২০-৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ১৫ টি ল্যাপটপ ২০২৬ (স্টুডেন্ট ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য): বর্তমান ডিজিটাল যুগে পড়াশোনা, ফ্রিল্যান্সিং কিংবা অফিশিয়াল কাজের জন্য একটি ল্যাপটপ থাকা অপরিহার্য। তবে সবার বাজেট সমান থাকে না। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী বা যারা নতুন ফ্রিল্যান্সিং শুরু করছেন, তাদের জন্য কম বাজেটের মধ্যে ভালো কনফিগারেশনের ল্যাপটপ খুঁজে বের করা বেশ কষ্টকর। ২০২৬ সালের বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি একেবারে নতুন কিছু এন্ট্রি-লেভেলের ল্যাপটপ পাবেন।
পাশাপাশি, এই বাজেটে সেকেন্ড হ্যান্ড বা রিফার্বিশড (Used/Refurbished) ল্যাপটপের বাজার অত্যন্ত জনপ্রিয়, যেখানে আপনি প্রিমিয়াম সিরিজের কোর আই-৫ (Core i5) বা কোর আই-৭ (Core i7) প্রসেসরের ল্যাপটপ পেয়ে যাবেন।
আজকের এই সম্পূর্ণ গাইডে আমরা ২০-৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ১৫ টি ল্যাপটপের একটি তালিকা তৈরি করেছি। এখানে নতুন এবং রিফার্বিশড—উভয় ধরনের ল্যাপটপই রাখা হয়েছে, যাতে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা সিদ্ধান্তটি নিতে পারেন।
২০-৩০ হাজার টাকার ল্যাপটপ কেনার আগে যা খেয়াল রাখবেন
ল্যাপটপ কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি, বিশেষ করে যখন আপনার বাজেট সীমাবদ্ধ:
-
প্রসেসর (Processor): এই বাজেটে নতুন ল্যাপটপে সাধারণত Intel Celeron, Pentium বা AMD Athlon প্রসেসর পাবেন। তবে রিফার্বিশড ল্যাপটপে Intel Core i5 (৭ম বা ৮ম জেনারেশন) অনায়াসেই পাওয়া সম্ভব, যা অনেক বেশি শক্তিশালী।
-
র্যাম (RAM): স্মুথ পারফরম্যান্সের জন্য ন্যূনতম ৪ জিবি র্যাম থাকা আবশ্যক। তবে ৮ জিবি র্যাম হলে মাল্টিটাস্কিং এবং ব্রাউজিং অনেক ফাস্ট হবে।
-
স্টোরেজ (Storage): আগের যুগের হার্ডডিস্ক (HDD) এড়িয়ে চলুন। অবশ্যই এসএসডি (SSD) যুক্ত ল্যাপটপ কিনবেন। ১২৮ জিবি বা ২৫৬ জিবি এসএসডি ল্যাপটপকে কয়েকগুণ দ্রুত করে তোলে।
-
ব্যাটারি ব্যাকআপ: নতুন ল্যাপটপে ৩-৪ ঘণ্টা ব্যাকআপ পাওয়া যায়। রিফার্বিশড ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই ব্যাটারি হেলথ চেক করে নেবেন, যেন অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যাকআপ থাকে।
-
ব্র্যান্ড ও বিল্ড কোয়ালিটি: দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্য আসুস, এইচপি, ডেল বা লেনোভো-এর মতো পরিচিত ব্র্যান্ড নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ।
একনজরে সেরা ১৫টি ল্যাপটপের তালিকা ও স্পেসিফিকেশন
| মডেল (Model) | প্রসেসর (Processor) | র্যাম ও স্টোরেজ | ধরন (Condition) | আনুমানিক দাম (BDT) |
| Lenovo IdeaPad 1 | Intel Celeron N4020 | 4GB RAM, 256GB SSD | নতুন | ২৮,০০০ – ৩০,০০০ ৳ |
| Chuwi HeroBook Pro | Intel Celeron N4020 | 8GB RAM, 256GB SSD | নতুন | ২৪,০০০ – ২৬,০০০ ৳ |
| ASUS VivoBook 15 | Intel Celeron N4500 | 4GB RAM, 256GB SSD | নতুন | ২৯,০০০ – ৩১,০০০ ৳ |
| HP 15s | Intel Celeron N4500 | 4GB RAM, 256GB SSD | নতুন | ৩০,০০০ – ৩২,০০০ ৳ |
| Walton Prelude N50 | Intel Pentium N5030 | 8GB RAM, 256GB SSD | নতুন | ২৭,০০০ – ২৯,০০০ ৳ |
| Acer Aspire 3 | Intel Celeron N4500 | 4GB RAM, 256GB SSD | নতুন | ২৮,৫০০ – ৩০,০০০ ৳ |
| Avita Essential 14 | Intel Celeron N4000 | 4GB RAM, 128GB SSD | নতুন | ২১,০০০ – ২৩,০০০ ৳ |
| HP EliteBook 840 G5 | Intel Core i5 (8th Gen) | 8GB RAM, 256GB SSD | রিফার্বিশড | ২৮,০০০ – ৩০,০০০ ৳ |
| Lenovo ThinkPad T480 | Intel Core i5 (8th Gen) | 8GB RAM, 256GB SSD | রিফার্বিশড | ২৮,০০০ – ৩০,০০০ ৳ |
| Dell Latitude 7490 | Intel Core i5 (8th Gen) | 8GB RAM, 256GB SSD | রিফার্বিশড | ২৭,০০০ – ২৯,০০০ ৳ |
| HP ProBook 450 G5 | Intel Core i5 (8th Gen) | 8GB RAM, 256GB SSD | রিফার্বিশড | ২৬,০০০ – ২৮,০০০ ৳ |
| Dell Latitude 5490 | Intel Core i5 (8th Gen) | 8GB RAM, 256GB SSD | রিফার্বিশড | ২৬,৫০০ – ২৮,৫০০ ৳ |
| Lenovo ThinkPad X280 | Intel Core i5 (8th Gen) | 8GB RAM, 256GB SSD | রিফার্বিশড | ২৫,০০০ – ২৭,০০০ ৳ |
| HP EliteBook 840 G4 | Intel Core i5 (7th Gen) | 8GB RAM, 256GB SSD | রিফার্বিশড | ২২,০০০ – ২৪,০০০ ৳ |
| MacBook Air 2015 | Intel Core i5 | 4GB/8GB RAM, 128GB SSD | রিফার্বিশড | ২৪,০০০ – ২৭,০০০ ৳ |
বিস্তারিত রিভিউ: ২০-৩০ হাজার টাকার সেরা নতুন ল্যাপটপ সমূহ
বাজেটের মধ্যে যারা প্যাক ইনট্যাক্ট এবং ওয়ারেন্টি সহ একদম নতুন ল্যাপটপ খুঁজছেন, তাদের জন্য নিচে সেরা কিছু অপশন তুলে ধরা হলো:
Lenovo IdeaPad 1
লেনোভো আইডিয়াপ্যাড সিরিজের এই ল্যাপটপটি স্টুডেন্টদের জন্য অন্যতম সেরা একটি পছন্দ। এটি ওজনে বেশ হালকা এবং এর ডিজাইন খুবই প্রফেশনাল। মাইক্রোসফট অফিস, ওয়েব ব্রাউজিং এবং ইউটিউব ভিডিও দেখার জন্য এটি দারুণ পারফর্ম করে।
-
প্রসেসর: Intel Celeron N4020
-
র্যাম: 4GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB PCIe NVMe SSD
-
ডিসপ্লে: 15.6-inch HD
-
সুবিধা: দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, হালকা ওজন, এবং ফাস্ট স্টোরেজ।
-
অসুবিধা: ভারী গেমিং বা ভিডিও এডিটিং করা যাবে না।
Chuwi HeroBook Pro
চাইনিজ ব্র্যান্ড হলেও বাজেটের মধ্যে অবিশ্বাস্য স্পেসিফিকেশন দিচ্ছে চুই হিরোবুক প্রো। যারা কম দামে বেশি র্যাম খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ বিকল্প। এর ডিসপ্লে কোয়ালিটিও বেশ ভালো এবং ডিজাইন ম্যাকবুকের মতো স্লিম।
-
প্রসেসর: Intel Celeron N4020
-
র্যাম: 8GB LPDDR4
-
স্টোরেজ: 256GB SSD
-
ডিসপ্লে: 14.1-inch FHD IPS
-
সুবিধা: ৮ জিবি র্যাম, ফুল এইচডি ডিসপ্লে, খুবই পাতলা ডিজাইন।
-
অসুবিধা: ব্র্যান্ড ভ্যালু কম, সার্ভিস সেন্টার সহজে পাওয়া যায় না।
ASUS VivoBook 15
আসুস তাদের কোয়ালিটি এবং টেকসই ল্যাপটপের জন্য পরিচিত। ভিভোবুক ১৫ মডেলটি বেসিক ফ্রিল্যান্সিং কাজ, যেমন—ডাটা এন্ট্রি, আর্টিকেল রাইটিং এবং এসইও (SEO) এর কাজের জন্য খুবই মানানসই।
-
প্রসেসর: Intel Celeron N4500
-
র্যাম: 4GB DDR4 (আপগ্রেড করা যাবে)
-
স্টোরেজ: 256GB SSD
-
ডিসপ্লে: 15.6-inch HD
-
সুবিধা: মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি, আসুসের গ্লোবাল ওয়ারেন্টি, ভালো কীবোর্ড।
-
অসুবিধা: ডিসপ্লে প্যানেলটি ফুল এইচডি (FHD) নয়।
HP 15s
এইচপি ব্র্যান্ডের প্রতি যাদের আলাদা দুর্বলতা আছে, তাদের জন্য এই বাজেটে এইচপি ১৫এস হতে পারে চোখ বন্ধ করে নেওয়ার মতো একটি ল্যাপটপ। এর ব্যাটারি পারফরম্যান্স এবং স্পিকার কোয়ালিটি বেশ প্রশংসনীয়।
-
প্রসেসর: Intel Celeron Dual Core N4500
-
র্যাম: 4GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB SSD
-
ডিসপ্লে: 15.6-inch HD
-
সুবিধা: এইচপি-এর চমৎকার ডিজাইন, ভালো আফটার সেলস সার্ভিস, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি।
-
অসুবিধা: ভারী সফটওয়্যার চালাতে গেলে ল্যাগ করতে পারে।
Walton Prelude N50
দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটন বেশ কম দামে ভালো কনফিগারেশনের ল্যাপটপ বাজারে এনেছে। প্রিলিউড সিরিজের এই মডেলটিতে শক্তিশালী পেন্টিয়াম প্রসেসর এবং ৮ জিবি র্যাম দেওয়া হয়েছে, যা মাল্টিটাস্কিংকে সহজ করে তোলে।
-
প্রসেসর: Intel Pentium Silver N5030
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB M.2 SSD
-
ডিসপ্লে: 14-inch FHD IPS
-
সুবিধা: পেন্টিয়াম প্রসেসর তুলনামূলক ফাস্ট, দেশব্যাপী ওয়ারেন্টি সুবিধা, ফুল এইচডি ডিসপ্লে।
-
অসুবিধা: ল্যাপটপটি সামান্য ভারী হতে পারে, প্লাস্টিক বডি।
Acer Aspire 3
এসার এস্পায়ার ৩ ল্যাপটপটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। এর কুলিং সিস্টেম ভালো হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ কাজ করলেও খুব একটা গরম হয় না। অনলাইন ক্লাস বা মিটিংয়ের জন্য এর ওয়েবক্যাম বেশ ভালো সার্ভিস দেয়।
-
প্রসেসর: Intel Celeron N4500
-
র্যাম: 4GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB NVMe SSD
-
ডিসপ্লে: 15.6-inch HD
-
সুবিধা: দ্রুতগতির এসএসডি, টাইপিং এর জন্য ভালো কীবোর্ড, নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড।
-
অসুবিধা: বেজেল কিছুটা মোটা।
Avita Essential 14
যাদের বাজেট একেবারে ২০-২২ হাজারের মধ্যে, তারা আভিটা অ্যাসেনশিয়াল দেখতে পারেন। খুব সাধারণ কাজ যেমন—এমএস ওয়ার্ড, এক্সেল এবং ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের জন্য এটি একটি দারুণ এন্ট্রি-লেভেল ল্যাপটপ।
-
প্রসেসর: Intel Celeron N4000
-
র্যাম: 4GB LPDDR4
-
স্টোরেজ: 128GB SSD
-
ডিসপ্লে: 14-inch FHD
-
সুবিধা: অত্যন্ত কম দাম, ইউনিক ক্লথ-লাইক ডিজাইন, ফুল এইচডি স্ক্রিন।
-
অসুবিধা: স্টোরেজ খুবই কম (মাত্র ১২৮ জিবি), প্রসেসর কিছুটা পুরনো।
বিস্তারিত রিভিউ: সেরা রিফার্বিশড (Used) ল্যাপটপ সমূহ
২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বাজেটে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় রিফার্বিশড বা ইউজড ল্যাপটপগুলো। দুবাই বা ইউরোপ থেকে আসা এই ল্যাপটপগুলোর বিল্ড কোয়ালিটি অসাধারণ এবং পারফরম্যান্স নতুন এন্ট্রি-লেভেল ল্যাপটপের চেয়ে কয়েকগুণ ভালো। যারা গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা প্রোগ্রামিং করতে চান, তাদের জন্য এগুলো সেরা পছন্দ:
HP EliteBook 840 G5
বাংলাদেশের রিফার্বিশড মার্কেটের “রাজা” বলা যায় এইচপি এলিটবুক সিরিজের এই ল্যাপটপটিকে। এর অ্যালুমিনিয়াম মেটাল বডি, প্রিমিয়াম লুক এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এটিকে সব ফ্রিল্যান্সারদের প্রথম পছন্দে পরিণত করেছে।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 8th Generation
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB NVMe SSD
-
ডিসপ্লে: 14-inch FHD IPS
-
সুবিধা: মেটাল বডি, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, ব্যাকলিট কীবোর্ড, অত্যন্ত দ্রুতগতির পারফরম্যান্স।
-
অসুবিধা: সেকেন্ড হ্যান্ড হওয়ায় ভালো দোকান থেকে যাচাই করে কিনতে হবে।
Lenovo ThinkPad T480
যারা সারাদিন টাইপ করেন বা প্রোগ্রামিং করেন, তাদের জন্য থিংকপ্যাড টি৪৮০ এর কোনো বিকল্প নেই। এটি একটি মিলিটারি-গ্রেড সার্টিফাইড ল্যাপটপ, যা যেকোনো রাফ ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। এর কীবোর্ড বিশ্বের সেরা ল্যাপটপ কীবোর্ড হিসেবে পরিচিত।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 8th Gen
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB NVMe SSD
-
ডিসপ্লে: 14-inch FHD
-
সুবিধা: ডুয়াল ব্যাটারি সিস্টেম (দীর্ঘ ব্যাকআপ), অসাধারণ কীবোর্ড, অনেক মজবুত বিল্ড কোয়ালিটি।
-
অসুবিধা: ডিজাইন সাধারণ ল্যাপটপের মতো গ্ল্যামারাস নয়, একটু ক্লাসিক লুক।
Dell Latitude 7490
ডেল ল্যাটিটিউড সিরিজটি মূলত কর্পোরেট বা অফিশিয়াল কাজের জন্য তৈরি। এটি ওজনে বেশ হালকা এবং এর কার্বন ফাইবার ফিনিশ এটিকে একটি প্রিমিয়াম ফিল দেয়। ফ্রিল্যান্সিং এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য এটি অত্যন্ত স্মুথ।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 8th Gen
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB SSD
-
ডিসপ্লে: 14-inch FHD IPS
-
সুবিধা: দারুণ ডিসপ্লে কোয়ালিটি, হালকা ওজন, ভালো পোর্টের সুবিধা।
-
অসুবিধা: স্পিকারের সাউন্ড কিছুটা কম হতে পারে।
HP ProBook 450 G5
যারা বড় স্ক্রিনের ল্যাপটপ পছন্দ করেন, তাদের জন্য প্রোবুক ৪৫০ জি৫ সেরা একটি অপশন। ১৫.৬ ইঞ্চির বড় ডিসপ্লে এবং ডেডিকেটেড নাম্বার প্যাড থাকায় হিসাব-নিকাশ বা ডাটা এন্ট্রির কাজের জন্য এটি খুব সুবিধাজনক।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 8th Gen
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB M.2 SSD
-
ডিসপ্লে: 15.6-inch HD/FHD
-
সুবিধা: বড় স্ক্রিন, ফুল-সাইজ কীবোর্ড, মাল্টিটাস্কিংয়ে সেরা পারফরম্যান্স।
-
অসুবিধা: ওজনে বেশ ভারী, বহন করতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে।
Dell Latitude 5490
ডেলের আরেকটি জনপ্রিয় কর্পোরেট ল্যাপটপ হলো ৫৪৯০ মডেল। এটি ৭৪৯০ এর তুলনায় কিছুটা মোটা হলেও এর পারফরম্যান্স এবং থার্মাল কুলিং সিস্টেম অত্যন্ত চমৎকার। টানা ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করার জন্য এটি খুব ভালো।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 8th Gen
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB SSD
-
ডিসপ্লে: 14-inch Anti-Glare
-
সুবিধা: হেভি ডিউটি পারফরম্যান্স, সহজে পার্টস আপগ্রেড করা যায়, মজবুত বডি।
-
অসুবিধা: লুক তুলনামূলক ব্যাকডেটেড মনে হতে পারে।
Lenovo ThinkPad X280
যারা ট্রাভেল করেন বা সবসময় ল্যাপটপ ব্যাগে নিয়ে ঘোরেন, তাদের জন্য থিংকপ্যাড এক্স২৮০ দারুণ হবে। ১২.৫ ইঞ্চির ছোট স্ক্রিন হওয়ায় এটি অত্যন্ত কমপ্যাক্ট এবং সহজেই যেকোনো ছোট ব্যাগে এঁটে যায়।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 8th Gen
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB SSD
-
ডিসপ্লে: 12.5-inch HD/FHD
-
সুবিধা: আল্ট্রা-পোর্টেবল, দারুণ পারফরম্যান্স, ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট।
-
অসুবিধা: স্ক্রিন সাইজ ছোট হওয়ায় গ্রাফিক্সের কাজের জন্য মানানসই নয়।
HP EliteBook 840 G4
যাদের বাজেট একেবারে ২০ থেকে ২২ হাজারের মধ্যে এবং সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ খুঁজছেন, তাদের জন্য ৭ম প্রজন্মের কোর আই-৫ প্রসেসরের এই মডেলটি ভালো হবে। এটি জি৫ এর আগের ভার্সন হলেও পারফরম্যান্সে খুব একটা পিছিয়ে নেই।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 7th Gen
-
র্যাম: 8GB DDR4
-
স্টোরেজ: 256GB SSD
-
ডিসপ্লে: 14-inch FHD
-
সুবিধা: খুব কম দামে প্রিমিয়াম ল্যাপটপের ফিল, ডিভিডি ড্রাইভ বা ভালো পোর্টের অপশন।
-
অসুবিধা: প্রসেসর কিছুটা পুরোনো (৭ম প্রজন্ম), উইন্ডোজ ১১ অফিশিয়ালি সাপোর্ট করে না।
Apple MacBook Air 2015
যারা অ্যাপল ইকোসিস্টেমে প্রবেশ করতে চান কিন্তু বাজেট কম, তাদের জন্য ২০১৫ সালের ম্যাকবুক এয়ার একটি ভালো শখ পূরণের উপায় হতে পারে। যদিও মডেলটি পুরনো, তবুও ম্যাক ওএস (macOS) এর অপ্টিমাইজেশনের কারণে বেসিক কাজে এটি এখনো দারুণ।
-
প্রসেসর: Intel Core i5 (5th Gen)
-
র্যাম: 4GB বা 8GB DDR3
-
স্টোরেজ: 128GB Apple SSD
-
ডিসপ্লে: 13.3-inch LED
-
সুবিধা: অ্যাপল লোগো এবং প্রিমিয়াম লুক, চমৎকার ব্যাটারি ব্যাকআপ, স্মুথ ম্যাক ওএস।
-
অসুবিধা: প্রসেসর অনেক পুরনো, আধুনিক ভারী সফটওয়্যার চলবে না, পার্টস নষ্ট হলে সারানো বেশ ব্যয়বহুল।
ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এসইও এবং টেকনিক্যাল টিপস
-
সঠিক অপারেটিং সিস্টেম: নতুন ল্যাপটপগুলোর সাথে বেশিরভাগ সময় অরিজিনাল উইন্ডোজ ১০ বা ১১ (Windows 11 Home) দেওয়া থাকে। এটি আপনাকে ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাবে এবং সিকিউরিটি আপডেট পেতে সাহায্য করবে।

-
ওয়ারেন্টি যাচাই: নতুন ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই ২ বছরের অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি আছে কিনা চেক করে নেবেন। আর রিফার্বিশড ল্যাপটপের ক্ষেত্রে দোকানীরা সাধারণত ১৫ দিনের রিপ্লেসমেন্ট গ্যারান্টি এবং ১ বা ২ বছরের সার্ভিস ওয়ারেন্টি দিয়ে থাকেন, মেমোতে এটি ভালোভাবে লিখিয়ে নেবেন।
-
আপগ্রেডেশন স্লট: ল্যাপটপ কেনার সময় জেনে নেবেন ভবিষ্যতে র্যাম (RAM) বা স্টোরেজ (SSD/HDD) বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত স্লট ফাঁকা আছে কিনা। ভবিষ্যতে কাজের চাপ বাড়লে এটি খুব কাজে দেবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বাজেটে গেমিং ল্যাপটপ পাওয়া সম্ভব কি?
সত্যি বলতে, এই বাজেটে প্রফেশনাল গেমিং ল্যাপটপ পাওয়া সম্ভব নয়। নতুন ল্যাপটপগুলোতে ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স থাকে যা দিয়ে কেবল লুডু, ক্যান্ডি ক্রাশ বা খুব সাধারণ মানের পুরনো গেমস খেলা যায়। তবে রিফার্বিশড কোর আই-৫ (৮ম জেনারেশন) ল্যাপটপগুলোতে ফ্রি ফায়ার (Free Fire) বা মাইনক্রাফট (Minecraft) এর মতো গেম মাঝারি সেটিংসে খেলা সম্ভব।
২. ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য নতুন ল্যাপটপ কিনব নাকি রিফার্বিশড?
আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট বা এসইও এর মতো ভারী কাজ করতে চান, তবে নতুন ল্যাপটপের সেলেরন প্রসেসরের চেয়ে রিফার্বিশড ল্যাপটপের কোর আই-৫ প্রসেসর অনেক বেশি ভালো পারফর্ম করবে। তাই কাজের ধরন ভারী হলে ভালো কন্ডিশন দেখে রিফার্বিশড ল্যাপটপ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৩. ল্যাপটপের ব্যাটারি লাইফ কীভাবে বাড়ানো যায়?
ল্যাপটপের ব্যাটারি ভালো রাখার জন্য সবসময় চার্জে লাগিয়ে ল্যাপটপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। ব্যাটারি ২০% এ নেমে আসলে চার্জে দিন এবং ৮০-৯০% হলে খুলে ফেলুন। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ রাখলে এবং ব্রাইটনেস মাঝারি রাখলে ভালো ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
৪. রিফার্বিশড ল্যাপটপ কেনার সময় কোন জিনিসগুলো চেক করা উচিত?
রিফার্বিশড ল্যাপটপ কেনার সময় মূলত ৫টি জিনিস চেক করবেন—১) ব্যাটারি হেলথ কতক্ষণ থাকে, ২) কীবোর্ডের সবগুলো বাটন ঠিকমতো কাজ করছে কিনা (কীবোর্ড টেস্টার দিয়ে চেক করবেন), ৩) ডিসপ্লেতে কোনো দাগ বা ডেড পিক্সেল আছে কিনা, ৪) ওয়াইফাই এবং ব্লুটুথ সংযোগ ঠিক আছে কিনা এবং ৫) সবগুলো পোর্ট (USB, Type-C, HDMI) কাজ করছে কিনা।
৫. সেলেরন (Celeron) প্রসেসর দিয়ে কি কোডিং বা প্রোগ্রামিং করা যায়?
এইচটিএমএল (HTML), সিএসএস (CSS) বা বেসিক সি প্রোগ্রামিং (C Programming) এর মতো সাধারণ কোডিং সেলেরন প্রসেসরে করা সম্ভব। কিন্তু আপনি যদি পাইথন (Python), জাভা (Java) বা অ্যান্ড্রয়েড স্টুডিও (Android Studio) এর মতো ভারী সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করতে চান, তবে সেলেরন প্রসেসর অনেক ল্যাগ করবে। এর জন্য ন্যূনতম কোর আই-৩ বা আই-৫ প্রসেসর প্রয়োজন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
২০-৩০ হাজার টাকার মধ্যে সেরা ল্যাপটপ নির্বাচন করা সম্পূর্ণ আপনার ব্যক্তিগত ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি শুধুমাত্র ক্লাস করা, মুভি দেখা, গান শোনা এবং বেসিক এমএস ওয়ার্ডের কাজ করার জন্য ল্যাপটপ চান, তবে Lenovo IdeaPad 1 বা ASUS VivoBook 15 এর মতো নতুন ল্যাপটপগুলো নিতে পারেন। এগুলোতে আপনি সম্পূর্ণ শান্তি এবং ওয়ারেন্টির নিশ্চয়তা পাবেন।
অন্যদিকে, আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নিতে চান এবং মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য শক্তিশালী মেশিন খোঁজেন, তবে নিশ্চিন্তে HP EliteBook 840 G5 বা Lenovo ThinkPad T480 এর মতো ইউজড/রিফার্বিশড ল্যাপটপের দিকে যেতে পারেন। কেনার সময় একটু সময় নিয়ে ভালোভাবে হার্ডওয়্যার চেক করে নিলে এই বাজেটের মধ্যে এর চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স আর কোনো ডিভাইসে পাওয়া সম্ভব নয়।
আপনার জন্য কোন ল্যাপটপটি সবচেয়ে বেশি উপযুক্ত মনে হচ্ছে, তা আপনার কাজের ধরন এবং বাজেটের সাথে মিলিয়ে আজই সিদ্ধান্ত নিন!