রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়: গর্ভাবস্থায় সহবাস কি নিরাপদআসসালামু আলাইকুম বন্ধুগণ। আপনার হয়তো রক্তস্বল্পতা কি রক্তস্বল্পতার কারণ লক্ষণ ও প্রতিকারের  উপায় সম্পর্কে করেছেন কিন্তু সঠিক তথ্য পান নাই। একজন গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতার কারণ লক্ষণ ও প্রতিকার রূপকার সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী।

রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়আপনি যদি আপনার মূল্যবান সময়ের কিছুটা সময় ব্যয় করে আমাদের সাথে শেষ পর্যন্ত থাকেন এবং মনোযোগ সহকারে আমাদের আর্টিকেলটি পড়ে নিন তাহলে আশা করি আপনি রক্তস্বল্পতা কি রক্তস্বল্পতার কারণ লক্ষণ ও প্রতিযোগিতার উপায় এবং রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে যথেষ্ট পরিমাণে ধারণা পাবেন এবং আপনি আপনার কাছের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করতে পারবেন।

ভূমিকা

রক্ত মানুষের শরীরের একটি মহামূল্যবান উপাদান। বিভিন্ন কারণে আমাদের শরীর রক্তস্বল্প দেখা দেয়। বিশেষ করে গর্ভ অবস্থায় গর্ভবতী মায়েরা এই সমস্যায় বেশি ভোগে থাকেন । একজন গর্ভবতী মা যদি রক্তস্বল্পতা কি ,রক্তস্বল্পতার কারণ ,লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানেন তাহলে তিনি হয়তোবা রক্ত সম্পদের হাত থেকে তৈরি হয় পাবেন। তাই আমাদের সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের উচিত গর্ভবতী মায়ের রক্তস্বল্পতা কি ,রক্তস্বল্পতার কারণ ,লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে অবহিত করা। এবং সেই সাথে রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানা।

রক্তস্বল্পতা কি

রক্ত মানব শরীরে একটি অপরিহার্য উপাদান। যেটি সঠিক পরিমাণে না থাকলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী রক্তে প্রয়োজনীয় পরিমাণ হিমোগ্লোবিন এর চেয়ে কম হিমোগ্লোবিন থাকার অবস্থাকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয় । প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা ১৫.৫ ±২.৫ গ্রাম / ১০০ মিলি এবং প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলাদের মহিলাদের রক্ত এর মাত্রা ১৪ ± ২.৫ গ্রাম / ১০০ মিলি।

রক্তস্বল্পতার স্বাভাবিক মাত্রা

ডব্লিউ এইচ ও অনুযায়ী স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের মাত্রা জি/ডি এল

বয়স

পরিমাণ

০.৬ – ৪ বছর

১১ জি/ডিএল

৫ – ১২ বছর

১১.৫ জি/ডিএল

১৩ – ১৫ বছর

১১ জি/ডিএল এর সমান বা উপরে

প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ

১৩.৮ – ১৭.২ জি/ডিএল

প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলা

১২.১ – ১৫.১ জি/ডিএল

গর্ভবতী মহিলা

১১জি/ডিএল এর সমান বা উপরে

রক্তস্বল্পতার কারণ

বহুত কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে এগুলোর মধ্যে প্রধান তিনটি কারণ নিয়ে আমরা এখন আলোচনা করব।

📌আরো পড়ুন👉 ১০ টি রোগ থেকে মুক্তির দোয়া

অস্থিমজ্জায় লোহিত কণিকা কম তৈরি হওয়া: বিভিন্ন কারণে আমাদের অস্থি মধ্যে লোহিত কণিকা তুলনামূলকভাবে কম তৈরি হয় সে ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। অস্তি মজায় লোহিত কণিকা কম তৈরি হওয়ার কারণ গুলো হল নিম্নরূপ

অস্থিমজ্জার স্বল্পতা:

  • আইরন ভিটামিন বি ১২ অথবা ফলিক এসিডের অভাব ফাস্ট ব্রেকেট মাসিক গর্ভধারণ সন্তান প্রসব দীর্ঘদিন রক্তক্ষরণ।
  • দীর্ঘস্থায়ী যে মানুষ সংক্রমণ থাইরয়েড গ্রন্থির অসুখ বা লিভারের অসুখ বিভিন্ন প্রকার ঔষধ সেবন কীটনাশক ঔষধের ব্যবহার গ্রঞ্জন রশ্মি বা তেজস্ক্রিয় রশির প্রভাব ইত্যাদি।

অতিরিক্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙ্গে যাওয়া:

অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় মাত্রা অতিরিক্ত পরিমাণে লোহিত রক্ত কণায় ভেঙ্গে যায় সে কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। রক্তস্বল্পতার কারণ গুলোর মধ্যে হল জন্মগতভাবে লোহিত করি কণিকাতে ত্রুটি যেমন থ্যালাসেমিয়া। থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ। এবং সকল রোগটি সাধারণত বাবা-মার কাছ থেকে বাচ্চার শরীরে আসে। মা কিংবা বাবা যে কোন একজনের শরীর হিমোগ্লোবিন তৈরিতে বাধার কোন অসুখ।

📌আরো পড়ুন👉 গর্ভাবস্থায় সহবাস কি নিরাপদ

হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাধারণত দুটি চেইন থাকে। যার মধ্যে বাচ্চার মধ্য একটি আসে বাবার কাছ থেকে এবং অপরটি আসে মায়ের কাছ থেকে। বাবা-মার মধ্যে যেকোনো একজন যদি এই থ্যালামিয়া রোগ আক্রান্ত থাকে মানে দুইটি দিনই যদি এ রোগে আক্রান্ত থাকে অথবা সে যদি ক্যারিয়ার হয় কিন্তু সে অসুস্থ নয় সেখান থেকে যদি বাচ্চা শরীরে অসুস্থ জিন চলে আসে সেটা বাবার কাছ থেকে অথবা মার কাছ থেকে যেখান থেকেই হোক না কেন তখন ওই থ্যালাসেমিয়া রোগটি হয়ে থাকে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে

অনেক সময় দেখা যায় যে বিভিন্ন কারণে মাত্র অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল।

  • সাময়িক্য দীর্ঘ স্থায়ী রক্তক্ষরণ যেমন আঘাত জনিত কারণ।
  • পেটটি কাল স্যার।
  • পাইলস।
  • বক্র কৃমির সংক্রমণ।
  • ঘন ঘন গর্ভধারণ ।
  • প্রসব মহিলাদের মাসিকের সময় অধিক রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।

রক্তস্বল্পতা লক্ষণ

রক্ত মানুষের শরীরে অপরিহার্য একটি উপাদান। এই উপাদানটি সাবেকের মাত্রা থেকে কমে গেলে আমরা সাধারণত বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকে। আপনার যদি নিম্নত সমস্যাগুলো শেষ করেন তাহলে বলবেন আপনি রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। আরে চলুন জেনে নিই রক্তের স্বল্পতার লক্ষণ।

  • দুর্বল দুর্বলতা অনুভব করা।
  • চোখে অন্ধকার বা ঝাপসা দেখা।
  • মাথা ঘোরা।
  • অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা।
  • কোন কাজ করতে ভালো না লাগা।
  • হাত পা ফুলে যাওয়া।
  • শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা হওয়া।

রক্তশূন্যতা প্রতিরোধের উপায়

রক্তের একটি নির্দিষ্ট মাত্রা থাকে। এই স্বাভাবিক মাত্রা থেকে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। অনেক ক্ষেত্রে এই রক্তস্বল্পতায় বিভিন্ন রোগের কারণ হিসেবে দেখা যায়। আবার এটা স্বতন্ত্র ভয়াবহ হতে পারে। সারা বিশ্বের প্রায় ৩০% মানুষ কত সাল বোতায় ভুগছে।

📌আরো পড়ুন👉 হার্ট দুর্বলের লক্ষণ ও প্রতিকার।

তাই আমাদেররক্তস্বল্পতা কি ,রক্তস্বল্পতার কারণ ,লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় জানা দরকার। সাধারণত আয়রন ও ভিটামিনের স্বল্পতার কারণে রক্তস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে একটু সচেতনভাবে দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় আয়রনের ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করে আমরা রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা পেতে পারে।

যে সকল খাবার রক্তস্বল্পতা দূর করে

এই রক্তস্বল্পতা আপনার আপনার বিভিন্ন ধরনের বিপদ থেকে আনতে পারে। আপনার যদি আপনি যদি এর আগে আক্রান্ত হন তাহলে আপনি পুষ্টিকর খাবারের দিকে মনোযোগ হন। রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হলে সাধারণত আয়রন ভিটামিন বি ও সি সমৃদ্ধ খাবার ও ফলমূল বেশি খেতে হয়।

জাম খাওয়া : জাম অত্যন্ত পরিচিত একটি ফল। গ্রামে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি থাকে। জাম খেলে জামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি শরীরের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে হেল্প করে।

পালং শাক: পালং শাক নামক সবুজ এর সবজিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। শীতকালীন খাদ্য তালিকায় আপনি এ পালংশাক রাখতে পারেন। পালংশাকে বেদমান আয়রন রক্তস্বল্পতা দূর করতে সহায়তা করে থাকে এছাড়া আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় আরো কিছু শাক যেমন কচু শাক সহ অন্যান্য শাকসবজি রাখতে পারেন যেগুলো আর সমৃদ্ধ বা আয়রনের ভালো উৎস।

রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

বেদানা: রক্তের মত লাল টকটকে ফল বেদনা। যেটা দেখলে মনে হয় রক্তে পরিপূর্ণ। বেদানাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ক্যালসিয়াম ও ফাইবার রয়েছে যা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। তাই আপনি যদি রক্তের স্বল্পতায় ভুগে থাকেন তাহলে আপনি প্রতিদিন একটা করে বেদনা খেতে পারেন।

📌আরো পড়ুন👉 রসুন খেলে কি বীর্য ঘন হয়

আপেল: আপেলন তো অন্তত সুমিষ্ট একটি পরিচিত ফল। আপেলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে যাটা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। এছাড়া আপনি রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার মিনারেল পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেটা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী উপাদান। তাই আপনি চাইলেই আপনি প্রতিদিন আপনার একটি আপেল রাখতে পারেন।

প্রাণিস খাদ্য: প্রাণিজ খাদ্যগুলো আয়রনের অন্যতম উৎস । এই প্রাণিস আয়রনের উৎস গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ডিম দুধ কলিজা ইত্যাদি। এই প্রাণিস আয়রনগুলো রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে। তাই আপনি যদি রক্তস্বল্পতায় বুকে থাকেন তাহলে প্রাণিস এই খাবারগুলো নিয়মিত খেতে পারেন।

মিষ্টি কুমড়া ও শিমের বিচি: আপনি হয়তোবা জেনে অবাক হবেন যে মিষ্টি কুমড়া ওসিমের বিচিতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে যেটা রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে। তাই আপনার রক্তের শরবতায় ভুগে থাকলে আপনি নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া অসীমের বিচি খেতে পারেন।

সামুদ্রিক মাছ: সামাজিক মাঝে বছর পরমাণু আয়রন পাওয়া যায় তাই রক্তস্বল্পত দূর করতে নিয়মিত সামুদ্রিক মাছ খাবার চেষ্টা করুন।

ড্রাই  ফুডস: আপনি কি জানেন কিসমিস কাজুবাদাম ও খেজুরের মত ড্রাই ফুডে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। তাই স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তস্বল্পতা থেকে বাঁচতে হিমোগ্লোবিন বাড়াতে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে নিয়মিত কিসমিস কাজুবাদাম ও খেজুর মাত্র খাওয়ার অভ্যাস করুন।

রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

রক্তস্বল্পতা দূর করার ঘরোয়া কিছু উপায় রয়েছে। যেগুলো আপনি যদি নিয়মিত ফলো করেন তাহলে রক্তস্বল্পতার মত এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নেই রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে।

লোহার পাত্রে রান্না করার উপকারিতা

আপনি হয়তো  এ কথাটি শুনে অবাক । হচ্ছেন কিন্তু এটি রক্তশূন্যতা কমানোর একটি সহজ কিন্তু কম পরিচিত ঘরোয়া কৌশল হলো লোহার পাত্রে রান্না করা আপনি হয়তো এই কথাটি জানেন না। আপনি যদি নিয়মিত লোহার কড়াই বা হাঁড়িতে রান্না করেন তাহলে আপনার খাবারের সাথে সামান্য প্রাকৃতিক আয়রন যুক্ত হয়। যেটি আপনার শরীর শরীর ধীরে ধীরে গ্রহণ করতে পারে। বিশেষ করে টমেটো, লেবু বা তেঁতুলের মতো হালকা টক উপাদান ব্যবহার করলে আয়রন খাবারে আরও ভালোভাবে মিশে যায় এবং হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সহায়তা করে।

ভেজানো কিশমিশ ও খেজুরের পানি পান

আপনি যদি রাতে পানিতে কিশমিশ ও খেজুর ভিজিয়ে রাখেন এবং সেই পানি সকালে খালি পেটে পান করতে পারেন তাহলে সেটি আপনার রক্তশূন্যতার জন্য উপকারী একটি ঘরোয়া টনিক হিসেবে কাজ করে। কিশমিশ ও খেজুরে প্রাকৃতিক আয়রন, গ্লুকোজ ও মিনারেল থাকে, যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং শরীরের দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ কমাতে ভূমিকা রাখে। তাই আপনি নিয়মিত এই জিনিসটি খেতে পারেন।

রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

কালো তিল ও গুড়ের নিয়মিত সঠিক ব্যবহার

আপনি হয়তো জেনে অবাক হবেন যে কালো তিল আয়রনের একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক উৎস এবং গুড় আয়রন শোষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আপনি যদি দুইটি একসাথে গ্রহণ করেন তবে আপনার শরীরে রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। সপ্তাহে কয়েকদিন অল্প পরিমাণ কালো তিল ও গুড় একসাথে খাওয়া রক্তস্বল্পতা দূর করতে কার্যকর হতে পারে।

📌আরো পড়ুন👉মলদোভা কাজের ভিসা (যোগ্যতা, কাগজপত্র ও আবেদন প্রক্রিয়া)

আমলকি ও মধুর সমন্বয়

রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য শুধু আয়রন গ্রহণ করলেই যথেষ্ট নয়, শরীরকে তা শোষণ করতেও সক্ষম হতে হয়। আমলকি ভিটামিন C-এর উৎকৃষ্ট উৎস, যা আয়রন শোষণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। আমলকি গুঁড়া ও খাঁটি মধু একসাথে খেলে রক্ত তৈরির প্রক্রিয়া সক্রিয় হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্তশূন্যতা কাটাতে সহায়তা করে।

ডালিম ও বিটের প্রাকৃতিক রস

আমরা সবাই জানি যে ডালিম ও বিটকে প্রাকৃতিকভাবে হিমোগ্লোবিন বাড়ানোর ফল হিসেবে ধরা হয়। এই দুইটি ফল একসাথে রস করে পান করলে শরীরে আয়রন, ফোলেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ হয়, যা আপনার শরীর লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা করে। আপনি যদি নিয়মিত এই রস পান করেন তাহলে আপনার শরীরের রক্তস্বল্পতার লক্ষণ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

কলা ও বাদামের পুষ্টিকর সংমিশ্রণ

রক্ত তৈরির জন্য শুধু আয়রন নয়, পর্যাপ্ত শক্তি ও প্রোটিনও প্রয়োজন। কলা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং বাদামে থাকা প্রোটিন ও মিনারেল রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে। আপনি যদি প্রতিদিন একটি কলা ও কয়েকটি ভেজানো বাদাম খান তবে আপনার শরীরের ক্লান্তি কমে এবং রক্তস্বল্পতা থেকে ধীরে ধীরে মুক্তি পাওয়া যায়।

খাবারের সময় চা ও কফি দূরে থাকুন

অনেকেই জানেন না যে চা ও কফিতে থাকা ট্যানিন আয়রন শোষণকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাধাগ্রস্ত করে। আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সাথে বা ঠিক পরে চা-কফি পান করলে শরীর প্রয়োজনীয় আয়রন গ্রহণ করতে পারে না। তাই খাবারের অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে চা-কফি পান করা রক্তশূন্যতা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

📌আরো পড়ুন👉 হার্টের সমস্যা বোঝার উপায়

পালং শাক সঠিকভাবে গ্রহণ করা

আপনি জেনে অবাক হবেন যে পালং শাকে আয়রন থাকলেও এতে অক্সালেট নামক উপাদান থাকে, যা আপনার শরীরের আয়রন শোষণ কমিয়ে দেয়। তাই আপনি শুধু পালং শাক খাওয়ার পরিবর্তে এর সাথে লেবু, টমেটো বা ভিটামিন C-সমৃদ্ধ কোনো খাবার যোগ করুন যেটি আপনার শরীরে বেশি পরিমাণ আয়রন গ্রহণ করতে সহায়তা করবেন এবং রক্তশূন্যতা দূর করার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়।

শারীরিক পরীক্ষা

আপনি যে সকল শারীরিক পরীক্ষা করে বুঝতে পারবেন আপনার রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া হয়েছে

  • এক নজর দেখলে দেখা যাবে রোগীর শরীর ফ্যাকাসে
  • যেমন মুখমণ্ডল ঠোঁট চোখ
  • চোখের পাতা
  • আঙ্গুলের অগ্রভাগ
  • জিহ্বা
  • পায়ে ফোলা থাকতে পারে
  • হাতের আঙ্গুল সাদা ও ফ্যাকাসে।

রক্ত পরীক্ষা

আপনার রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন কিনা সেটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আপনি আপনার শরীরের রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন। আপনি যদি রক্তস্বল্পতায় ভুগে থাকেন তাহলে আপনার রক্ত পরীক্ষা করলে আপনার শরীরের রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ১১ গ্রাম বা ৫৫ থেকে ৭৯% এর কম থাকবে।

চিকিৎসা

আপনি যদি রক্তের স্বল্পতার মত সমস্যায় ভুগে থাকেন । তাহলে আপনি দেরি না করে আপনার নিকটস্থ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এবং প্রাথমিক অবস্থায় এই ওষুধগুলো গ্রহণ করতে পারেন। ওষুধগুলো হল কোনসালফেট ৬০ মিলিগ্রাম আয়রন এবং ফলিক এসিড ০.২৫ মিলিগ্রাম। একটি বরে দিনে তিনবার খেতে হবে। গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা  রোদের জন্য একটি বড়ি দিনে দুই থেকে তিনবার।

রোগীদের জন্য উপদেশ

আপনি যদি রক্তস্বল্পতায় ভুগে থাকেন তাহলে আপনার জন্য উপদেশমূলক বার্তা গুলো হল। উত্তম শোষণের জন্য ঔষধ খালি পেটে হওয়ার এক ঘন্টা বা দুই ঘন্টা পরে খেতে হবে

  • আয়রন বডি খেলে পেটের গন্ডগোল সাথে বুক জ্বালা বমি বমি ভাব পেট ফাঁপা কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানা হতে পারে।
  • অস্বসিত আয়রনের কারণে পায়খানার রং কালো হয় এতে কোন ক্ষতি হয় না।
  • আয়রন জাতীয় খাবার যেমন সবুজ শাকসবজি কচু শাক সিমের বিচি ডাল ও অন্যান্য বিচি জাতীয় খাবার আটার
  • রুটি কলিজা এবং সব রকম স্বাভাবিক হওয়ার খাওয়ার খেতে হবে।
  • বাড়ির আশেপাশের ছোট বাগান করে শাকসবজি লাগানো এবং হাঁস মুরগি পোষার জন্য উৎসাহ দিতে হবে।
  • শাকসবজি ধুয়ে কেটে রান্না করতে হবে যাতে খাবারের ভিটামিন নষ্ট না হয়।
  • নির্দিষ্ট সময়ে রক্ত পরীক্ষার জন্য ক্লিনিকে যেতে হবে।

শেষ পাতা: রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে আমাদের এই আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়েন। তাহলে আশা করি আপনি  রক্তস্বল্পতা কি ,রক্তস্বল্পতার কারণ ,লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় এছাড়াও রক্তশূন্যতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তার ধারণা পেয়েছেন।  সে সাথে শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পর্কেও জানতে পেরেছেন। আমাদের এই আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লাগে তাহলে মন্তব্য করুন এবং আপনার বন্ধুকে রক্তস্বল্পতা কি ,রক্তস্বল্পতার কারণ ,লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানার জন্য শেয়ার করুন।

Sharing is Caring

Leave a Comment