়তা দেয়।
- রান্নার সুবিধার জন্য নন-স্টিক কোটিংযুক্ত রাইস কুকার বাছাই করা ভালো; কারণ এতে ভাত পাত্রের নিচে লেগে যায় না এবং পরিষ্কার করাও খুব সহজ হয়।
- দ্রুত এবং নিখুঁত রান্নার জন্য ইন্ডাকশন হিটিং যুক্ত কুকার সেরা। এটি সবদিকে সমানভাবে তাপ ছড়িয়ে দেয়, ফলে চাল খুব তাড়াতাড়ি ও সুন্দরভাবে সেদ্ধ হয়।
- এমন রাইস কুকার নির্বাচন করা উচিত যা রান্নার পর অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভাপ আটকে রাখতে পারে এবং ভাত দীর্ঘ সময় গরম ও টাটকা রাখে।
- নিরাপত্তার জন্য অটোমেটিক সিস্টেম আছে এমন কুকার ভালো। এতে রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথেই মেশিনটি নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় বা ‘ওয়ার্ম মোডে’ চলে যায়।
- দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব এবং ভালো বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করতে সবসময় একটি পরিচিত ও ভালো মানের ব্র্যান্ডের রাইস কুকার বেছে নেওয়া জরুরি।
রাইস কুকার কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে আরও কিছু জরুরি বিষয় যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, আপনি যে মডেলটি পছন্দ করেছেন তাতে কত বছরের ওয়ারেন্টি সুবিধা রয়েছে, তা বিক্রেতার কাছ থেকে পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।
একটি দীর্ঘমেয়াদী ওয়ারেন্টি আপনার বিনিয়োগকে সুরক্ষিত রাখবে এবং যেকোনো যান্ত্রিক ত্রুটিতে নিশ্চিন্ত সেবা নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা কত, সে অনুযায়ী সঠিক আকার বা ক্যাপাসিটির রাইস কুকার নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট পরিবারের জন্য সাধারণত ১.৮ লিটারের কুকার যথেষ্ট হলেও বড় পরিবারের ক্ষেত্রে ২.৮ লিটার বা তার বেশি ধারণক্ষমতার কুকার প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক সাইজ বেছে নিলে রান্নার সময় যেমন সাশ্রয় হবে, তেমনি খাবারের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।
রাইস কুকার ব্যবহারের নিয়ম
শুধুমাত্র একটি ভালো মানের রাইস কুকার কিনলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না, বরং এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়মগুলো জানাও অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু এই যন্ত্রটি সম্পূর্ণ বিদ্যুতের সাহায্যে চলে, তাই সঠিক নিয়ম না মেনে ব্যবহার করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা যন্ত্রটির ক্ষতি হতে পারে।
📌আরো পড়ুন👉কোন ব্র্যান্ডের গ্যাসের চুলা সবচেয়ে ভালো
রাইস কুকার ব্যবহারের সঠিক নিয়মগুলো জেনে নিলে আপনি যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি আপনার শখের যন্ত্রটিও দীর্ঘকাল ভালো থাকবে।
সঠিক মাপে পানি ও চাল নিতে হবে
রাইস কুকারের সাথে চাল মাপার জন্য একটি নির্দিষ্ট কাপ দেওয়া থাকে, তাই আপনি যে পরিমাণ চাল রান্না করতে চান তা সেই কাপ দিয়েই মেপে নেওয়া উচিত। মেপে নেওয়া চালগুলো প্রথমে অন্য একটি পাত্রে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন।
এরপর চাল অনুযায়ী ঠিক কতটুকু পানি প্রয়োজন, তা বোঝার জন্য কুকারের ভেতরের পটে পানির লেভেলের কিছু চিহ্ন দেওয়া থাকে; সেই নির্দিষ্ট দাগ অনুযায়ী পানি দিয়ে রান্না শুরু করলে ভাতের মান একদম সঠিক হবে।
ভেতরে থাকা পটের বাইরের অংশ মোছা
রাইস কুকারের ইনার পটে চাল ও পানি দেওয়ার পর অনেক সময় পটের বাইরের অংশে পানি লেগে থাকতে পারে। তাই পাত্রটি কুকারের ভেতরে বসানোর আগে বাইরের অংশটি খুব ভালোভাবে শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা অত্যন্ত জরুরি।
যদি পটের বাইরে পানি লেগে থাকে, তবে তা সরাসরি হিটিং প্লেটের সংস্পর্শে এসে যন্ত্রটির বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
এছাড়া ভেজা অবস্থায় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিলে শর্ট সার্কিট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা আপনার নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই সবসময় নিশ্চিত হয়ে নিন যে ইনার পটের বাইরের দিকটি পুরোপুরি শুকনো আছে।
ইনার পাত্র সঠিকভাবে বসানো
ইনার পটটি রাইস কুকারের ভেতরে বসানোর পর সেটি সঠিকভাবে সেট হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পাত্রটি হালকাভাবে ডানে-বামে একটু ঘুরিয়ে বসিয়ে দেওয়া ভালো।
এভাবে ঘুরিয়ে দিলে পাত্রের নিচের অংশটি হিটিং প্লেটের সাথে খুব ভালোভাবে লেগে থাকে, যার ফলে রান্নার সময় সবদিকে সমানভাবে তাপ পৌঁছাতে পারে। সঠিক উপায়ে পাত্রটি বসানো হলে ভাতের মান যেমন ভালো হয়, তেমনি কুকারের স্থায়িত্বও বৃদ্ধি পায়।
সুইচ অন করা
রাইস কুকারের সুইচ অন করার আগে অবশ্যই ঢাকনাটি ভালোভাবে আটকে নিতে হবে। এরপর সুইচ অন করে দিলে রান্না শেষ হওয়ার সাথে সাথে যন্ত্রটি নিজে থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে রান্না শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই ঢাকনা না খুলে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করা ভালো। এতে করে ভাপের সাহায্যে ভাতগুলো সুন্দরভাবে ঝরঝরে হয় এবং পাত্রের নিচে লেগে যাওয়ার ভয় থাকে না।
সঠিক নিয়ম মেনে রাইস কুকার ব্যবহার করলে আপনার রান্না যেমন নিখুঁত হবে, তেমনি যন্ত্রটিও দীর্ঘদিন ভালো থাকবে।
লেখকের শেষকথা
পরিশেষে বলা যায়, একটি ভালো মানের রাইস কুকার কেবল আপনার রান্নার সময় বাঁচায় না, বরং আপনার জীবনযাত্রাকে করে তোলে আরও সহজ ও আধুনিক। বর্তমান বাজারে বাজেট এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ব্র্যান্ডের অসংখ্য অপশন রয়েছে।
আশা করি, আজকের পোষ্টে দেওয়া বাংলাদেশের বাজারে রাইস কুকারের আপডেট দাম আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। কেনার আগে অবশ্যই ওয়ারেন্টি পিরিয়ড এবং আপনার পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী লিটার বা সাইজ যাচাই করে নেবেন।
আমাদের এই পোস্টটি আপনার কেমন লেগেছে বা রাইস কুকার নিয়ে আপনার কোনো বিশেষ প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে আমাদের জানাতে পারেন। আপনার পছন্দের ব্র্যান্ড কোনটি? তা আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আমাদের সাথে থাকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ!