10000 টাকার মধ্যে 20 টি চমৎকার ব্যবসা আইডিয়া

10000 টাকার মধ্যে 20 টি চমৎকার ব্যবসা আইডিয়া। বর্তমান সময়ে চাকরির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর না করে নিজস্ব কিছু করার আগ্রহ মানুষের মধ্যে দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো—পুঁজি বা মূলধনের অভাব। অনেকেই মনে করেন ব্যবসা শুরু করতে হলে লাখ লাখ টাকা দরকার, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মিল নয়। সঠিক পরিকল্পনা, বাস্তবসম্মত আইডিয়া এবং পরিশ্রম থাকলে মাত্র ১০ হাজার টাকার মধ্যেই একটি লাভজনক ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।

বিশেষ করে আমাদের বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসা, ডিজিটাল সার্ভিস, হোম-বেজড উদ্যোগ এবং ছোট আকারের অফলাইন ব্যবসার সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন ঘরে বসেই আয় করার বহু পথ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, বেকার যুবক, চাকরিজীবী কিংবা গৃহিণী—যে কেউ চাইলে স্বল্প পুঁজিতে নিজের উদ্যোগ শুরু করতে পারেন।

এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো 10000 টাকার মধ্যে 20 টি চমৎকার ব্যবসা আইডিয়া, বাস্তবসম্মত ও পরীক্ষিত ব্যবসা আইডিয়া, যেগুলো কম ঝুঁকিতে শুরু করা যায় এবং ধীরে ধীরে বড় আকারে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। প্রতিটি আইডিয়া এমনভাবে বাছাই করা হয়েছে, যেন নতুন উদ্যোক্তারা সহজেই বুঝতে পারেন কোন ব্যবসাটি তাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

আপনি যদি নিজের জন্য একটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস তৈরি করতে চান বা ভবিষ্যতে একটি বড় ব্যবসার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে এই ব্যবসা আইডিয়াগুলো আপনার জন্য হতে পারে সেরা পথনির্দেশক।

10000 টাকার মধ্যে 20 টি চমৎকার ব্যবসা আইডিয়া

  • ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগিং (কনটেন্ট ক্রিয়েশন)
  • ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস
  • অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা
  • ফাস্টফুড /চটপটে ফুচকার ব্যবসা
  • মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান
  • টিউশন সার্ভিস
  • সবজি বিক্রয়ের ব্যবসা
  • ছোট্ট কসমেটিক /গিফট শপ
  • ফল বিক্রির ব্যবসা
  • ফল বিক্রির ব্যবসা
  • জুস বা স্মুদি কর্নার
  • কফি বা চা বিক্রি ব্যবসা
  • আইসক্রিম কর্নার বা আইসক্রিমের ব্যবসা
  • খেলনা বিক্রয়ের ব্যবসা ১০ হাজার টাকায়
  • মহিলাদের বুটিক বা সেলাইয়ের কাজ
  • পশু খাদ্য ফিড বিক্রয়
  • ডিম বা পোল্ট্রি ব্যবসা ছোট আকারে ১০ হাজার টাকার মধ্যে
  • অনলাইন কুরিয়ার এজেন্সি সার্ভিস
  • হ্যান্ড মেড ক্রাফটস বা শপ
  • স্টেশনারি বা কলম পেন্সিল বিক্রয়
  • ফটোকপি বা প্রিন্টিং সার্ভিস

ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগিং (কনটেন্ট ক্রিয়েশন)

বর্তমান সময়ে টাকা ইনকামের অন্যতম একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগিং সিস্টেম। আপনি প্রতিদিন নূন্যতম সময়ে ব্যয় করে আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রচুর পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারেন গুগল AdSense এপ্রুভ করে।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

আপনি যদি ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লকিং থেকে ইনকাম করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে ধারণা রাখতে হবে যে এখানে আপনার করণীয় কি বা এখান থেকে কি করলে  টাকা ইনকাম করা যায়। তাহলে চলুন এই বিষয়ে আমাদের ধারণা নেওয়া যাক, ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগিং হল মূলত কনটেন্ট ভিত্তিক ভিডিও কিংবা আর্টিকেল যেখানে আপনি আপনার দর্শক বা পাঠক তৈরি করে গুগল থেকে AdSense এপ্রুভ করে ,অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, স্পনসরশিপ ও ডিজিটাল পণ্য (কোর্স/ইবুকইনকাম করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার লক্ষ্য হবে প্রথম ৬–১২ মাসে কনসিস্টেন্ট কনটেন্ট দিয়ে একটি ব্যাসিক অডিয়েন্স তৈরি করা এবং ১ বছরে আয়ের প্রথম উৎস চালু করা।

বাজার বিশ্লেষণ

আপনি যখন ইউটিউব বা ব্লগিং নিয়ে কাজ করবেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে নির্বাচন করতে হবে যে আপনি কোন নিশ নিয়ে কাজ করলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল কিংবা ব্লগিং সাইটটি দ্রুত গ্রো করবে। প্রথমে আপনাকে এমন জিনিস গুলো সিলেক্ট করতে হবে। এবং সে অনুযায়ী আপনাকে আপনার প্রতিযোগী খুঁজে বের করতে হবে যে আপনার প্রতিযোগী কারা আপনার প্রতিযোগী খুজে বের করে তাদের থেকে একটু ভালো কাজ করলেই আপনি খুব ভালো ফলাফল পেতে পারেন এবং আপনার অডিয়েন্স বা পাঠকের সংখ্যা দ্রুত বাড়বে।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আপনি যদি ১০ হাজার টাকার মধ্যে এই কাজটি শুরু করতে চান তাহলে চলুন আমরা ছোট্ট একটা খরচের মাইল ফলক সম্পর্কে ধারণা নেই। যদি প্রাথমিকভাবে আপনার কাছে একটা স্মার্টফোন থাকে তাহলে আপনি 10000 টাকার মধ্যে আপনি এই কাজটি শুরু করতে পারবেন।

📌আরো পড়ুন👉15 টি উপায় বাংলা ব্লগ সাইট থেকে ইনকাম

উদাহরণ বাজেট: স্মার্টফোন/ট্রাইপড/স্ট্যান্ড (যদি না থাকে) = ২,৫০০ টাকা; ভালো মাইক্রোফোন (ল্যাভ/ইউএসবি ভিত্তিক) = ২,০০০ টাকা; হালকা লাইটিং (Ring light) = ১,৫০০ টাকা। আপনি যদি ব্লগিং করতে চান সেক্ষেত্রে ব্লগিং হলে ডোমেইন + হোস্টিং (প্রথম বছর সস্তায়) = ২,০০০ টাকা; কনটেন্ট প্রমো (ফেসবুক/রিলস) = ১,৫০০ টাকা; জরুরি রিজার্ভ = ৫০০ টাকা। যোগফল: 2,500 + 2,000 + 1,500 + 2,000 + 1,500 + 500 = 10,000 টাকা।

দৈনন্দিন ও মাসিক খরচ

এক্ষেত্রে আপনার আনুমানিক খরচের হিসাব ইন্টারনেট/ডেটা (মাসে ৫০০–১,০০০ টাকা), ব্লগ হোস্টিং (বছরে ২,০০০ টাকার গড় = মাসে ≈ ১৬৭ টাকা), ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার (প্রাথমিকভাবে ফ্রি), থাম্বনেইল/গ্রাফিক্স (এক্সট্রা) ইত্যাদি। সময়ই এখানে সবচেয়ে বড় খরচ—আপনি নিজে এডিট করলে অর্থগত খরচ কমে।

আয় ও ব্যয়ের সম্ভাবনা (নমুনা গণনা ও বাস্তববাদী প্রত্যাশা)

আপনি যদি ইউটিউব চ্যানেল নিয়ে কাজ করেন সে ক্ষেত্রে আপনি ইউটিউব চ্যানেলে মনিটাইজেশন পেতে প্রথমে আপনার ইউটিউবে চ্যানেল মনিটাইজেশন পেতে ১,০০০ সাবস্ক্রাইবার ও ৪,০০০ ঘন্টার ওয়াচটাইম লাগবে (এটি প্ল্যাটফর্ম রুল, তবে সময়ভিত্তিক বদলে যেতে পারে)। আপনি যদি আপনার ইউটিউব চ্যানেলে মনিটাইজেশন পান সেক্ষেত্রে আপনার আয় কীভাবে হবে তা নীচে একটি সহজ উদাহরণে দেখানো হল। ধরা যাক ভিডিও থেকে প্রাপ্ত আয়ের গড় (CPM) ≈ ৫০ টাকা প্রতিটি ১,০০০ ভিউ। যদি আপনি দৈনিক ১,০০০ ভিউ পান → দৈনিক আয় = ৫০ টাকা; সেটা মাসে ৫০ × ৩০ = ১,৫০০ টাকা (ধাপে ধাপে: 50 × 30 = 1500)। ব্লগিংয়ে যদি ট্রাফিক আসে এবং Google AdSenseে প্রতিদিন ১,০০০ পেজভিউ হয় এবং RPM/কমান (earnings per thousand) ৫০ টাকা → মাসিক ১,৫০০ টাকা। অ্যাফিলিয়েট/স্পনসরশিপ যোগ করলে তা দ্বিগুণ বা ত্রিগুণ হতে পারে—উদাহরণ: একটি মধ্যম স্পনসরশিপে মাসে ১০,০০০ টাকা পাওয়া যায়। শুরুতে আয় কম থাকবে; কিন্তু কনটেন্ট সংরক্ষণ করলে ৬–১২ মাসে আয় বৃদ্ধি পায়।

মার্কেটিং কৌশল

কনসিসটেন্ট আপলোড/পোস্টিং, SEO (টাইটেল/ডেস্ক্রিপশন/ট্যাগ), টপিক ট্রেন্ডিং দেখে কনটেন্ট করা, কল্যাবোরেশন, থাম্বনেইল অপ্টিমাইজেশন ও সোশ্যাল শেয়ারিং—এসব করলে ভিউ দ্রুত বাড়ে। ব্লগে SEO-ফ্রেন্ডলি পোস্ট ও পিন্টারেস্ট/ফেসবুক গ্রুপ থেকে ট্রাফিক আনুন।

ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস

আপনি ১০ হাজার টাকার মাধ্যমে যে ব্যবসা গুলো শুরু করতে চান সে ব্যবসা গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হল ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই আপনি এই স্বল্প পুঁজি দিয়ে এ ব্যবসাটি কিভাবে করবেন।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস বলতে বোঝায় — ছোট ও মাঝারি ব্যবসার (লোকাল শপ, রেস্তোরাঁ, বুটিক, সার্ভিস প্রোভাইডার) জন্য ফেসবুক/ইনস্টাগ্রাম বিজ্ঞাপন, পেজ ম্যানেজমেন্ট, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, সিম্পল SEO, গুগল/এডওয়ার্ডস ম্যানেজমেন্ট এবং ছোট ইনবাউন্ড কাস্টমার জেনারেশন সার্ভিস দেওয়া। এই ক্ষেত্রে আপনার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হবে প্রথম ৩ মাসে ২–৩টি রিটেইনার ক্লায়েন্ট পাওয়া (মাসিক রিটেইনার দিয়ে), ৬–১২ মাসে একটা ছোট টিম তৈরি করে আয়ের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।

বাজার বিশ্লেষণ

সকল স্থানীয় ব্যবসাগুলো অনলাইন তাদের উপস্থিতি বাড়াতে চায়। কিন্তু এক্ষেত্রে তাদের কাছে অভিজ্ঞ এজেন্সি/ফ্রিল্যান্সার কমই থাকে। এখানে আপনাকে এখানেই সুযোগ টিম নিতে হবে। বিভিন্ন ছোট শহরেও ফেসবুক-ভিত্তিক বিক্রি বাড়ছে। ফলে এই সকল লোকাল ব্যবসাগুলোকে আপনি খুব সহজেই টার্গেট করলে কনট্রাক্ট পাওয়া সহজ। প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু আপনি যদিভাল কেস-স্টাডি ও দরকারী ফল দেখা তে পারেন তাহলে খুব সহজেই ক্লায়েন্ট ধরেতে পারবেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা (ব্রেকডাউন): যদি আপনার ল্যাপটপ/স্মার্টফোন থাকে, ১০,০০০ টাকায় শুরু করা সম্ভব। উদাহরণ বাজেট: মোবাইল/ডেটা ও সেটআপ = ১,০০০ টাকা; ফেসবুক/ইনস্টাগ্রাম অ্যাড বুস্ট টেস্টিং বাজেট = ৩,০০০ টাকা; প্রোফাইল/লোগো ও সিম্পল ব্র্যান্ডিং = ১,০০০ টাকা; বিনাশিক্ষা/কোর্স বা টিউটোরিয়াল (চাহিদা অনুরুপ) = ২,০০০ টাকা; অনলাইন টুল সাবস্ক্রিপশন (প্রথম মাস, ফ্রি-টায়ার ব্যতীত) = ২,০০০ টাকা; জরুরি রিজার্ভ = ১,০০০ টাকা। যোগফল: ১,০০০ + ৩,০০০ + ১,০০০ + ২,০০০ + ২,০০০ + ১,০০০ = ১০,০০০ টাকা। (গণনা ধাপে ধাপে দেখানো হলো)।

 অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা

বর্তমানে সময়ে ফেসবুক ব্যবহার করে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল। যখন ফেসবুক এ প্রবেশ করবেন তখন অনলাইনে পোশাক এর বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখতে পাবেন। এই বিজ্ঞাপন থেকে বোঝা যায় যে অনলাইনে পোশাকের ব্যবসা করে অমৃত যথেষ্ট পরিমাণ ফালমান হতে পারবেন না। অনলাইনে পোশাক ব্যবসার একটা ফুল বিজনেস প্ল্যান সম্পর্কে।

ব্যবসার ধারণা ও মূল লক্ষ

বর্তমান কি অনলাইন শপিং এর যুগে পোশাক ব্যবসা হতে পারে আপনার জন্য আয়ের একটি অন্যতম বড় উৎসব। অর্থ সম্মান সময়ে এ ব্যবসাটি বাংলাদেশের বুকে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আপনি সামান্য কিছু মূলধন দিয়ে এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন যে ব্যবসার বাজার সীমাহীন। আপনার মূল কাজ হবে আপনাকে বিভিন্ন হোলসেল মার্কেট থেকে কম দামে বিভিন্ন ক্যাটাগরি পোশাক সংগ্রহ করতে হবে এবং সেগুলো অনলাইনে বিক্রয় করার জন্য বিজ্ঞাপন দিতে হবে এবং তার মধ্যে হবে আপনাকে সেল করতে হবে।

📌আরো পড়ুন👉বুলগেরিয়া কাজের বেতন কত?

একত্রে আপনার প্রথম লক্ষ্য হলো আপনাকে ছোট্ট পরিসরে ১০ হাজার টাকার মধ্যে দিয়ে শুরু করতে হবে এবং ধীরে ধীরে এ ব্যবসা ঢাকার বাড়াতে হবে। আপনাকে চেষ্টা করতে হবে মাসে ৩০ হাজার থেকে ৫০০০০ টাকা পণ্য বিক্রয় করা। লক্ষ্য থাকতে হবে যেন আগামী ৬ মাসের মধ্যে আপনার নিজের একটি ব্র্যান্ড তৈরি হয়। এ সকল কথা মাথায় রেখে আপনি খুব সহজেই অনলাইনে পোশাকের ব্যবসাটি শুরু করে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল ভাবে পড়ে তুলতে পারেন।

বাজার বিশ্লেষণ

যত দিন যাচ্ছে ডিজিটাল এই যুগে অনলাইন শপিং এর মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে এবং সে সাথে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সকলের কাছে। বিশেষ করে আপনি শেয়ার করলে দেখতে পাবেন যে অনলাইন শপিং এর ক্ষেত্রে নারীদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। দোকানে গিয়ে কেনাকাটা ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে তারা এখন ফেসবুক ইনস্টাগ্রাম বা ওয়েবসাইট থেকে অর্ডার দিতে বেশি পছন্দ করছে বা আগ্রহীন হচ্ছে। এমত অবস্থায় বাজারে পোশাকের বিক্রয়ের প্রতিযোগিতা বেড়েই চলেছে। এই প্রতিযোগিতার মধ্যে আপনি যদি মানসম্মত কিছু ছবি সঠিক সাইজ সময় মত ডেলিভারি এবং সঠিক গ্রাহক সেবা দিতে পারেন তাহলে আপনি অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে উঠবেন। অনলাইনে পোশাক বিজনেসের সবচাইতে বড় বিষয় হচ্ছে যে বাজারে কখনো পোশাকের চাহিদা কমে না কারণ এটি মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় মৌলিক একটি চাহিদা। তাই এ সকল দিক বিশ্লেষণ করে আপনি অনলাইনে পোশাক বিক্রির ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আপনি যদি অনলাইনে ১০ হাজার টাকার মধ্যে পোশাক বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে আপনাকে কিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোতে হবে। তাহলে চলুন জেনে নেই সেই পরিকল্পনা গুলো। অনলাইনে পোশাক ব্যবসা শুরু করে সেক্ষেত্রে আপনার কিছু মূলধন দরকার হবে খুব বড় অ্যামাউন্ট না হলেও চলবে। এক্ষেত্রে আপনাকে হোলসেল মার্কেট যেমন ঢাকা গাউছিয়া নিউ মার্কেট ইন্দিরা রোড চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজার ইত্যাদি থেকে প্রথমে পোশাক কিনতে হবে এবং সেগুলোকে ক্রয় করার জন্য আপনার খরচ হবে 6000 টাকা। এরপর আপনাকে আপনার একটি ফেসবুক পেজ তৈরি করে লোগো ডিজাইন এবং বিজ্ঞাপন বুষ্ট করার জন্য আপনার লাগবে ২০০০ টাকা। তারপর আপনার প্যাকেট স্টিকার রশিদ ইত্যাদি খরচ বাবদ আরও 1000 টাকা। আর আপনার আরো আনন্দিত খরচের জন্য এক হাজার টাকা মজুদ রাখতে হবে। এভাবে সব মিলে আপনার মোট খরচ হবে 10000 টাকা। অনুযায়ী আপনি ১০ হাজার টাকা দিয়ে অনলাইনে পোশাক বিক্রির কাজ শুরু করতে পারবেন।

দৈনিক ও মাসিক খরচ

আমরা যখন অনলাইনে এই বিজনিটি শুরু করবেন তখন আপনার দৈনন্দিন এবং মাসিক কিছু খরচ থাকবে। আপনার দৈনন্দিন ও মাসিক খরচ সম্পর্কে প্রাথমিকের কিছু ধারনা জেনে নিন। আপনি যখন অনলাইনে এই ব্যবসাটি শুরু করবেন তখন আপনার দোকান ভাড়ার নামে কোন খরচ লাগবে না। এক্ষেত্রে আপনাকে ছোটখাটো কিছু খরচ করতে হবে যেমন ধরুন প্রতিটি অর্ডারের জন্য কুরিয়ার চার্জ যেটা সাধারণত গ্রাহক বন বহন করে। তবে মাঝেমধ্যে বিক্রেতার কেউ দিতে হয়। আপনি যদি আপনার বিক্রয় বাড়াতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে ফেসবুকে ষ ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা বিজ্ঞাপন অবশ্যই দিতে হবে। কেন আপনি যদি নতুন গ্রাহক পেতে চান তাহলে আপনাকে এটা অবশ্যই করতে হবে না হলে আপনি নতুন গ্রাহক পাবেন না এবং সে ক্ষেত্রে আপনি ব্যবসায় লস করতে পারেন। এর সাথে সাথে আপনাকে আপনার পণ্যর ভালো কিছু ছবি এবং ভিডিও তৈরি করার জন্য ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ করতে হতে পারে। এছাড়াও মাঝেমধ্যে আপনাকে প্রমোশনাল ডিসকাউন্ট এর জন্য কিছু খরচ করতে হইতে পারে।

আয় ও লাভের সম্ভাবনা

আপনি যখন অনলাইনে ব্যবসা করবেন তখন আপনার লাভের পরিমাণটি নির্ভর করবে আপনার বিক্রয়ের উপর। অর্থাৎ আপনার ক্রয় মূল্য ও বিক্রয় মূল্য ব্যবধান এর ওপর। উদাহরণ হিসাবে ধরা যায় একটি শাড়ি আপনি হোলসেল কিনলেন বারোশো টাকায় এবং সেটি আপনি অনলাইনে বিক্রয় করতে পারবেন ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়। এক্ষেত্রে আপনার টুথপিস শাড়িতে লাভ হবে ৬০০ টাকা। যদি আপনি প্রতি মাসে মাত্র চল্লিশটি বিক্রয় করেন তাহলে আপনার মোট লাভ দাঁড়াবে চব্বিশ হাজার টাকা। আপনার যদি আরও বিক্রয় বেশি করেন যেমন ৫০ থেকে ৬০ টি বিক্রয় করতে পারেন তাহলে মাসিক লাভ সেটা খুব সহজেই ৩০০০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে আপনি মাত্র ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে কয়েক গুণ টাকা লাভ করতে পারবেন যদি আপনি সেল ভালো করতেপারেন।

মার্কেটিং কৌশল

আপনি যে ব্যবসায়ী করেন না কেন আপনার প্রতিটি ব্যবসার প্রাণ হলো মার্কেটিং। আপনি যত বেশি ভালো করে মার্কেটিং করতে পারবেন আপনার সেলস তত বেশি হবে। এক্ষেত্রে আপনাকে শুরুর দিকে ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট করতে হবে , আপনার প্রোডাক্টের মানসম্মত ছবি ভিডিও ও গ্রাহকের রিভিউ এবং অফারগুলো তুলে ধরতে হবে। instagram এর ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েন্স এর মার্কেটিংও কাজে আসবে আপনি যদি সেটা করতে পারেন। মার্কেটিং এর আরেকটি কৌশল হল গ্রাহকের আস্থা অর্জনের জন্য ক্যাশ অন ডেলিভারি সিস্টেম চালু করা। আরো বেশি অর্ডার পেতে চাইলে প্রতিটি অর্ডারের সাথে ছোট ছোট কিছু গিফট অথবা কার্ড দিতে পারেন এতে করে গ্রাহকরা খুশি হয়ে পরবর্তীতে আপনার কাছে অর্ডার দিবেন। ফলো করে মার্কেটিং করলে আপনার ব্যবসা দিন দিন উন্নতই দিকে যাবে এবং আপনি আরো বেশি আয় করতে পারবেন।

ভবিষ্যৎ প্রসার ও উন্নয়নের পরিকল্পনা

আপনি যখন অনলাইনে পোশাক বিক্রয়ের জন্য ছোট পরিসরে একটি ব্যবসা শুরু করবেন তখন আপনার মাথায় রাখতে হবে যে এক বছরের মধ্যে আপনার পণ্য একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হয়। অর্থাৎ আপনার পোশাকে আপনার নিঃস্ব একটি লোগো থাকবে এবং আপনার ফ্রেন্ডের একটি নির্দিষ্ট নাম থাকবে যেটা তারা সবাই চিনতে পারবে। আমরা অন্যটির যখন একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হবে তারপর আপনাকে একটু ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে এবং সেখানে অর্ডার নেয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এভাবে এভাবে আপনি ধীরে ধ ীরে ও ছেলে থেকে প্রবেশ করতে পারবেন যদি আপনার ফোকাসটা ঠিক থাকে। এভাবে আমরা যদি সঠিক পরিকল্পনা মাফিক আপনার ব্যবসাটি পরিচালনা করেন তাহলে আপনি কয়েক বছরের মধ্যে এই ব্যবসা থেকে আপনি প্রতিমাসে কয়েক লাখ টাকা আয় করে ফেলতে পারবেন।

উপরের আলোচনা থেকে সংক্ষেপে বলা যেতে পারে যে অনলাইনে পোশাক ব্যবসা হল একটি স্বল্প বিনিয়োগে দ্রুত লাভ করা যায় এমন একটি বিজনেস। আপনি যদি সঠিক মার্কেটিং মানসম্মত পণ্য ও গ্রাহক সেবা দিতে পারেন তাহলে এটি আপনি একটি দীর্ঘমেয়াদি সফল ব্রান্ডে রূপান্তর করতে পারবেন।

ফাস্টফুড /চটপটে ফুচকার ব্যবসা

বাঙালিরা উস্কা চটপটে ডালপুরি সিংড়া সমচার আল ুর চপের মতো ফাস্টফুডের দিবানা। এ সকল পণ্যের চাহিদা সব সময় বেশি। স্কুল কলেজ অফিস বাজার বা পার্কের যেকোনো জায়গায় যান না কেন মানুষ এই খাবারগুলো দেখলেই খেতে চায়। খাবারগুলো মূলত তরুণ প্রজন্ম এবং নারীদের কাছে খুবই প্রিয়। জনপ্রিয় এ খাবারটি রং ব্যবসা যদি আপনার শুরু করতে চান তাহলে আপনি খুব কম টাকা বিনিয়োগ করে এটি শুরু করতে পারেন। তাই যদি আপনার কাছে স্বল্প পুঁজি থাকে এবং ব্যবসা করার চিন্তা পরিকল্পনা করেন তাহলে আপনার জন্য পাসপোর্ট বা চটপটিই ফুচকার ব্যবসা হতে পারে একটি দারুন। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই ফাস্টফুড বা ফুচকা চটপটির দোকানের পরিকল্পনা সম্পর্কে।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ

আপনি যদি এ ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে একটি ছোট দোকান বা স্টল বসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ফুচকা চটপটি এবং অন্যান্য সকল জনপ্রিয় ফাস্টফুড বিক্রি করতে পারেন। এই ব্যবসা শুরুর সময় আপনি আপনার লোকেশন বা জায়গা ছোট আকারে শুরু করতে পারেন। আপনার লক্ষ্য থাকবে প্রতিদিন অন্তত 50 থেকে 100 জন লোককে সার্ভিস দেওয়া। আপনি যদি প্রতিদিন সার্ভিস দিতে পারেন তাহলে আপনি কয়েক হাজার টাকা আয় করতে পারবেন যেটি মাসে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে। আপনার মাথায় যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকে তাহলে আপনি এই ছোট দোকানকে একটি স্থায়ী রেস্টুরেন্টেও রূপান্তরিত করতে পারবেন। তাহলে আপনার অবশ্যই উচিত বড় লক্ষ্য নিয়ে ছোট কাজটি শুরু করা।

বাজার বিশ্লেষণ

ফাস্টফুডের বাজার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন শহরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে ছোটখাটো ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। তবে সকল জায়গায় এই দোকানগুলো সমান জনপ্রিয় হয় না। সাধারণত দেখা যায় যে সকল এলাকায় মানুষের ভিড় বেশি যেমন স্কুল কলেজ কোচিং সেন্টার অফিস এলাকায় কিংবা ব্যস্ত মার্কেটের পাশে ফুচকা চটপটির দোকান খুব জমজমাট ভাবে চলে। ফুচকা চটপটির জমজমাট বাজারে প্রতিযোগিতার হার প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের একটা প্রধান অভিযোগ হল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা স্বাস্থ্যবিধি এবং টেস্ট নিয়ে। তাই আপনি যদি এ সকল বিষয়ে মাথায় রেখে হাইজেনিক পরিবেশ বজায় রেখে মানসম্মত এবং টেস্টি খাবার গ্রাহকদের সার্ভ করেন তাহলে দিন দিন আপনার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার প্রতিযোগিতা কমে যাবে। বিশেষ করে দেখা যায় বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা কিছুটা নতুন ধাঁচের এবং সুন্দর পরিপাটি করে সাজানো দোকানে খেতে বেশি পছন্দ করে। তাই আপনি এই দিকে নজর দিয়ে আপনি আপনার ব্যবসাটি খুব অল্প পুঁজিতে শুরু করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা ১০০০০ টাকা

আপনি যদি পাসপোর্ট ফুচকা অটপটির দোকান দিতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার খুব একটা বেশি বাজেটের প্রয়োজন নেই মাত্র ১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি এটা শুরু করতে পারবেন। চলুন চলুন দশ হাজার টাকার মধ্যে একটি দোকানের পরিকল্পনা করা যাক
কাঁচাম মাল আলু, ছোলা, ডাল, পেঁয়াজ, মসলা, ফুচকা, তেল কিনতে লাগবে প্রায় 2 হাজার টাকা।
চটপটি, ফুচকা ও অন্যান্য ফাস্টফুড তৈরির জন্য হাড়ি পাতিল ,কড়ায়, বড় চামচ, প্লেট, গ্লাস, চামচ ,বাটি ইত্যাদি কিনতে লাগবে প্রায় 3000 টাকা।
একটি ছোট স্টল, টেবিল ,চেয়ার এবং ছাতা বা ব্যানার সেটআপ করতে লাগবে প্রায় দুই হাজার টাকা।
মার্কেটিং যেমন ব্যানার পোস্টার এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রমোশন ও জরুরী খরচর জন্য রাখতে হবে দুই হাজার টাকা।
তাহলে সবগুলো মিলিয়ে হল ১০ হাজার টাকা। দশ হাজার টাকার মধ্যে আপনি একটি ফুল প্ল্যান বিজনেস করে প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

দৈনন্দিন ও মাসিক খরচ

আপনি যখন এই ব্যবসাটি শুরু করবেন তখন আপনার দৈনিক এবং মাসিক কিছু খরচ থাকবে। চলুন আমরা জেনে নেই আপনার দৈনিক ও মাসিক খরচ সম্পর্কে। আপনার দৈনন্দিন খরচ বলতে হল আপনার দৈনিক এর কাঁচামাল কেনার খরচ। আপনি প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাতশ টাকার কাঁচামাল থেকে খুব সহজেই দুই থেকে ২৫০০ টাকার খাবার তৈরি করতে পারবেন। এছাড়াও আপনার গ্লাস এবং চুলার জন্য প্রতিদিন খরচ হবে 50 থেকে 100 টাকা। এছাড়াও আরো কিছু আনুষঙ্গিক খরচ যেমন পানি প্লাস্টিক প্লেট টিস্যু স প্যাকেট ইত্যাদি মিলে দৈনিক আরও ৫০ থেকে ৭০ টাকা লাগবে। এভাবে হিসাব করলে আপনার প্রতি মাসে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা।

আয় ও লাভের হিসাব

আপনার হয়তো খরচের হিসাব দেখে চমকে যেতে পারেন কিন্তু যখন আপনি আপনার ব্যবসার লাভের অংশ হিসাব করবেন তখন আপনার চোখ ছানাপোড়া হয়ে যাবে। কেন পুস্ত চটপটির ব্যবসায় ক্লাবের মার্জিত অনেক বেশি। আপনি প্রতিপ্লেট ফুচকা চটপটি বিক্রি করবেন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় যেটি আপনার তৈরি করতে খরচ হবে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ টাকা। প্রতি প্লেটে আপনি লাভ করছেন ২৫ থেকে ৩০ টাকা। এভাবে আপনি যদি মাত্র 50 প্লেট বিক্রি করেন তাহলে আপনার দৈনন্দিন লাভ হবে ১২৫০ টাকা প্রাইজ। তাহলে যদি মাসে ৩০ টি দিনই আপনার দোকান চালান সে ক্ষেত্রে আপনার আয় হবে প্রায় 37500 টাকা। আপনি যদি ফুচকা চটপটির পাশাপাশি আরো কিছু আইটেম যেমন ডালপুরী সিংড়া এবং অন্যান্য ফাস্টফুড যোগ করেন সেক্ষেত্রে আপনার আয় আরো ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে। তাহলে বুঝতে পারছেন তো আপনি মাত্র ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগে আপনি কত লাভবান হতে পারেন।

বাজার বিশ্লেষণ

আপনি যে ব্যবসায়ী করেন না কেন প্রতিটি ব্যবসায় ঝুঁকি রয়েছে এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। সঠিক লোকেশন না বুঝে ব্যবসা শুরু করেন সে ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসা খুব একটা জমবে না। আবার দেখা যায় বৃষ্টি বাসীদের সময় গ্রাহকের সংখ্যা কমে যায়। আবারও অনেক সময় দেখা যায় স্বাস্থ্যবিধি নামের আমরা যদি খাবার তৈরি করেন সে ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং আপনার কাস্টমারের সংখ্যা কমতে পারে। আপনি যদি আপনার কাস্টমারকে ধরে রাখতে চান তাহলে আপনি কে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর মনোযোগ দিতে হবে। আপনার কাঁচামালের দাম বেড়ে যায় ফলে আপনার খরচা বেড় যায়। তবে যদি আপনি আপনার ব্যবসায়ী সঠিক পরিকল্পনা লোকেশন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর রাখেন তাহলে আপনি এর সকল ঝুঁকি খুব সহজে অতিক্রম করতে পারবেন এবং লাহাবার হবেন।

মার্কেটিং কৌশল

আপনি যে কোন ব্যবসায়ী করেন না কেন আপনাকে মার্কেটিং বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। আপনি যত বেশি ভালো করে মার্কেটিং করতে পারবেন আপনার ব্যবসা তত বেশি উন্নতি করবে। তবে এক্ষেত্রে আপনার খুব একটা বেশি মার্কেটিং এর প্রয়োজন নেই আমরা দোকানের সামনে শুধু একটি আকর্ষণীয় ব্যানার ও নিমপ্লেট ব্যবহার করলে হবে। আপনি আপনার লোকেশনটি উল্লেখ করে ফেসবুকে প্রচারণা করতে পারেন। প্রকাশ করতে পারেন। একটি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন যে আমরা দোকানের প্রথম 5০ জন কাস্টমার ডিসকাউন্ট পাবে এমন অফার চালু করলে দেখবেন আপনার দোকানে গ্রাহকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ সাধারণত সুন্দর ব্যবহার এবং ভালো মানের খাবার ও সুন্দর পরিবেশের দিবানা। ব তাই আপনি যদি আপনার ব্যবহার মানসম্মত খাবার সময়মতো খাবার সার ্ব এবং খাবারের স্বাদ এর দিকে নজর দেন তাহলে আপনাকে আর ফিরে তাকাতে হবে না।

ভবিষ্যৎ প্রসার

আপনি যখন একটি ছোট পরিসরে শুরু করবেন তখন আপনার কে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফাস্টফুড শপে পরিণত করার চিন্তা মাথায় রাখতে হবে। আমার যখন দেখবেন আপনার গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার মেনুতে কিছু খাবার যোগ করবেন যেমন বার্গার স্যান্ডউইচ ফ্রাইড চিকেন আরো বেশ কিছু আইটেম যেগুলো মানুষের খুবই প্রিয় হয়ে থাকে। এভাবে আপনার লক্ষ্য যদি আরো দূর পর্যন্ত থাকে সেক্ষেত্রে আপনি ফুড ডেলিভারি প্লাটফর্ম যেমন ফুডপান্ডা পাঠাও থেকে অনলাইনে অর্ডার নিতে পারবেন। আপনি খুব সহজেই আপনার ব্যবসাটিকে একটি দীর্ঘ মেয়াদী ব্রান্ড ফাস্টফুড ব্যবসায় রূপান্তরিত করতে পারবেন। আপনাকে কাজ করে যেতে হবে।

সকল দিক বিবেচনা করে বলা যায় যে ফাস্টফুড ফুচকা চটপটির ব্যবসা এমন একটি উদ্যোগ যেটি করে আপনি ১০ হাজার টাকায় শুরু করে খুব সহজে সেখান থেকে মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই লোকেশন নির্বাচন মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও গ্রাহক সেবার ওপর গুরুত্ব গুরুত্ব দিলে আপনি খুব সহজেই একটি লাভজনক ব্যবসায়ী রূপান্তরিত করতে পারবেন।

মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোড ব্যবসার পূর্ণাঙ্গ প্ল্যান

বর্তমান সময়ের প্রায় প্রতিটি মানুষের হাতে মোবাইল রয়েছে। মোবাইল ছাড়া মানুষের এক মুহূর্ত চলে না। আর এই স্বপ্ন মোবাইল চালানোর জন্য সিম কার্ডের খুবই প্রয়োজন। এসব সিম কার্ড চালানোর জন্য আপনার বিভিন্ন ধরনের মোবাইল রিচার্জ এর প্রয়োজন হয় যেমন টকটাইমের জন্য রিচার্জ কেনার জন্য রিচার্জ। এ সকল কারণে মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোড এর ব্যবসা খুবই চাহিদা সম্পন্ন এবং ঝুঁকি মুক্ত একটি ব্যবসা যেটা আপনি চাইলে করতে পারেন। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো যে আমরা যখন এ ব্যবসাটি শুরু কোড দেন তখন এর জন্য খুব একটি বড় পুজির প্রয়োজন নেই। আপনার কাছে যদি মাত্র ১০ হাজার টাকা থাকে তাহলে আপনি এই মোবাইল রিচার্জ ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। তাহলে চলুন আপনাদেরকে মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোডে প্ল্যান সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দিয়।

ব্যবসা ধারণা ও লক্ষ্য

আমি যখন মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোডের দোকান দেওয়া চিন্তা-ভাবনা করবেন তখন আপনার সামনে একটি মূল ধারণা হলো একটি ছোট্ট দোকান যেখানে আপনি বসে সকল অপারেটর যেমন গ্রামীণফোন ,রবি, এয়ারটেল, বাংলালিংক ,টেলিটক এ সকল অপারেটর গুলিতে মোবাইল রিচার্জ বাক্স সার্ভিস দিচ্ছেন। আপনি যদি আপনি যদি ফ্লেক্সিলোড বা মোবাইল রিচার্জ এর পাশাপাশি নগদ বিকাশ রকেট ও অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেমট রাখতে পারেন তাহলে আপনার ব্যবসা আরো লাভজনক হয়ে উঠবে। মোবাইল রিচার্জ দ্যা ফ্লেক্সিলোডের ক্ষেত্রে আপনার মূল টার্গেট হবে আপনি প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ একটি রিচার্জ সার্ভিস দিবেন। এক্ষেত্রে আপনার মূল লক্ষ্য হবে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ করা। এবং সেইসাথে আপনার আরো টার্গেট থাকবে ভবিষ্যতে মোবাইল এক্সচেঞ্জ ও অন্যান্য ডিজিটাল সার্ভিস যুক্ত করা। আবার লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে এবং ঠিকমত যদি কাজ করে যেতে পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই এ ব্যবসা থেকে কবুল লাভবান হবেন।

বাজার বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মোবাইল ব্যবহার করে থাকে এবং সে ক্ষেত্রে তারা মোবাইল রিচার্জ করেন। সেটা হোক শহর গ্রাম পাড়া সব জায়গায় মোবাইল রিচার্জ এর ব্যাপক চ্যানেলে রয়েছে। মানুষ সর্বদা মোবাইল ব্যবহার করা ছাড়া থাকতে পারে না তাই তাদের অবশ্যই অবশ্যই বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ কেনার জন্য মোবাইল রিচার্জ করা প্রয়োজন হয়ে পড়ে যেটি একটি চিরস্থায়ী এর চাহিদা কমার কোন সম্ভাবনা নাই। যতদিন যাবে এর চাহিদা বাড়তেই থাকবে। যদিও এ ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিযোগিতায় রয়েছে কিন্তু আপনি যদি সকলের ভরসা দ্রুত সার্ভিস এবং একই জায়গায় সকল সুবিধা দিয়ে থাকেন তাহলে আপনার চাহিদা দিন দিন বাড়বে এবং আপনি এই ব্যবসার ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করবেন। আপনি একটু ফলো করলে দেখবেন যে কিছু কিছু দোকান একটি নির্দিষ্ট অপারেটরের জন্য রিচার্জ করে কিন্তু আপনি যদি সকল অপারেটরের রিচার্জের সুবিধা টকটাইম ইন্টারনেট প্যাকেজসহ সকল সুবিধা দেন তাহলে আপনার গ্রাহকের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলবে।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আপনি হয়তো ভাবছেন যে ১০ হাজার টাকা দিয়ে কিভাবে ফ্লেক্সিলোডের দোকানের লাইন করা যায়। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই যে ১০ হাজার টাকার মধ্যে মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোড ের প্ল্যান নিয়ে। আপনার ফ্লেক্সিলোডের জন্য প্রাথমিক ব্যালেন্স হলো ৭০০০ টাকা। আপনার দোকানের চেয়ার টেবিল সাইনবোর্ড এবং ব্যানারের খরচ 1500 টাকা। ফ্লেক্সিলোড বা মোবাইল রিচার্জ এর জন্য মোবাইল হ্যান্ডসেট সিম ইন্টারনেট সংযোগ খরচ বাবদ 1000 টাকা। এবং দোকান চলাকালীন সময়ে আপনার জরুরী কাজের জন্য ৫০০ টাকা রিজার্ভ। আমরা যদি সব মিলে হিসাব করেন তাহলে আপনার মোট টাকার পরিমান হবে ১০০০০ টাকা। এই প্লান অনুযায়ী আমরা দশ হাজার টাকার মধ্যে আপনার মোবাইল রিচার্জ বা ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিতে পারবেন এবং সেখান থেকে একটা বড় রকমের টাকা লাভ করতে পারবেন।

টিউশন সার্ভিস

টিউশন সার্ভিস খুব একটি মানসম্মত এবং সম্মানজনক পেশা। আপনি যদি এই সার্ভিসটি বেছে নেন তাহলে আপনার একদিকে যেমন টাকা ইনকাম হবে তেমনি সমাজে আপনার মান সম্মানও বৃদ্ধি পাবে। আপনি যদি কোন বিষয়ে ওই দক্ষ হন তাহলে সে বিষয়টি আপনি টিউশনের মাধ্যমে শেখাতে পারেন।

ব্যবসা ধারণা ও সুযোগ

আপনি জানেন যে টিউশন সার্ভিস হলো বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চাহিদা সম্পন্ন মানসম্মত সম্মানজনক পেশা। এক্ষেত্রে শিক্ষক বা অভিজ্ঞ ও দক্ষ ছাত্ররা স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের পড়ানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে। বর্তমান সময়ে দিন দিন শিক্ষা ভিত্তিক প্রতিযোগিতার সংখ্যা বাড় ছে তাই শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরাও চান যে তাদের ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় ভালো ফলাফেরা এর ফলে দিন দিন টিউশনে চাহিদা বাড়ছে। তাই আমরা যদি শিক্ষক হন অথবা একজন দক্ষ ছাত্র হন তাহলে আপনার খুব কম খরচে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। আপনি শুধু আমরা দক্ষতা ও জ্ঞানের ভিত্তিতে বেশ ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

টার্গেট গ্রাহক

আপনি যদি টিউশন সার্ভিসটি চালু করতে চান সেক্ষেত্রে আপনার টার্গেট হবে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী এবং মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণি হতে দশম শ্রেণী পর্যন্ত। এছাড়াও যদি আপনি আরো দক্ষ হন সে ক্ষেত্রে এইচএসসি পর্যায়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের কেউ আপনি পড়াতে পারেন। আমরা যতই বলি যে আমাদের টার্গেট স্কুল ও কলেজে ছাত্রছাত্রীরা কিন্তু আমাদের মেইন টার্গেট হলো অভিভাবকেরা। কেননা অভিভাবকগণই টিফিন এর অর্থ সরবরাহ করে বিকাশ। আপনি শহর কিংবা গ্রামের হোন না কেন আমাদের সকল জায়গা টিউশনের পেশারে শুরু করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ বা বাজেট

আমরা যদি সম্মানজনক এই টিউশন ব্যবসাটি শুরু করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার বেশি বাজেটের প্রয়োজন নাই আপনি মাত্র ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে আপনি সম্মানজনক এই পেশারে শুরু করতে পারেন। তাহলে চলুনজেনে আপনার দশ হাজার টাকা বাজেট সম্পর্কে।

যেহেতু আপনার টিউশনে পড়বেন সে ক্ষেত্রে আপনার অভিজ্ঞতা এবং কিছু জ্ঞান চর্চার জন্য কিছু বই গাইড ও প্র্যাকটিস ম্যাটেরিয়ালস এর প্রয়োজন। ধরি এগুলোর দাম ২০০০ টাকা। তখন আপনার অবশ্যই একটি সাদা বোর্ড, মার্কার কিংবা চক লাগবে। এই বাবদ আপনার খরচ 2000 টাকা। টিউশন করার জন্য এটা ছোট রুমের প্রয়োজন এবং সেই রুমে চেয়ার টেবিল ও ছোট খাটো জিনিসের জন্য বাজেট ৩ হাজার টাকা। যেহেতু বর্তমান যুগ প্রতিযোগিতার যুগ সে ক্ষেত্রে আপনার বিজ্ঞাপন দে খুবই জরুরী। এই বিজ্ঞাপন বা ফেসবুক বুষ্টিং এর জন্য খরচ ২০০০ টাকা। আবার আপনার অন্যান্য জরুরী খরচ ১০০০ টাকা। সবমিলিয়ে আপনাদের দাঁড়ানো ১০ হাজার টাকা। কিভাবে আপনি মাত্র দশ হাজার টাকা বিলিভ করে আপনি এই পেশাটি শুরু করতে পারেন এবং এখান থেকে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

সার্ভিস মডেল

আপনি টিউশন পেশাটি দুইভাবে করতে পারেন। প্রথমত আপনি বাসায় গিয়ে পড়াতে পারেন দিতে হতো আপনি একটা ছোট্ট রুমে পড়াতে পারেন।

আমরা যখন বাসায় গিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াবেন সেক্ষেত্রে আপনার খরচ কম হবে। আপনি যদি খরচ চান তাহলে আপনি বাসায় গিয়ে গিয়ে পড়াতে পারেন তবে এক্ষেত্রে আপনার ইনকাম কিছুটা কম হবে।

অপরদিকে আপনি যদি একটি ছোট ঘর ভাড়া নেন বা আপনার নিজের যদি একটা ঘর থাকে সেখানে আপনি একসাথে পাঁচ থেকে দশজন শিক্ষার থেকে পড়াতে পারবেন এক্ষেত্রে যদিও আপনার খরচ কিছুটা বাড়বে কিন্তু এ ক্ষেত্রে আপনার ইনকাম বেশি হবে।
আপনার উপরে উল্লেখিত দুটির মধ্যে যেকোন একটি উপায় বেছে নিতে পারেন অথবা দুইটি একসাথেও করতে পারেন।

মার্কেটিং এর কৌশল

বর্তমানে মার্কেটিং ছাড়া কোন কাজেই সফল করে হচ্ছে না। তাই আপনাকে আপনার টিউশনের ক্ষেত্রেও মার্কেটিং করা প্রয়োজন। ক্ষেত্রে আপনি প্রথমে প্রথমে আপনার পরিচিতদের দিয়ে প্রচারণা শুরু করুন। এরপর আপনার স্থায়ী স্কুলের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ করুন আপনার ফেসবুকে একটি পেজ খুলে সেখানে নিয়মিত ছাত্রদের রেজাল্টের উন্নতি করার বিষয়ে পরামর্শ ছাড়াও বিভিন্ন বিষয়ে টিপস দিন। এছাড়াও পোস্টার এর মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আরো একটি বড় কাজ করতে পারেন যেটি আমরা সবাই উপভোগ করে থাকি সেটা হল ডিসকাউন্ট সিস্টেম। আপনি প্রথম মাসে কিছুটা ছাড় দিয়ে ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনা করলে দেখবেন আপনার কাছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

এভাবে আপনি প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করুন এবং পর্যায়ক্রমে সেটি কোচিং গেয়ে পরিণত করার চেষ্টা করুন। এবং আপনার সহকারি হিসেবে কিছু শিক্ষক দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আলাদা আলাদা ক্লাস নেয়া শুরু করুন এতে করে আপনার আয় দিন দিন বৃদ্ধি পাবেন।

সবজি বিক্রয়ের ব্যবসা

আপনি বাসায় থেকে ১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে যে কাজগুলো করতে পারবেন তার মধ্যে অন্যতম একটি লাভজনক ব্যবসা হল সবজি বিক্রয়ের ব্যবসা। আপনি প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা লাভবান হতে পারেন এই সবজি বিক্রির ব্যবসাতে। তাহলে চলুন আমরা সবজি বিক্রয়ের ব্যবসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।

ব্যবসার ধারণা ও সুযোগ

আমাদের দৈনন্দিন যে সকল চাহিদা রয়েছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উন্নতম চাহিদা হল স্বদেশ ও টাটকা সবজি। প্রতিদিন প্রতিটি পরিবারেই বিভিন্ন ধরনের সবজি প্রয়োজন হয়। তাই এ ব্যবসাটির চাহিদা কোনদিনই কমবে না। যেহেতু এটি বহু চাহিদা রয়েছে তাই আপনি আপনার নিকটস্থ কোন আহাট কিংবা খামার থেকে ও টাটকা সবজি ক্রয় করে বা নিজ এলাকায় সেটা বিক্রি করে লাভবান হতে পারেন। এটা সবচাইতে বড় সুবিধা হল এখানে বাকিগুলো লেনদেন হয় না যেটা হয় সব কিছু নগদ হয়। টাটকা ভেজালমুক্ত সবজি ক্রয় করে সাশ্রয় মূলে বিক্রি করেন তাহলে আপনার কাস্টমার সংখ্যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার আয়ও বৃদ্ধি পাবে।

সবজি সরবরাহের কৌশল

আপনি যেহেতু সবজির বিক্রয়ের ব্যবসা করবেন সে ক্ষেত্রে আপনার চেষ্টা করবেন প্রতিদিন সকালবেলায় আপনার নিকটস্থ স্থায়ী হাট বা সরাসরি খামার থেকে টাটকা সবজি সংগ্রহ করা। এতে করে আপনার প্রাকৃত সবজির গুণগত মান অর্থাৎ কাঁচামালের গুনাগুন অক্ষত থাকবে। আপনি নিয়মিত সবজির মালিক বা খামারিদের সাথে যোগাযোগ করুন এতে করে আপনার পুরো মৌসুমে সতেজ সবজি সরবরাহ করতে পারবেন এবং আপনি আপনার নিকটস্থ বাজারে বিক্রি করতে পারবেন না।

প্রাথমিক বিনিয়োগ ১০ হাজার টাকা

আপনি যেহেতু প্রথমে ১০ হাজার টাকা দিয়ে সবজির ব্যবসা শুরু করবেন তাহলে চলুন উদাহরণ হিসেবে দেখা যাক কোন জিনিস কি পরিমানে কিনবেন। আপনার ১০ হাজার টাকার বাজেট এমন হতে পারে যেমন কাঁচামাল 6 হাজার টাকা। টেবিল, ছাতা, ব্যানার ,চেয়ার 1500 টাকা। প্যাকেট, বস্তা ,ওজনের ইউনিট স্কেল ১ হাজার টাকা। জরুরী কাজের জন্য ৫০০ টাকা। তাহলে আমরা সব মিলিয়ে হলো 9000 টাকা। বাকি ১০০০ টাকা আপনি আপনার অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে খরচ করার জন্য রিজার্ভ থাকে।

সবজির দাম নির্ধারণ ও লাভের অংশ সতর্ক গণনা

মনে করুন আপনি যে সবজির দোকান দিয়েছেন সেখানে আপনি সকল সবজি মিলে ১০০ কেজি সবজি ক্রয় করেছেন। আপনার এ ১০০ কেজি সবজির মোট দাম ৬০০০ টাকা। তাহলে আপনার প্রতি কেজি সবজির গড় দাম পরল ৬০ টাকা। আপনার শচীন বিক্রয় মূল্য ধরুন ৮০ টাকা। তাহলে প্রতি কেজি সবজিতে আপনার লাভ হল ২০ টাকা। যদি আপনি প্রতিদিন সর্বনিম্ন ২০ কেজি সবজি বিক্রয় করেন সে খেলে আপনার লাভ হবে ৪০০ টাকা। তাহলে আমরা প্রতি মাস অর্থাৎ ৩০ দিনে মোট লাভ হবে 12 হাজার টাকা।

এভাবে আপনি খুব সহজেই মাত্র ১০ হাজার টাকায় লাভজনক এ পেসারি শুরু করতে পারেন। অবশ্য আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে সবজি আপনি ক্রয় করবেন সেটি যেন প্রতিদিন শেষ হয়ে যায়। সবজি পচনশীল। সবজি বাসি হলে পচে যেতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনি লসের সম্মুখীন হতে পারেন তাই আপনাকে এদিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে এবং কাস্টমারদের সাথে সৎ ব্যবহার ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে।

ছোট্ট কসমেটিক /গিফট শপ

আমরা ১০ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে যে সকল ব্যবসা শুরু করতে পারেন তার মধ্যে একটি ব্যবসা হলেও ছোট্ট কসমেটিক্স বা গিফট শপ। ভালো চলুন আমরা জেনে নেই আপনি ছোট্ট কসমেটিক্স বা গিফট সপ দোকানটি কিভাবে চালু করবেন।

ব্যবসার ধারণা ও সম্ভাব্যতা

আপনি যদি কম পুজিতে কোন ব্যবসা করা চিন্তা করেন তাহলে ছোট্ট কসমেটিক স বা গিফট শপ হতে পারে আপনার চয়েজ। আপনি খুব সহজেই আপনি এই সকল পণ্য অনলাইনে বা লোকাল বাজারে বিক্রয় করতে পারবেন। আপনি যদি এ সকল পণ্য পাইকারি বাজার থেকে ক্রয় করেন ক্ষেত্রে আপনি বেশ ভালো ধরনের লাভবান হতে পারবেন। তাই আপনি যদি এ ব্যবসাটি শুরু করতে চান তাহলে আমি মেয়ে অবশ্যই পাইকারি বাজার থেকে ক্রয় করার চেষ্টা করবেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ ১০ হাজার টাকা

আপনি যখন এ ব্যবসাটি শুরু করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি কিভাবে কি করবেন বা কত টাকার পণ্য করবেন সে সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা নেয়া যাক। পাইকারি বাজার থেকে কসমেটিক স পণ্য কিনলেন ৬ হাজার টাকা। প্যাকেজিং এবং লেভেল খরচ হল আপনার এক হাজার টাকা। আপনার ফেসবুক পেজ ও ছবির শুটিং এবং ফেসবুক বুষ্টিং এর জন্য খরচ ১৫০০ টাকা। আপনার রির্জাব রাখলেন ৫০০ টাকা। আপনার টেবিল বা ডিসপ্লে দের জন্য খরচ হল এক হাজার টাকা। তাহলে আপনার মোট খরচ ১০০০০ টাকা। প্রথম অবস্থায় ১০ হাজার টাকার বিনিয়োগ করে এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন।

ফল বিক্রির ব্যবসা

১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি আরো একটি মজার ব্যবসা করতে পারেন সেটি হচ্ছে ফল বিক্রির ব্যবসা। ১০ হাজার টাকা আপনি যদি প্রথম অবস্থায় বিনিয়োগ করে এই ব্যবসাটি শুরু করে মোটামুটি একটু ভালো ধরনের অ্যামাউন্ট কেমনে লাভ করতে পারবেন।

ব্যবসার ধারণা ও সুযোগ

আমরা দৈনন্দিন জীবনে যে সকল স্বাস্থ্যকর খাবার খায় তার মধ্যে ফল হল অন্যতম। এর ফল গুলোর মধ্যে রয়েছে আম কাঁঠাল কমলা আপেল তরমুজ আঙ্গুর পেয়ারা। দৈনন্দিন জীবনে এ সকল ফল গুলোর ব্যাবস চাহিদা রয়েছে সারা বছর। বিশেষ করে যারা শহরে বাস করেন তারা টাটকা ফল খেতে খুব ভালবাসেন এবং তাই দ্বারা সব সময় টাটক ফল কিনতে আগ্রহী হয়। তাই আপনি এই বহুল চাহিদামুখী ব্যবসাটি ১০ হাজার টাকা দিয়ে স্বল্প পরিসরে শুরু করতে পারেন আপনার এলাকায় কিংবা অনলাইনেও আপনি এটি শুরু করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ

আমরা যখন এই ব্যবসাটি শুরু করবেন তখন আমরা অবশ্যই জানার প্রয়োজন রয়েছে আপনি কত টাকা দিয়ে ফল কিনবেন এবং কোন খাতে কত টাকা খরচ করবেন। এ বিষয়ে ছোট্ট একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা করি। আমি যখন এই ব্যবসাটি প্রথম শুরু করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি ছয় থেকে সাত হাজার টাকার মৌসুমীর ফল কিনুন। আর বাকি যে টাকা আছে সেখান থেকে আপনি আপনার প্রাথমিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করুন এবং কিছু টাকা জরুরি প্রয়োজনের জন্য রেখে দেন। এভাবে আপনি খুব সহজে মাত্র 10000 টাকা দিয়ে ফলে বিক্রয়ের ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

লভ্যাংশ ও মূল্য নির্ধারণ

আপনি যখন প্রথম অবস্থায় ফল বিক্রয়ের ব্যবসা শুরু করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি কিভাবে ফলের মূল্য নির্ধারণ করবেন সে সম্পর্কে আপনার ধারণা থাকা প্রয়োজন। আপনার সামনে বিভিন্ন ধরনের ফলের আইটেম থাকতে পারে তার মধ্যে একটি উদাহরণ তুলে ধরা হলো। মনে করুন আপনি ২০ কেজি আপেল কিনবেন এবং আপেলের মূল্য হল 2 হাজার টাকা। তাহলে প্রতি কেজি আপেলের মূল্য দাড়ালো ২০০ টাকা। আপনি এটি বিক্রি করবেন প্রতি কেজি ২৫০ টাকায়। তাহলে প্রতি কেজিতে আপনার লাভ হল ৫০ টাকা। আপনি যদি প্রতিদিন বৃষ্টি ঝাপের বিক্রয় করতে পারেন তাহলে আপনার লাভ হবে এক হাজার টাকা। এবং ৩০ দিনে আপনার লাভ দাঁড়াবে ৩০ হাজার টাকা।

ঝুঁকি ও প্রতিকার

ফল বিক্রয়ের প্রধান যে ঝুঁকি হলো সেটা হলো ফল পচে যাওয়া। কারণ ফল প্রথম শীল দ্রব্য। তাই আপনি চেষ্টা করবেন কম পচনশীল ফল ক্রয় করার। যেমন আপেল কমলা আঙ্গুরের মতো ফল। আপনি যদি ডেলিভারি সিস্টেমটা চালু করেন সে ক্ষেত্রে আপনার স্টক খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তাই আপনি এটি চালু রাখার চেষ্টা করবেন।

জুস বা স্মুদি কর্নার

আপনার কাছে যদি ১০ হাজার টাকা থাকে তাহলে আপনি জুস বিক্রির ব্যবসাটি চালু করতে পারেন। কেননা এতে বাজেট কম কিন্তু লাভ হয় বেশি।

ব্যবসার ধারণা ও সুযোগ

তীব্র গরমের সময় জুসের চাহিদা অনেক। আপনি যেকোনো স্কুল কলেজ কিংবা মার্কেট অথবা ব্যস্ত এলাকায় এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। আমরা জুতা যদি কোয়ালিটি ভালো হয় এবং কোন মানে অনন্য হয় তাহলে আপনার জনপ্রিয়তা খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

প্রাথমিক বিনিয়োগ ১০ হাজার টাকা

অপরিচিতি দশ হাজার টাকার মালিক হন তাহলে এর সামান্য পজিটে তা বলে জোটের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার জুস মেশিন বা ব্লেন্ডারের জন্য তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হবে। আপনি যখন প্রথম পর্যায়ে শুরু করবেন সে ক্ষেত্রে আপনার গ্লাস কিংবা কাপ করার জন্য এক হাজার টাকা। সিভিল বাস্টল এর জন্য দুই হাজার টাকা এবং প্রাথমিক অবস্থায় ফল প্রয়ের জন্য তিন হাজার টাকা এভাবে হবে মাত্র ১০ হাজার টাকার দিয়ে এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন খুব সহজেই।

লভ্যাংশ ও মূল্য নির্ধারণ

আপনি যখন এ ব্যবসাটি শুরু করবেন তখন আপনার এই ব্যবসা সম্পর্কে কোন ধারণাই থাকবে না এবং সে ক্ষেত্রে আপনার জুসের মূল্য নির্ধারণ করা ও খুব কষ্টকর হয়ে যাবে সেজন্য আমরা এখন আপনার জন্য মূল্য নির্ধারণ বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা। মনে করুন আমনে এক গ্লাস জুস তৈরি করছেন সেখানে আপনার খরচ হলো ১৫ টাকা ( কমলা+ চিনি+ পানি+ কাপ) এক্ষেত্রে আপনি প্রতিকার জুস এর বিক্রয় মূল্য ধরবে ৩০ টাকা। তাহলে আপনার প্রতিটা জুসের লাভ হলো ১৫ টাকা। আপনি যদি প্রতিদিন ৫০ প্লাস জুস বিক্রি করতে পারেন তাহলে আপনার প্রতিদিনকার লাভ হবে ৭৫০ টাকা এবং মাসিক হিসেবে সেটা দাঁড়াবে প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি। তাহলে বুঝতে পারছেন তো জুস ব্যবসা কতটা লাভজন। তাই আপনার কাছে যদি 10 হাজার টাকা থেকে থাকে তাহলে আপনি এই দশ হাজার টাকা দিয়েই এই লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

কফি বা চা বিক্রি ব্যবসা

শহরে কিংবা গ্রামে প্রতিটা এলাকাযর মানুষ চা খেতে পছন্দ করে। এর চাহিদা কখনো নিম্নমুখে নাই সর্বদা ঊর্ধমাকে। তাই আপনার কাছে যদি মাত্র কিছু টাকা থাকে তাহলে আপনি ছোট পরিসরে চা বা কফি বিক্রির ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ব্যবসার ধারণা ও সুযোগ

বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি প্রাণী হল চা। আপনি গ্রামে কিংবা শহরের ছোট্ট পরিসরে একটি চা বা কফির দোকান দিয়ে শতশত গ্রাহকদের সার্ভিস দিতে পারেন। এ ব্যবসায় খরচ কম হলেও লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। কোথায় আপনি বেকার না বসে থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করে এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ ১০ হাজার টাকা

আপনি যদি এই চাপা কফির দোকান দিয়ে চা বা কফি বিক্রি করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনাকে কিছু জিনিস ক্রয় করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি আপনার 10000 টাকা বাজেট দিয়ে একটি ছোট টেবিল ,গ্লাস ,কেটলি, কাপ, প্লেট, চাপাতি, দুধ, চিনি আরো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করে এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

লভ্যাংশ ও মূল্য নির্ধারণ

মনে করুন তাহলে এক কাপ চা তৈরি করছেন এবং এক কাপ চা তৈরি করতে আপনার খরচ হল তিন টাকা। এক্ষেত্রে আপনি এক কাপ চায়ের বিক্রয় মূল্য ধরলেন ১০ টাকা। তাহলে প্রতিকার চায় আপনার লভ্যাংশ হলেও সাত টাকা। আপনি যদি প্রতিদিন ২০০ কাপ চা বিক্রি করেন সেক্ষেত্রে আপনার মোট লাভ হলো ১৪০০ টাকা এবং মাসিক লাভ দাঁড়ালো আপনার ৩০ হাজার টাকার বেশি। আর যদি আপনি এর সাথে কফি বিক্রি করেন কপিতে লভ্যাংশ আরো বেশি হয়। কে আপনি চা ও কফি দুটোই বিক্রি করে প্রচুর পরিমাণ লাভবান হতে পারবেন।

আইসক্রিম কর্নার বা আইসক্রিমের ব্যবসা

আমরা যদি বেকার থাকেন আপনি এবং আপনার চাকরি যদি ভালো না লাগে সে ক্ষেত্র খুবই কম বাজেট মাত্র ১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি আইসক্রিমের ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন। এটি একটি খুবই ক্লাবজনক ব্যবসা যদি আপনি ঠিকমতো করতে পারেন। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই আইসক্রিম ব্যবসা সম্পর্কে যে কিভাবে শুরু করবেন এবং কত টাকা বেনিফিট হবে এ সকল সম্পর্কে।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

আইসক্রিম ব্যবসা হচ্ছে মূলত একটি মৌসুম করে গ্রীষ্মকালে এর চাহিদা। আপনি তাই গ্রীষ্মকাল থেকে শুরু করতে পারেন আইসক্রিম বিক্রয়ের ব্যবসা কি। এক্ষেত্রে আপনাকে একটু ভালো লোকেশন সিলেক্ট করতে হবে যেখানে আপনি ভালো মানের বা ব্র্যান্ডেড আইসক্রিম হোমমেড আইসক্রিম কেক ফ্লাইট বা ফলের জুস বিক্রি করতে পারবেন। তবে আপনার প্রথম লক্ষ্য হবে গ্রীষ্মকালে টার্গেট। গ্রীষ্মকালে আইসক্রিম বিক্রি করে আপনি যে টাকা বেনিফিট হবেন সেই টাকা দিয়ে আপনি আরো কিছু সার্ভিস যোগ করতে পারবেন ফলে আপনি সারা বছর আইসক্রিম কর্নারে ব্যবসা করতে পারব।

বাজার বিশ্লেষণ

আইসটম মূলত শিশু ও তরুণরা খুব পছন্দ করে। তাই আপনি আপনার আইসক্রিমের দোকান দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে নজর রাখবেন যেন সেটা স্কুল কলেজ পার্ক কিংবা বাজারের সামনে হয় অথবা মেলার আশেপাশে। আপনি যদি ভালো লোকেশনে ব্যবসা শুরু করেন আপনি লাভবান হবেন তাই আপনার জায়গা সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে বিশেষ নজর রাখতে হবে।

প্রাথমিক বিনিয়োগ বা পরিকল্পনা

যেহেতু আপনার বাজেট ১০ হাজার টাকা তাহলে চলুন দেখে নেই আপনি 10000 টাকার মধ্যে দিয়ে কি কি ক্রয় করে আপনার ব্যবসায়ী শুরু করতে পারবেন। আইসক্রিম রাখার জন্য অবশ্যই আপনার একটা ফ্রিজের প্রয়োজন হবে সে ক্ষেত্রে আপনার ছোট একটি ক্রয় মূল্য ধরা যাক 5000 টাকা। আপনার জন্ম এবং কোন বানানোর খরচ ১৫০০ টাকা। প্রথম অবস্থায় আইসক্রিম স্টক করুন ২৫০০ টাকার। কাপ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন সার্ভিস সামগ্রী ক্রয় করুন ৫০০ টাকা। এবং আপনার অন্যান্য জরুরী কাজের জন্য রিজার্ভ ৫০০ টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে আপনের মোট বাজেটে দাঁড়ালো ১০০০০ টাকা। এই ১০ হাজার টাকা দিয়ে আপনি প্রথম পর্যায়ে আপনার ব্যবসাতেই স্টার্ট করতে পারবেন।

আপনার দৈনন্দিন ও মাসিক খরচ

আপনি যখন আপনার আইসক্রিম কর্নার চালু করবেন তখন আপনার স্টোকের প্রতি নজর রাখতে হবে এবং প্রতিদিন স্টক রিফিল করতে হবে। ধরা যাক আপনার মাসিক বিদ্যুৎ বিল ১৮০০ টাকা এবং আনুষঙ্গিক খরচ 1200 টাকা তাহলে সব মিলিয়ে আপনার প্রতি মাসে মোট খরচ ৯ হাজার টাকা। তবে মৌসুম ভেদে আপনার খরচ উঠানামা করতে পারেন।

আয় ও ব্যয়ের সম্ভাব্য নমুনা গণনা

আপনি যেহেতু আপনার আইসক্রিম কর্নারের ব্যবসা শুরু করেছেন তাহলে আপনার জানা প্রয়োজন যে আপনার ব্যবসাটি তে লাভের সম্ভাবনা কেমন বা লাভের পরিমাণ কেমন হবে। চলুন এর একটি সংক্ষিপ্ত ধারণা নেয়ার। মনে করুন আপনি প্রতিদিন ৬০ করে আইসক্রিম বিক্রি করেন। আপনি প্রতিটি আইসক্রিমে লাভ করেন ১৫ টাকা। তাহলে আপনার ৬০ আইসক্রিমের লাভ হলো ৯০০ টাকা। এভাবে আমরা ৩০ দিনে সর্বমোট লাভ হলো 27000 টাকা। আপনার প্রতি মাসে খরচ ছিল ৯ হাজার টাকা এবং আপনি লাভ করলে ২৭হাজার টাকা। তাহলে আপনার খরচ বাদে মোট লাভ দাঁড়ালো 18000 টাকা। তবে শীতের সময় আপনার লাভের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। অন্যদিকে আপনি যদি শীতের সময়ে উপযোগী কিছু জিনিস বিক্রয় শুরু করেন সে ক্ষেত্রে আপনার লাভের পরিমাণ আবার বৃদ্ধ।

মার্কেটিং এর কৌশল

আপনি যখন আপনার আইসক্রিম কর্নারটি চালু করবেন সে ক্ষেত্রে আপনার দোকানটিতে শিশুসুলভ রঙ্গিন ব্যানার এবং স্কুল বা পার্কে কম্ব অফার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। আমরা যখন কোন ধরনের কম প্যাকেজ দিবেন তখন দেখবেন আপনার বিক্রির পরিমাণ অটোমেটিক্যালি বেড়ে যাবে এবং আপনি বেশ ভালো লাভবান হবেন তাই আপনি চেষ্টা করবেন মাঝে মধ্যে কিছু অফার দেওয়ার।

খেলনা বিক্রয়ের ব্যবসা ১০ হাজার টাকায়

আপনি ১০ হাজার টাকার মধ্যে যদি একটি লাভজনক ব্যবসা শুরু করতে চান সেক্ষেত্রে খেলনা বিক্রয়ের ব্যবসাটি হতে পারে আপনার জন্য। তাহলে চলুন খেলনা বিক্রয়ের ব্যবসা সম্পর্কে কিছুটা জানার চেষ্টা করি।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

খেলনা বিক্রয়ের ব্যবসাটি হচ্ছে খুবই সহজ ও সাবলীল একটি ব্যবসা। এক্ষেত্রে আপনি পাইকারি উৎস থেকে সামান্য কিছু খেলনা স্ট্রোক করে বিভিন্ন স্কুল কলেজ বাজার মেলা কিংবা অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার কে শিশুদের পছন্দের বিষয়টি নজর রাখতে হবে। কেননা শিশুরাই হলো আপনার মূল লক্ষ। তাই আপনি শিশুদের পছন্দ অনুযায়ী খেলনা রেখে একটি পজিটিভ রিভু তৈরি করুন এবং পর্যায়ক্রমে আপনার বৃদ্ধি করে আরো বৈচিত্র আকারে ব্যবসা শুরু করুন।

বাজার বিশ্লেষণ

ছোট বাচ্চাদের খেলনা খুবই পছন্দ তাই আপনি সবসময় চেষ্টা করবেন শিশুদের জন্য নিত্য নতুন খেলনা আপনার স্টকে রাখুন‌। ‌ ছোট বাচ্চাদের জন্য খেলনা ক্রয় করে সাধারণত তাদের পিতা মাতা কিংবা আত্মীয়-স্বজন। তাই আপনি আমরা খেলনা বিক্রয়ের জন্য আপনার ফেসবুক বা youtube এ এর প্রচারণা করতে পারেন অথবা মেলা অথবা স্কুল কলেজের সামনেও ফিজিক্যালি বিক্রি করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আপনি তাহলে যেহেতু দশ হাজার টাকা বাজেটের মধ্যে আপনার খেলার ব্যবসাটি চালু করতে চাচ্ছেন সে ক্ষেত্রে তুলুন আমরা জেনে নেই দশ হাজার টাকার মধ্যে আপনি কিভাবে করবেন। আপনি প্রথমে পাইকারি বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের নতুন আইটেমের খেলনা কেমন ৮০০০ টাকার। আপনার দোকানের ডিসপ্লে বা স্টক সেটআপ খরচ ৭০০ টাকা। প্যাকেজিং জিনিসপত্র 300 টাকা। আপনি যেহেতু অনলাইনেও ব্যবসাটি শুরু করবেন সেজন্য বিজ্ঞাপন এবং ফেসবুক বুস্টিং এর খরচ ৭০০ টাকা এবং আপনার জরুরী খরচের জন্য মজুদ ৩০০ টাকা। সব মিলিয়ে আপনার খরচ হল ১০ হাজার টাকা। আপনি এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি আপনার ব্যবসাটি শুরু করতে পারবেন।

আয় ও ব্যয়ের সম্ভাব্য নমুনা গণনা

আপনি যেহেতু ব্যবসাটি শুরু করেছেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে আপনার প্রতি মাসে কেমন লাভ হবে। তাহলে চলুন আমরা লাভের পরিমাণটা আনুমানিক গণনা করা যায়। মনে করুন আপনি প্রতিদিন ২০ পিস খেলা বিক্রি করেন। প্রতি পিস খেলায় আপনার লাভ ৪০ টাকা। তাহলে ২০ পিস খেলায় প্রতিদিন আমরা লাভ হয় ৮০০ টাকা। ৩০ দিনে আমরা লাভ হয় ২৪ হাজার টাকা। মনে করুন প্রতিমাসে আপনার বিভিন্ন ধরনের খরচ ২ হাজার টাকা। তাহলে আপনার প্রতি মাসে খরচ বাদে লাভ হয় ২২ হাজার টাকা। তাহলে বুঝলেন তো ইনভেস্ট করলে মাত্র ১০ হাজার টাকা কিন্তু প্রথম মাসে লাভ করলেন ২২ হাজার টাকা। তবে লাভের টাকা সম্পূর্ণ খেয়ে ফেলবেন না আপনি আপনার স্ট্রোকের প্রতি নজর রাখবেন এবং পুনরায় অর্থায়ন করবেন এবং আপনার স্টক বৃদ্ধি করবেন।

উপরে উল্লেখিত আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চয়ই বলতে বুঝতে পারলেন যে মাত্র ১০ হাজার টাকায় খেলনা ব্যবসা শুরু করে আপনি কতটা লাভবান হতে পারেন। তাই সময় অতিবাহিত না করে আপনার কাছে যদি ১০ হাজার টাকা থাকে তাহলে আপনি সেটা দিয়ে খেলনা বিক্রয়ের ব্যবসা শুরু করুন।

মহিলাদের বুটিক বা সেলাইয়ের কাজ

যারা মহিলারা আছেন তাদের জন্য বুটিক বা মেশিনের কাজ হতে পারে আপনার জন্য আয়ের অন্যতম বড় একটি উৎস।

ব্যবসা ধারণা ও লক্ষ্য

মহিলাদের বুটিক বা সেলাইয়ের কাজ হলো একটি স্থায়ী শিল্পকলা চাহিদা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আপনার মাত্র ১০ হাজার টাকার মাধ্যমে এই সেলাইয়ের কাজটি শুরু করতে পারেন এবং পর্যায়ক্রমে এটাকে ওখানে বৃদ্ধি করতে পারেন।

বাজার বিশ্লেষণ

আপনি যখন এই কাজটি শুরু করবেন সে ক্ষেত্রে আপনার মূল টার্গেট হবে তরুণী, নববিবাহিত দম্পতি, উৎসবকালীন গ্রাহক । আপনি যখন এই কাজটি শুরু করবেন সে ক্ষেত্রে ছোট শহর বা শহরের আবাসিক এলাকায় শুরু করার চেষ্টা করবেন কেননা ছোট শহর কিংবা আবাসিক এলাকায় কাস্টম সেলাই ও মেরামত খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এবং আপনার কাজের মান যদি ভাল হয় তাহলে আমরা গ্রাহক প্রতিদিন বৃদ্ধি পাবে। এক্ষেত্রে আপনি অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের ডিজাইনের ছবি দেখিয়ে লোকাল ফেসবুক বা গ্রুপে শেয়ার করতে পারেন এক্ষেত্রে আপনার কাস্টমার বৃদ্ধি পাবে। আপনার কাজের গুণগত মান ও সেবা এবং সময়মতো ডেলিভারি প্রতিযোগী নজর দেন তাহলে আপনি অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে উঠতে পারবেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আপনার কাছে যদি ১০ হাজার টাকা থাকে এবং আপনি যদি অন্য কোন কাজের দিশা খুঁজে না পান সে ক্ষেত্রে আপনি এই কাজটি করতে পারবেন। যেহেতু আপনার কাছে 10000 টাকা আছে এবং আপনি এর সঠিক পরিকল্পনা জানেন না সে ক্ষেত্রে চলুন এর সঠিক পরিকল্পনা সম্পর্কে সামান্য কিছু আলোচনা করার যাক। আমরা সেলাই মেশিন করাই খরচ ৬০০০ টাকা প্রাথমিক কিছু কাঁচামাল যেমন সুতা বাটন জিপার ইত্যাদি এক হাজার টাকা প্রাথমিক স্টক যেমন কিছু হোমমেড প্রেস ১৫০০ টাকা আপনার ছোটখাটো বিজ্ঞাপন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বাজেট এর জন্য ৫০০ টাকা এবং আপনার জরুরি কাজের জন্য ১০০০ টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে আপনার খরচ দাড়ালো ১০০০০ টাকা। পরিকল্পনা অনুযায়ী মাত্র ১০ হাজার টাকা মাধ্যমে বুটিকের কাজ বা শেলামেশনের কাজটি শুরু করতে পারেন।

পশু খাদ্য ফিড বিক্রয়

১০ হাজার টাকায় ২৫ টি ব্যবসার আইডিয়ার মধ্যে সবচাইত ভালো ভালো আইডিয়াটি হল পশুর খাদ্য ফিড বিক্রয় করা। বর্তমানে ফিডার চাহিদা ব্যাপকহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আপনি এই ব্যবসাটি যদি শুরু করেন খুব ভালো লাভবান হতে পারবেন।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

আপনি যখন পশুর খাদ্য বিক্রি করবেন তখন আপনার মাথায় প্রথম যে জিনিসটা আসবে সেটি হল পোল্ট্রি ডেইরি ও পোষা প্রাণীর জন্য তৈরিকৃত খামারির ফিড বিক্রি করার কথা। এই ফিডগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গ্রেইন, কনক্রিটেড ফিড, ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট। আপনি যখন এ ব্যবসাটা শুরু করবেন তখন আপনার কে লোকাল ফার্মার ও পোল্ট্রি খামারিদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং তাদেরকে ছোট ব্যাচ আকারে কাভার করতে হবে এবং পর্যায়ক্রমে স্টক বৃদ্ধি করে সাপ্লাই চ্যানেল তৈরি করতে হবে।

বাজার বিশ্লেষণ

আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন যে পশুর খাদ্য চাহিদা ব্যাপকভাবে দিন ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। লোকাল এলাকার জনসাধারণ কিংবা বিভিন্ন খামারের মানুষরে এখন ফিড নির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই আপনি এদের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আপনার কাছে যদি ১০ হাজার টাকা থেকে থাকে তাহলে আপনি এই ব্যবসাটি ছোট্ট পরিসরে শুরু করতে পারেন। তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই ছোট্ট পরিসরে কিভাবে এ ব্যবসাটি শুরু করবেন সেই সম্পর্কে। প্রথমে আপনি স্টক হিসেবে 7000 টাকার ফিড ক্রয় করুন। প্যাকেজিং এবং স্কেল খরচ ১০০০ টাকা। স্থায়ী ডেলিভারি ব্যাগ পাঁচশত টাকা। স্যাম্পল বা ও ডেমো খরচ ৫০০ টাকা। অন্যান্য কাজের জন্য জরুরি রিজার্ভ ১ হাজার টাকা। সব মিলে আমাদের খরচ দাড়ালো ১০০০০ টাকা। আপনি এই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম অবস্থায় ছোট পরিসরে আপনি আপনার ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

আয় ও ব্যয়ের সম্ভাব্য নমুনা গণনা

ধরুন আপনি যে ফ্রি টি ক্রয় করলেন সেই ফিতির প্রতি কেজি ক্রয় মূল্য ৩০ টাকা এবং আপনি এটি বিক্রি করলেন প্রতি কেজি ৩৬ টাকা। তাহলে প্রতি কেজিতে আপনার লাভ হলো ৬ টাকা। আপনি যদি প্রতিদিন পঞ্চাশ কেজি ফিড বিক্রি করেন সেক্ষেত্রে আপনার দৈনন্দিন লাভ হবে ৩০০ টাকা। এভাবে ৩০ দিনে আমরা সর্বমোট লাভ হল ৯ হাজার টাকা। আপনার আনুমানিক মাসিক খরচ যদি ২৫০০ টাকা হয় তাহলে আপনার খরচ বাদে মোট লাভ দাঁড়াবে 6500 টাকা। এভাবে আপনি জরি বড় ফিট কোম্পানির সাথে চুক্তি করে এটি বৃদ্ধি করেন তাহলে আপনার লাভের পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে।

মার্কেটিং এর কৌশল

আপনি যদি আপনার এ ব্যবসাটিকে আর বড় করতে চান সে ক্ষেত্রে আপনি সরাসরি ফার্ম মালিকদের সাথে চুক্তি করুন এবং ফিট টেস্টিং স্যাম্পল বিনামূল্যে দিন। এছাড়াও আপনি আপনার স্থায়ী কৃষি হাট বা ফার্মের হেল্প ডে এর জন্য একটি স্টল নিন। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ করে ফেসবুকে কৃষিক গ্রুপে আপনার রিভিউ শেয়ার করুন এবং হোলসেলারদের সাথে অংশীদারিত্ব করুন। এভাবে যদি আপনি আপনার ব্যবসাটির প্রচার-প্রচারণা চালান সে ক্ষেত্রে আপনি আপনার ব্যবসাটিকে আরো প্রসারিত করতে পারবেন।

ডিম বা পোল্ট্রি ব্যবসা ছোট আকারে ১০ হাজার টাকার মধ্যে

আপনি আপনার বারের আশেপাশের পরিত্যক্ত জায়গায় ছোট পরিসরে লেয়ার পোল্ট্রি (ডিম উৎপাদন) বা ব্রয়লার (মাংস) পালন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার যেহেতু বাজেট কম সেক্ষেত্রে আপনি ৫০ থেকে ১০০ টি পোল্ট্রি দিয়ে শুরু করে পারেন। এবং এগুলো আপনার লোকাল বাজারে বিক্রি করে আপনার বাজার তৈরি করতে পারেন।

বাজার বিশ্লেষণ

ডিম খুবই একটি পুষ্টিকারে খাদ্য হিসেবে পরিগণিত হয় সে কারণে পরিবার কিংবা হোটেল রেস্তোরায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ সকল দিক বিবেচনা করে আপনি মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্রথম অবস্থায় ছোট পরিসরে এই ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

প্রাথমিক বিনা পরিকল্পনা ১০ হাজার টাকা

আপনি যেহেতু ডিম্বা পোল্ট্রির ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন এবং আপনারা হাতে আছে ১০ হাজার টাকা সে ক্ষেত্রে আপনি নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি আপনার বাজেটটি সাজিয়ে নিতে পারেন। যেমন আপনি প্রথম পর্যায়ে ৫০ টি বাচ্চা ক্রয় করলেন এবং প্রতিটি বাচ্চার ক্রয় মূল্য ৬০ টাকা তাহলে ৫০ টি বাচ্চার মোট ক্রয় মূল্য তিন হাজার টাকা। বাচ্চা পরিচর্যা কারী উপকরণের মূল্য ১৫০০ টাকা। ৩০ দিনের প্রাথমিক ফিট ২৫০০ টাকা। হাটাহাটি বা রুম বা কাভার ১০০০ টাকা ভ্যাকসিন ও মেডিসিন ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য জরুরী রিজার্ভের জন্য ৫০০ টাকা সব মিলিয়ে আপনার খরচ দাঁড়াবে ১০০০০ টাকা। এভাবে মাত্র ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে আপনি আপনার এ ব্যবসাটি প্রথমে ছোট্ট পরিসরে শুরু করতে পারবেন। এবং পর্যায়ক্রমে আপনার যদি এর ধারাবাহিকতা টা ধরে রাখেন তাহলে একসময় একজন প্রতিষ্ঠিত ডিম্বা পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবেন।

আয় ও ব্যয়ের হিসাব নমুনা গণনা

মনে করুন আপনার ৫০টি মুরগি থেকে প্রতিদিন ৪০ টি ডিম পান। প্রতিটি ডিমের মূল্য ১০ টাকা করে হলে ৪০টি ডিমের মূল্য ৪০০ টাকা এভাবে ৩০ দিনে আপনার ডিমের মূল্য হল ১২ হাজার টাকা। মাসিক খরচ ফিট ভ্যাকসিন ও অন্যান্য খরচ ৫ হাজার টাকা হলে আপনার মোট লাভ দাঁড়াবে খরচ বাদে 7000 টাকা। তবে একটা বিষয় মনে রাখবেন ডিম উৎপাদনের ক্ষেত্রে লেগিন পিরিয়ড বলে একটা কথা থাকে এই সময় প্রথম চার পাঁচ মাস আপনার খরচ কিছুটা বেশি হবে।

 অনলাইন কুরিয়ার এজেন্সি সার্ভিস

10000 টাকার মধ্যে 20 টি চমৎকার ব্যবসা আইডিয়া রয়েছে এগুলোর মধ্যে উন্নতম একটি হল অনলাইন কোরিয়ার এজেন্সি সার্ভিস। যেটি আপনি খুব সহজেই এই অল্প বাজেটের মধ্যে করতে পারেন।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

আরো একটি যে কাজটি করতে পারেন সেটি হল অনলাইন কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্সি গঠন করা। ছোট শহর এলাকার কুরিয়ার কোম্পানির প্রতিনিধিত্ব করে সমন্বয়ে ও সংগ্রহ সার্ভিস দেয় হল অনলাইন কুরিয়ার সার্ভিস এজেন্সির কাজ।

বাজার বিশ্লেষণ

বর্তমানে ই-কমার্সের বাজার বাড়ার ফলে লোকাল কুরিয়ার সার্ভিস গুলো নিয়ে চাহিদা খুব বেড়ে চলেছে। বর্তমানে দেখা যাবে ছোট্ট অনলাইন শপ এর সেলাররা নিয়মিত লোকাল কুরিয়ার সার্ভিস খুঁজে থাকেন। আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন বড় বড় কুরিয়ার সার্ভিস গুলো সকল জায়গায় তাদের রুট রাখেনা। এই ক্ষেত্রে মাঝারি ধরনের কুরিয়ার সার্ভিসের প্রয়োজন দেখা দেয়। আপনি এই কাজটাই কাজে লাগাবেন অর্থাৎ আপনি তাকে খাবেন মাঝারি ধরনের কুরিয়ার সার্ভিস চালু করা।

প্রাথমিক বিনিয়োগ

আপনি যদি অনলাইনে এজেন্সি চালু করতে চান এবং সেটা যদি ১০ হাজার টাকার মধ্যে হয় তাহলে চলুন জেনে নেই আপনি কিভাবে এটা করতে পারবেন। ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ সেটাপ এবং টেমপ্লেট ১৫০০ টাকা। স্মার্ট ফোন অথবা টপ আপের জন্য ২৫০০ টাকা।আপরা ব্যবসার লোকাল মার্কেটিং এর জন্য খরচ ১০০০ টাকা। পণ্য প্যাকেজিং খরচ পনেরশো টাকা। আপনি যে কোম্পানির সাথে কুরিয়ারের পার্টনারশিপ নিবেন সেই বাবদ ২০০০ টাকা। আপনার জরুরী কাজের জন্য রিজাভ পনেরশো টাকা। সব মিলিয় আপনার খরচ দাড়ালো ১০০০০ টাকা। এইভাবে ১০ হাজার টাকার মাধ্যমে আপনি অনলাইন কুরিয়ার সার্ভিস টি চালু করতে পারেন।

আয় ও ব্যয়ের হিসাব

মনে করুন আপনি প্রতিদিন দশটি পার্সেল হ্যান্ডেল করছেন। আপনি প্রতিটি পার্সেল এ গড় কমিশন পাচ্ছেন 40 টাকা। তাহলে 20টি পার্সেল এ আমরা মোট কমিশন ৮০০ টাকা। ৩০ দিনে আপনার মোট কমিশন চব্বিশ হাজার টাকা। মনে করুন আপনার মাসিক খরচ হয় ৫ হাজার টাকা। আপনার খরচ বাদে প্রতি মাসে লাভ হবে ১৯ হাজার টাকা। আপনি যদি প্রতিমাসে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারেন তাহলে আমরা লাভের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পাবে।

মার্কেটিং কৌশল

আপনি যখন অনলাইন কুরিয়ার সার্ভিস ব্যাটারি চালু করবেন তখন আপনি আপনার ফেসবুক পেজ বা অনলাইন শপে বিজ্ঞাপনে বুস্টিং করবেন। সাথে আপনি আপনার প্রথম সপ্তাহে কিছুটা ছাড় দিন বা অফার দিয়ে আপনি আপনার ব্যবসাটি প্রথম অবস্থায় শুরু করতে পারেন এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সেটি ক্যানসেল করতে পারেন।

হ্যান্ড মেড ক্রাফটস বা শপ

আপনি 10000 টাকার মধ্যে 20 টি চমৎকার ব্যবসা আইডিয়া নিয়ে ভাবছেন তাহলে তার মধ্যে একটি হতে পার হ্যান্ড মেড ক্রাফটস বা শপ।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

হেলমেট ক্রাফটস বলতে বোঝায় হাতে তৈরি কাস্টমাইজড ও ইকো ফ্রেন্ডলি পণ্য বানিয়ে লোকাল বা অনলাইনে বিক্রয় করা। হ্যান্ড মেড ক্রাফটস পনের মধ্যে রয়েছে জুট ব্যাগ ,হ্যান্ড মেড কার্ড, হ্যান্ড মেট পেইন্টেড, কাস্টম ওয়ান ডেকোর ইত্যাদি।

বাজার বিশ্লেষণ

আপনার লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে বর্তমানে বাজারে হ্যামমেট ক্রাফটস এর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ক্রেতারা বাজারে কাস্টম ইউনিক এবং ইকো ফ্রেন্ডলি আইটেমের দিকে ব্যাপকভাবে ঝুকেছে। বিশেষ করে উপহার হোম ডেকর এবং কর্পোরেট গিফট এর দিকে। আপনি যখন এই ব্যবসাটি শুরু করবেন সে ক্ষেত্রে আপনি ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের টার্গেট করবেন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা ১০ হাজার টাকা

আপনার যেহেতু দশ হাজার টাকার মধ্যে এ ব্যবসাটি শুরু করতে চাচ্ছেন তাহলে চলুন আমরা জেনে নেই এ প্রাথমিক পরিকল্পনার সম্পর্কে। যে আপনি কেমন পরিকল্পনা করলে কিংবা কিভাবে শুরু করতে পারবেন এই ব্যবসাটি। মনে করুন কাঁচামাল কিনলেন 4000 টাকার। আপনার প্রয়োজন একটু এবং অন্যান্য সরঞ্জাম কিনলেন বারোশো টাকার। আপনি প্যাকেজ সিং এবং লেবেল এর জন্য খরচ হলো আপনার ৮০০ টাকা। আপনার প্রোডাক্টের ফটোশুট এবং ফেসবুক বুস্টিং এক হাজার টাকা। আপনার প্রোডাক্টের ফটোশুট এবং ছবির বিভিন্ন ধরনের এডিটিং খরচ ১০০০ টাকা। এবং আপনার অন্যান্য জরুরি মজুদ খরচ রাখলেন এক হাজার টাকা। সব মিলিয়ে যদি আপনি যোগ করেন তাহলে দেখবেন আপনার টোটাল খরচ দাড়ালো 10000 টাকা। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনি ১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি আপনার বিজনেসটি শুরু করতে পারবেন।

স্টেশনারি বা কলম পেন্সিল বিক্রয়

আপনি যদি ১০ হাজার টাকার মধ্যে কোন ব্যবসা শুরু করতে পারেন তাহলে স্টেশনেরই বা পেন্সিল কলম বিক্রয় হতে পারে  আপনার ব্যবসা।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ্য

স্টেশনের দোকানটি সাধারণত ছোট কিংবা বড় ইস্কুল কলেজ বা অফিসের কাছাকাছি জায়গায়। এই দেখুন এ সাধারণত কলম খাতা পেন্সিল রুলার পার্কাইভ সামগ্রী বিক্রয় করা হয়।আপনার হবে এসব স্কুল কলেজ এবং অফিসে মাসিক ভাবে বিক্রি বাড়ানোর। সে সঙ্গে লোকাল মানুষের কাছেও এবং ছাত্র-ছাত্রীদের কাছেও বিক্রি করার টার্গেট থাকবে।

বাজার বিশ্লেষণ

আপনি যে সকল স্কুল কলেজের বা বড় অফিসের কাছাকাছি এই স্টেশনের দোকানটি দিবেন সারা বছর স্টেশনের দোকানের ব্যাপক চাহিদা থাকে। তো বিশেষ করে লক্ষ্য করলে দেখবেন যে নতুন সেমিস্টার বা শিক্ষা মৌসুমে এর চাহিদা খুবই বৃদ্ধি পায়। অনলাইনের মাধ্যমেও আপনি আপনার ব্যবসাকে বৃদ্ধি করতে পারেন। তবে আপনাকে অবশ্যই আসল পূর্ণ সরবরাহ করতে হবে যদি আপনি আপনার মার্কেটটি ধরে রাখতে চান।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

যখন এই ব্যবসাটি শুরু করবেন তখন পাইকারি সোর্স থেকে আপনার স্টেশনারি দোকানের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল যেমন কলম খাতা পেন্সিল ব্যাগ রুলার ইত্যাদি ক্রয় করুন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। আপনি আপনার দোকানের ডিসপ্লে বা রেফের জন্য খরচ ধরুন এক হাজার টাকা। আপনার প্যাকেজিং এবং আপনার দোকানের ছোট্ট পরিসরে মার্কেটিং খরচ ৫০০ টাকা। আপনার অন্যান্য খরচের জন্য রিজার্ভ ১৫০০ টাকা তাহলে সব মিলিয়ে দাঁড়ালো ১০০০০ টাকা। ১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনি আপনার স্টেশনের দোকানটি ছোট্ট পরীক্ষা শুরু করতে পারেন এবং পর্যায়ক্রমে সেটিকে বড় করে তুলতে পারবেন যদি আপনার মার্কেটিং টি আপনি ভাল করে করতে পারেন।

আয় ও ব্যয়ের সম্ভাব্য নমুনা

মনে করুন আপনি আপনার প্রতিটি পণ্যে ৩০% হারে লাভ করছেন। মনে করুন আপনি প্রতিদিন ৮০০ টাকার পণ্য বিক্রয় করছেন এক্ষেত্রে আপনার লাভ হবে ৩০% হারে 240 টাকা। তাহলে আপনার প্রতি মাসে লাভ হবে ৭২০০ টাকা। অপরদিকে আপনি যদি বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধায় অর্থাৎ আপনি যদি ২০০০ টাকা প্রতিদিন বিক্রি করেন এবং আপনি যদি ৩০% হয় লাভ করেন সে ক্ষেত্রে আপনার প্রতিদিন লাভ ৭০০ টাকা। ৩০ দিনে আপনার মোট লাভ ২১ হাজার টাকা। যদি আপনার মাসিক আনুমানিক খরচ দুই থেকে তিন হাজার টাকা হয় তাহলে আপনার মোট লাভ দাঁড়াবে ১৯ থেকে ২০ হাজার টাকা ।

ফটোকপি বা প্রিন্টিং সার্ভিস

ফটোকপি বা প্রিন্টিং সার্ভিস খুবই লাভজনক একটি ব্যবসা আপনার হাতে যদি সময় থাকে তাহলে আপনি কোন চিন্তা না করে এ ব্যবসাটি শুরু করতে পারেন।

ব্যবসার ধারণা ও লক্ষ

ফটো বা প্রিন্টিং ব্যবসা মূলত একটি কাগজভিত্তিক ব্যবসা। যেখানে আপনি সাধারণ কপি, রঙিন কপি, মেলিনেশন কিংবা ফটো প্রিন্ট করতে পারবেন। এ ব্যবসাটি করতে আপনার কোন বিষয়ে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই বা দক্ষতা অর্জনের দরকার পড়ে না।

বাজার বিশ্লেষণ

আপনি যখন ফটোকপি বা প্রিন্টিং ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন তখন আপনাকে বাজার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। যেমন কোথায় বা কোন অঞ্চলে আপনার এই কাজের চাহিদা রয়েছে। যেমন ধরুন স্কুল, কলেজ ,অফিস,কোর্ট অঞ্চলে এই কাজের চাহিদা প্রচুর থাকে। তাই আপনি যদি এই ব্যবসাটি শুরু করতে চান তাহলে এমন জায়গা দেখে আপনার জায়গাটি নির্বাচন করুন।

প্রাথমিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা

আমরা যখন যে কোন ব্যবসায়ী শুরু করতে চান না কেন সে ক্ষেত্রে আপনাকে পূর্ব কিছু পরিকল্পনা থাকতে হবে। এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী আপনাকে আপনার কাজ আকাতে হবে। আপনি যখন ফটোকপি বা প্রিন্টিং ব্যবসাটি শুরু করতে চাচ্ছেন তাহলে চলুন আমরা জেনে নিই বা আপনাকে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করি আপনি কিভাবে ১০ হাজার টাকার মধ্যে আপনার ফটোকপি বা পেইন্টিং এর ব্যবসাটি শুরু করবেন।

আপনি 10000 টাকার মধ্যে কিভাবে আপনার ব্যবসাটি সাজাবেন। আপনার প্রিন্টার মেশিন বা ফটোকপি মেশিনের দাম ছয় থেকে সাত হাজার টাকা। কাগজ ১৫০০ টাকা। টেবিল এবং চেয়ার 5 থেকে 700 টাকা আপনার সাইনবোর্ড খরচ ৩ থেকে ৫০০ টাকা। আপনার জরুরী প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচ 500 টাকা। তাহলে সব মিলিয়ে আপনার খরচ হল ১০ হাজার টাকা।

দৈনন্দিন ও মাসিক খরচ

আপনি যে ব্যবসায় করেন না কেন আপনার কিছু খরচ আছে। তাহলে চলুন আমরা আপনার এই ফটোকপি ব্যবসার মাসিক খরচের একটা প্রাথমিক ধারণা নেয়া যাক। আপনার কাগজ পোচনার বাবদ মাসিক খরচ ৩০০০ টাকা বৈদ্যুতিক বিল ১২০০ টাকা রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা। তাহলে আপনার মোট খরচ হলো আনুমানিক ৫০০০ টাকা। আপনার খরচে এটাই হবে এমন কিন্তু নয় এক্ষেত্রে আপনার খরচ কম বেশি হতে পারে।

আয় ও ব্যয়ের সম্ভাবনা (উদাহরণ)

আমরা তো এই তো পূর্বে ব্যয়ের হিসাব করেছি চলুন আমরা আয়ের ক্ষেত্রেও একটু দেখে আসি। ধরুন আপনি প্রতি পিস ফটোকপি পাঁচ টাকা করে করেন এবং আপনার প্রতি পিস কাগজের মূল্য দুই টাকা। তাহলে আপনার এক কপিতে নেট লাভ হলো তিন টাকা। তাহলে ভাবুন আপনি যদি প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ পিস ফটোকপি করতে পারবেন তাহলে আপনার লভ্যাংশ কত হতে পারে।

মার্কেটিং করার কৌশল

ডিসকাউন্ট, রেফার্যাল কার্ড দিয়া গ্রাহক টানুন। সহজ পেমেন্ট অপশন (bKash/Cash) রাখুন। স্টোর-ফ্রন্টে পরিষ্কার দাম-লিস্ট ও নম্বর রাখুন। ফিচার করা সার্ভিস (লেমিনেশন, ফটোপ্রিন্ট) আলাদা করে দেখান।

লেখকের মন্তব্য

বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বড় মূলধনের অভাব কোনো বাধা নয়, বরং সঠিক চিন্তা ও উদ্যোগই সফলতার মূল চাবিকাঠি। এই লেখায় আলোচিত 10000 টাকার মধ্যে 20 টি চমৎকার ব্যবসা আইডিয়া প্রমাণ করে যে অল্প পুঁজি দিয়েও বাস্তবসম্মত ও লাভজনক উদ্যোগ শুরু করা সম্ভব। মূলধনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিকল্পনা, পরিশ্রম, সময় ব্যবস্থাপনা এবং শেখার মানসিকতা।

ছোট পুঁজির ব্যবসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম। ব্যর্থ হলেও ক্ষতির পরিমাণ সীমিত থাকে, আর সফল হলে ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে অনলাইন ও ডিজিটালভিত্তিক ব্যবসাগুলো নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য এক অনন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে দক্ষতা ও সৃজনশীলতাই সবচেয়ে বড় সম্পদ।

আমাদের দৃষ্টিতে, এই ব্যবসা আইডিয়াগুলো শুধু আয়ের পথ নয়—বরং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার একটি বাস্তব রোডম্যাপ। তবে মনে আপনি মনে রাখবেন, কোনো আইডিয়াই রাতারাতি সফলতা এনে দেয় না। ধৈর্য, সততা এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই একটি ছোট উদ্যোগকে বড় সাফল্যে রূপ দিতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, যদি কেউ সত্যিকার অর্থে কিছু করতে চান, তবে ১০ হাজার টাকা কোনো সীমাবদ্ধতা নয়—এটি হতে পারে একটি নতুন যাত্রার প্রথম ধাপ। সঠিক সিদ্ধান্ত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপই আপনার ভবিষ্যৎ সফলতার ভিত্তি গড়ে দেবে।

Sharing is Caring

Leave a Comment