জাপানের ভিসার দাম কত: পৃথিবীর অন্যতম টেকসই অর্থনীতি এবং উন্নত জীবনযাত্রার কারণে জাপান সব সময়ই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্য। অনেকে সেখানে পড়াশোনা, অনেকেবা উচ্চ বেতনের চাকরি নিয়ে স্থায়ী হতে চান। কিন্তু এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গেলে সবার আগে যে প্রশ্নগুলো মনে আসে তা হলো: ২০২৬ সালে জাপানের ভিসার খরচ কেমন হবে?

এবং বিশেষ করে, সেখানে গিয়ে একজন শ্রমিক বা কর্মজীবী সর্বনিম্ন কত বেতন পেতে পারেন? জাপানের কর্ম সংস্কৃতি এবং উচ্চ জীবনযাত্রার মান অবশ্যই প্রলুব্ধকর, কিন্তু সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ছাড়া এই যাত্রা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
এই ব্লগ পোস্টে আমরা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে জাপানে বিভিন্ন প্রকার ভিসার আপডেটেড খরচ এবং সেখানে সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো কেমন হতে পারে, সে সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। জাপান ভ্রমণের বা সেখানে কাজ করার পরিকল্পনা করার আগে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি জেনে নেওয়া আবশ্যক।
জাপানের ভিসার দাম কত ২০২৬
জাপান ভিসার মূল্য মূলত নির্ভর করে আপনি ঠিক কোন ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করছেন তার ওপর। আপনি যদি কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক ভিসায় জাপানে যেতে চান, তবে তার জন্য এক ধরনের খরচ হবে। এর বিপরীতে, শুধুমাত্র ভ্রমণের উদ্দেশ্যে টুরিস্ট ভিসায় জাপান যাওয়ার খরচ সাধারণত তুলনামূলকভাবে কম হয়।
📌আরো পড়ুন👉রোমানিয়া ভিসার দাম কত ২০২৬
এ ছাড়াও, যারা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে পড়ালেখা করতে বা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে জাপানে আসতে চান, তাদের জন্যও ভিসার খরচ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
সুতরাং, যখন আপনি জাপান ভিসা সংগ্রহ করার কথা ভাববেন, তখন সবার আগে আপনাকে আপনি কোন ধরনের ভিসা পেতে চান, সেটি নির্ধারণ করতে হবে। এরপর, সেই নির্দিষ্ট ভিসার জন্য কত টাকা খরচ হবে, সে সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত হয়ে আপনি আপনার পরিচিত কোনো এজেন্সি, দালাল অথবা চাইলে নিজেরাও ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
জাপান কাজের ভিসার দাম কত
আপনি যদি কাজের ভিসা (Work Visa) নিয়ে জাপানে আসতে চান, তাহলে সব মিলিয়ে আপনার আনুমানিক ৯ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
তবে, একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, যদি আপনি কোনো এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার মোট খরচ ১১ লাখ টাকা পর্যন্তও পৌঁছে যেতে পারে।
জাপান স্টুডেন্ট ভিসার দাম কত
আপনি যদি স্টুডেন্ট ভিসা বা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে চান, তবে এর জন্য আপনার মোট খরচ প্রায় ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে, কাজের ভিসার মতোই, যদি আপনি কোনো দালাল বা থার্ড পার্টির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তাহলে আপনার এই খরচ বেড়ে সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা পর্যন্তও হতে পারে।
জাপান টুরিস্ট ভিসার দাম কত
আপনি যদি শুধুমাত্র টুরিস্ট ভিসা নিয়ে জাপানে আসেন, তাহলে আপনার খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম পড়বে। আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে ভিসার জন্য আবেদন করেন, তবে আপনার আনুমানিক ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
তবে, যদি কোনো থার্ড পার্টি এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করেন, তাহলে এই খরচ বেড়ে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্তও হতে পারে।
জাপান ওয়ার্ক পারমিট ভিসার দাম কত
জাপানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য সাধারণত আনুমানিক ৭ লাখ টাকা খরচ হয়। যদি কোনো থার্ড পার্টি এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা হয়, তবে এই খরচ ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
জাপান জব ভিসার দাম কত
জব ভিসার জন্য সাধারণত প্রায় ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে, যদি দালাল বা অন্য কোনো থার্ড পার্টির মাধ্যমে আবেদন করা হয়, সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
জাপান যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬
জাপান ভ্রমণের মোট খরচ আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, ভিসার ধরন এবং আপনি কোনো এজেন্সির সাহায্য নিচ্ছেন কিনা তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। স্বাভাবিকভাবেই, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মসংস্থানের জন্য ভিসার খরচ আলাদা হয়। বাংলাদেশ থেকে জাপানে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের এই আর্থিক দিকটি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক।

বর্তমানে, বাংলাদেশ থেকে জাপানে যেতে আনুমানিক ১০ লাখ টাকা থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। মনে রাখা দরকার, সরকারিভাবে কাজের ভিসা নিয়ে গেলে সাধারণত খরচ কম হয়।
যেকোনো ভিসা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। যখন আপনি সরাসরি দূতাবাস বা অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে না গিয়ে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীর শরণাপন্ন হন, তখন আপনার মোট খরচ তুলনামূলকভাবে অনেকটাই বেড়ে যায়।
কারণ এই এজেন্সিগুলো তাদের পরিষেবা এবং প্রক্রিয়াগত সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ফি বা সার্ভিস চার্জ নিয়ে থাকে। তাই, এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ করালে, প্রকৃত সরকারি ফি বা সার্ভিস চার্জের বাইরেও আপনাকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।
জাপানে বিভিন্ন ধরনের ভিসার জন্য খরচের তারতম্য রয়েছে। নিচে প্রতিটি ভিসার আনুমানিক ব্যয়ের একটি বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
- টুরিস্ট বা ভিজিট ভিসা: এই ধরনের ভিসায় জাপানে যেতে চাইলে সাধারণত ভিসা প্রসেসিং, বিমানের টিকিট এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক যাতায়াত খরচ মিলিয়ে আপনার ৫ লক্ষ টাকা থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
- ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: যদি কোনো এজেন্সির মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিট সংগ্রহ করা হয়, তবে পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিট এবং সমস্ত যাতায়াত খরচসহ এর জন্য ব্যয়ের পরিমাণ হতে পারে ৭ লক্ষ টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
- স্টুডেন্ট ভিসা: জাপান স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে। কারণ এক্ষেত্রে টিউশন ফি এবং অন্যান্য বিভিন্ন খাতে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। একটি আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, এই ভিসার জন্য খরচ ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
- শ্রমিক ভিসা: শ্রমিক ভিসার মাধ্যমে জাপানে বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। এই শ্রমিক ভিসা সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ সাধারণত ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
জাপানে বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন কত?
উন্নত প্রযুক্তির দেশ জাপানে বর্তমানে বিভিন্ন সেক্টরে বহু বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে প্রবাসীদের বেতনের ক্ষেত্রে কিছু বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়, তবুও তাদের আয়ের পরিমাণ বেশ সন্তোষজনক।
বর্তমানে জাপানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মাসিক বেতন সাধারণত ২ লাখ টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর সঙ্গে যদি ওভারটাইম কাজ করা হয়, তবে আয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। সবমিলিয়ে, বাঙালি প্রবাসীরা এই উন্নত দেশটিতে প্রতি মাসে খুব সহজেই লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পারেন।
জাপানে সর্বনিম্ন বেতন কত
জাপান, বিশ্বের অন্যতম উন্নত এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একটি। এই দেশে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজের জন্য একটি সর্বনিম্ন মজুরি প্রতি ঘণ্টা হিসাবে নির্ধারণ করা আছে। তবে, এই বেতন সব অঞ্চলে একরকম নয়; বরং এটি জাপানের বিভিন্ন প্রিফেকচার বা অঞ্চলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
📌আরো পড়ুন👉রোমানিয়া সর্বনিম্ন বেতন কত ২০২৬
বর্তমানে জাপানে কাজের সর্বনিম্ন মজুরি প্রতি ঘণ্টায় ১০৫৫ ইয়েন ধার্য করা হয়েছে। লক্ষ্যণীয় যে, জাপানের রাজধানী টোকিওতে এই সর্বনিম্ন বেতন সাধারণত দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। এর বিপরীতে, তোত্তরি-এর মতো অপেক্ষাকৃত গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে মজুরির হার টোকিওর তুলনায় কম হয়ে থাকে।
শ্রমিকদের কর্মজীবনের দিক থেকে এই দেশে সপ্তাহে ছয় দিন কর্ম দিবস নির্ধারিত। এছাড়া, তারা সর্বোচ্চ সপ্তাহে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় বা ওভারটাইম কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশ থেকে যারা জাপানে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য জাপানের এই সর্বনিম্ন মজুরির হার এবং শ্রম আইন সম্পর্কে অবগত থাকা অত্যন্ত জরুরি।
জাপানে কোন কাজের বেতন বেশি?
জাপান বিশ্বের অন্যতম একটি উন্নত রাষ্ট্র হলেও, বর্তমানে দেশটি এক গুরুতর কর্মী সংকটের সম্মুখীন। এর প্রধান কারণ হলো জনসংখ্যার ক্রমহ্রাস এবং দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি। এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে, জাপান সরকার বর্তমানে প্রচুর সংখ্যক বিদেশি শ্রমিকের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
প্রবাসীদের জন্য জাপানে এমন কিছু কাজের ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যায়। এই অধিক বেতনের চাকরিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, বিভিন্ন ফ্যাক্টরির শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, এবং ড্রাইভিং ও ফুড ডেলিভারি সার্ভিস ইত্যাদি। এই ক্ষেত্রগুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার ফলে বিদেশি কর্মীরা জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশ করে দেশের এই সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করছেন।
সরকারিভাবে জাপান যাওয়ার উপায় ২০২৬
জাপানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে যেতে ইচ্ছুক আগ্রহীদের জন্য সরকারিভাবে আবেদনের একটি সুযোগ রয়েছে। এই আবেদন প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করে বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET)। এই প্রক্রিয়ার মূল সুবিধা হলো, এটি সম্পূর্ণরূপে দালালমুক্ত এবং নিরাপদ, যা বিদেশ গমনে আগ্রহীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পথ সুগম করে।

বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত ব্যুরো অফ ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (BMET) এর মাধ্যমে জাপানে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং নিরাপদ। আগ্রহীরা ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বৈধ উপায়ে জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেতে পারেন।
আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত ধাপসমূহ:
১. BMET ওয়েবসাইটে নিবন্ধন
জাপানে কাজ করতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে BMET-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এই নিবন্ধনটিই মূলত সরকারি প্রক্রিয়ায় আবেদনের সূচনা।
২. আবেদন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা
ওয়েবসাইটে সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর, আবেদনকারীদেরকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত আবেদন ফি জমা দিতে হয়। ফি পরিশোধের পর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র স্ক্যান করে সতর্কতার সাথে অনলাইনে আপলোড করতে হয়।
৩. চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং আবেদন
নিবন্ধিত থাকার ফলে, যখন জাপানের কোনো নিয়োগকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তখন প্রার্থীরা সেই তথ্যগুলো দেখতে পান। আগ্রহীরা তখন তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সেই নির্দিষ্ট পদের জন্য অনলাইনে অথবা কখনো কখনো সরাসরি (অফলাইনে) আবেদন করতে পারেন।
৪. দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই (পরীক্ষা)
আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করার জন্য একটি দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। এই পরীক্ষায় সাধারণত লিখিত ও মৌখিক উভয় ধরনের যাচাই অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে প্রার্থীর পেশাগত দক্ষতা এবং জাপানের কাজের পরিবেশের জন্য তার উপযুক্ততা নিশ্চিত করা হয়।
৫. বিশেষ প্রশিক্ষণ পর্ব
দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হন এবং জাপানের চাকরির জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন, তাদেরকে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এই প্রশিক্ষণ জাপানি ভাষা, সংস্কৃতি এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করে, যা বিদেশে কাজে যাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৬. চূড়ান্ত প্রস্তুতি ও যাত্রা
প্রশিক্ষণ পর্বটি সফলভাবে শেষ করার পর, BMET কর্তৃপক্ষ জাপান যাওয়ার জন্য নির্বাচিত কর্মীদের চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এই ধাপে ভিসা সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং নিরাপদে জাপানে কর্মস্থলে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একজন কর্মী সরকারি উপায়ে এবং সুরক্ষিতভাবে জাপান ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে বৈধ কর্মসংস্থানের জন্য যাত্রা করতে পারেন।
জাপান যাওয়ার সহজ উপায়
জাপান বর্তমানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী এবং পর্যটকদের কাছে এক আকাঙ্ক্ষিত এবং জনপ্রিয় গন্তব্য। প্রথমদিকে জাপানে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া কিছুটা জটিল মনে হতে পারে, তবে যদি সঠিক তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তবে এই পথটি সহজ হয়ে আসে।
📌আরো পড়ুন👉সুইজারল্যান্ড ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়ার উপায়
বাংলাদেশ থেকে জাপানে যাওয়ার যতগুলি উপায় রয়েছে, তার মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তুলনামূলকভাবে সহজ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। জাপান সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে উচ্চশিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ প্রোগ্রাম চালু রেখেছে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে, কোনো আগ্রহী শিক্ষার্থী যখন জাপানের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার ভর্তি নিশ্চিত করতে পারে, কেবল তখনই সে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করার সুযোগ পায়। অর্থাৎ, জাপানি কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে ভর্তির নিশ্চয়তা বা ‘অফার লেটার’ পাওয়াই হলো স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি।
স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়াও, জাপান বর্তমানে দক্ষ এবং সাধারণ কর্মীদের জন্য কাজের ভিসার (ওয়ার্ক ভিসা) সুযোগ উন্মুক্ত করেছে। এই পথে জাপানে যেতে হলে আগ্রহীদেরকে অবশ্যই প্রথমে একটি জাপানি কোম্পানি বা রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে চাকরির অফার নিশ্চিত করতে হবে। চাকরির চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর, সাধারণত সেই নিয়োগকারী কোম্পানিই ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে থাকে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যেকোনো ভিসাতেই—হোক তা স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা ওয়ার্ক ভিসা—জাপানে যেতে চাইলে আগ্রহীদের জন্য জাপানিজ ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা আবশ্যক। প্রয়োজনীয় ভাষা দক্ষতা না থাকলে স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক ভিসা নিয়ে জাপানে প্রবেশ করা সম্ভব হবে না।
অতএব, যদি কোনো প্রার্থীর জাপানে যাওয়ার মতো যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করা থাকে, তবে তিনি প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র সংগ্রহ করে নিজের উদ্যোগেই ভিসা প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরু করতে পারেন।
জাপানে যেতে কি কি লাগে?
জাপানের ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে আবেদনকারীকে কিছু অপরিহার্য নথিপত্র বা কাগজপত্র প্রস্তুত করে জমা দিতে হয়। এই কাগজপত্রগুলি সুশৃঙ্খলভাবে তৈরি করা আবশ্যক, যা নিম্নরূপ:
- পাসপোর্ট
- ভোটার আইডি কার্ড
- জাপান ভাষা দক্ষতার সার্টিফিকেট
- জীবন বৃত্তান্ত
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ফটোগ্রাফ
- মেডিকেল রিপোর্ট সার্টিফিকেট
- পুলিশ ক্লিয়ারেন্স
- ন্যূনতম উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি (পুরুষদের)
- একাডেমিক সার্টিফিকেট (কমপক্ষে এসএসসি পাস)
- ভর্তির অফার লেটার (স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে)
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট
- একাডেমিক সকল সার্টিফিকেট ও ট্রান্সক্রিপ্ট (স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে)
- কাজের স্কিল সার্টিফিকেট (কাজের ভিসার ক্ষেত্রে)
- রিকমেন্ডেশন লেটার (স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে)
জাপানে কোন কাজের চাহিদা বেশি ২০২৬
জাপানে কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন ধরনের কাজের সুযোগ থাকলেও, এই দেশে যাওয়ার পদ্ধতি অনেক সময় কষ্টসাধ্য বা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাপানে যাত্রা শুরু করার জন্য অন্যান্য দেশের তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থের প্রয়োজন হয়।
যারা এই প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন, তারা চাইলে জাপান ভ্রমণের বা সেখানে কাজ করার সুযোগ নিতে পারেন। তবে, যদি আপনার মূল লক্ষ্য জাপানে নিজের কর্মসংস্থান গড়ে তোলা হয়।
তবে আপনার প্রথমে জানা উচিত সেখানকার কোন কাজগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি এবং কোন কাজগুলোর বেতন সর্বোচ্চ। কাজের চাহিদা এবং বেতনের এই তথ্য জানা থাকলে, আপনি সেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রের ওপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করার মাধ্যমে আপনার জাপান যাত্রার পথ সুগম করতে পারবেন।
- ইলেকট্রিশিয়ান এর কাজ
- কনস্ট্রাকশনের কাজ
- প্লাম্বার
- হোটেল বা রেস্টুরেন্ট এর কাজ
- ক্লিনার এর কাজ
- ফুট প্যাকেজিং
- কৃষি কাজ
- ফ্যাক্টরি কাজ
- বিভিন্ন কোম্পানির কাজ ইত্যাদি।
জাপান যেতে কত বছর বয়স লাগে?
জাপানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে বা সেখানে থাকার জন্য বয়সসীমা মূলত আপনি কোন ভিসার জন্য আবেদন করছেন, তার ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে।
📌আরো পড়ুন👉নরওয়ে যেতে কত বছর বয়স লাগে
- ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: যারা কাজের জন্য জাপানে যেতে চান, তাদের জন্য সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা অনুসরণ করা হয়। এই ভিসার ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন।
- বিজনেস ভিসা: ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে হলে আবেদনকারীর জন্য একটি ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করা আছে। এই ভিসার জন্য আবেদনকারীর কমপক্ষে ২১ বছর বয়স হতে হবে।
- ট্যুরিস্ট ভিসা: যারা কেবল ঘোরার উদ্দেশ্যে স্বল্প সময়ের জন্য জাপানে যেতে চান, তাদের জন্য সাধারণত বয়সের নির্দিষ্ট কোনো কঠোর বাধা থাকে না। সব বয়সের মানুষই এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
- স্টুডেন্ট ভিসা: পড়াশোনার জন্য যারা জাপানে যেতে ইচ্ছুক, তাদের ক্ষেত্রেও শিক্ষাস্তর অনুযায়ী বয়সসীমা ভিন্ন হয়। স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য আবেদনকারীর ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হওয়া দরকার। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর কমপক্ষে ২১ বছর বয়স হওয়া প্রয়োজন।
জাপান যেতে শিক্ষাগত যোগ্যতা
জাপানে প্রবেশের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ভর করে মূলত আপনি কোন ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করছেন এবং যদি কাজের জন্য যান, তবে নিয়োগকারী সংস্থার নির্দিষ্ট চাহিদার ওপর।
- স্টুডেন্ট ভিসা: আপনি যদি পড়াশোনার উদ্দেশ্যে জাপানে যেতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই সেই নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (যেমন: বিশ্ববিদ্যালয় বা ভাষার স্কুল) কর্তৃক নির্ধারিত ভর্তির যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মানদণ্ড ও শর্ত থাকতে পারে।
- ওয়ার্ক পারমিট ভিসা: কাজের ভিসার ক্ষেত্রে সাধারণ এবং ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে সাধারণত এসএসসি পাস হওয়া আবশ্যক। তবে, আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, আপনি কী ধরনের কাজের জন্য যাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে এই শিক্ষাগত যোগ্যতা কম বা বেশি হতে পারে। উচ্চ-দক্ষতার কাজের জন্য সাধারণত উচ্চতর ডিগ্রি চাওয়া হয়।
লেখকের শেষ কথা
জাপানে উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী বা কর্মীদের জন্য ভিসা ফি এবং সর্বনিম্ন বেতন দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদিও বাংলাদেশিদের জন্য জাপানের দূতাবাস কর্তৃক নির্ধারিত ভিসা ফি প্রায়শই মওকুফ করা হয়, তবুও আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ভিএফএস গ্লোবাল এর মতো সংস্থাগুলোর সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।
তবে, আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী আনুষঙ্গিক বা প্রক্রিয়াকরণ খরচ অনেক বেশি হতে পারে। যেমন: ওয়ার্ক ভিসার জন্য প্রস্তুতি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা এবং স্টুডেন্ট ভিসার জন্য প্রায় ১০ থেকে ১১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।
অতএব, জাপানে যাওয়ার পরিকল্পনা করার সময়, কেবল ভিসা ফি বা ন্যূনতম বেতনের দিকে দৃষ্টি না রেখে, ভিসার প্রকারভেদ অনুযায়ী আসল আনুষঙ্গিক খরচ এবং স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আয়ের সম্ভাবনা বিবেচনা করা অপরিহার্য। সঠিক প্রস্তুতি এবং তথ্যের ভিত্তিতে জাপান ভ্রমণ বা কাজের সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।