হাঙ্গেরি সর্বনিম্ন বেতন কত: ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র হাঙ্গেরি, প্রতি বছরই কাজের সুযোগ এবং উন্নত জীবনের আশায় বহু মানুষকে আকর্ষণ করছে। বিশেষ করে যারা তুলনামূলকভাবে কম খরচে ইউরোপে কর্মজীবন শুরু করতে চান, তাদের কাছে দেশটি একটি পছন্দের গন্তব্য।

আপনি যদি ২০২৬ সালে হাঙ্গেরিতে কাজ করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনার মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে হাঙ্গেরি সর্বনিম্ন বেতন কত? আর এই স্বপ্ন পূরণের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচই বা কত হতে পারে?
এই ব্লগ পোস্টে আমরা হাঙ্গেরি সরকারের নির্ধারিত সর্বশেষ সর্বনিম্ন বেতনের হার তুলে ধরব, যা ২০২৬ সালে আপনার আয়ের একটি পরিষ্কার ধারণা দেবে। একই সাথে, বাংলাদেশ বা অন্য দেশ থেকে হাঙ্গেরির ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আনুমানিক কী পরিমাণ খরচ হতে পারে, তার একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণও আমরা এখানে আলোচনা করব।
হাঙ্গেরি কাজের বেতন কত?
হাঙ্গেরিতে কাজের বেতন কাঠামোটি বেশ পরিবর্তনশীল, যা প্রধানত কাজের ক্যাটাগরি, ব্যক্তির দক্ষতা এবং তার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি কর্মীর ক্ষেত্রে এই বেতন ভিন্ন হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে, পশ্চিম ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় হাঙ্গেরিতে কাজের বেতন অপেক্ষাকৃত কম। এই বেতনের পার্থক্যই অনেক দক্ষ এবং অভিজ্ঞ প্রবাসীকে উচ্চ বেতনের প্রত্যাশায় জার্মানি, ফ্রান্স বা অন্যান্য পশ্চিম ইউরোপের দেশে চলে যেতে উৎসাহিত করছে।
তবে, ইউরোপের নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া সত্ত্বেও হাঙ্গেরির বেতন কাঠামো এশিয়ার দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে অনেক বেশি। এই উন্নয়নশীল দেশটি তাদের কর্মীদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে রেখেছে।
বর্তমানে হাঙ্গেরিতে কাজের বেতন কর্মীদের কাজের ধরন, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মোটামুটি ৯০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে যারা হাঙ্গেরির কাজের ভিসা নিয়ে সেখানে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য এই দেশের বেতন কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য যে, এই দেশে বিদেশী কর্মীদের বেতনের ক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বৈষম্য দেখা যেতে পারে।
হাঙ্গেরি সর্বনিম্ন বেতন কত
হাঙ্গেরি ইউরোপের একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং ইউরোপের মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে বর্তমান বেতন কাঠামো সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। দেশটি উন্নয়নশীল হলেও, হাঙ্গেরীয় সরকার কর্মীদের জন্য একটি সর্বনিম্ন মাসিক বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছে, যা বর্তমানে প্রায় ৬৯৮ ইউরো।
📌আরো পড়ুন👉জাপানে সর্বনিম্ন বেতন কত জানুন
সাধারণত, এই দেশে কর্মীদের সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করতে হয়। যদি কোনো কর্মী এই নির্ধারিত সময়ের বাইরে ওভারটাইম কাজ করেন, তবে তিনি স্বাভাবিক মজুরির চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন।
হাঙ্গেরিতে যেকোনো ধরনের পূর্ণকালীন কাজের ক্ষেত্রেই সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এই সর্বনিম্ন বেতন কাঠামোটি প্রযোজ্য। তবে, মনে রাখা দরকার, যারা পার্ট-টাইম কাজ করেন, তারা এই নির্ধারিত সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো অনুযায়ী নাও পেতে পারেন।
হাঙ্গেরি শ্রমিকদের বেতন কত
হাঙ্গেরি বর্তমানে শ্রমিকদের জন্য একটি ব্যাপক চাহিদার গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিশেষত, দেশটির বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইট এবং বিভিন্ন ধরনের মালিকানাধীন কাজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করার প্রচুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে হাঙ্গেরিতে কর্মরত একজন শ্রমিক প্রতি মাসে সর্বনিম্ন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ফরিন্ট থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ফরিন্ট পর্যন্ত বেতন পেয়ে থাকেন।
এই পরিমাণটি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৬ হাজার টাকা থেকে ৭৬ হাজার টাকার সমতুল্য। তবে, একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, হাঙ্গেরির মূল শহরগুলোতে কর্মরত একজন শ্রমিকের মাসিক বেতন সর্বোচ্চ প্রায় ৯০ হাজার টাকা পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।
হাঙ্গেরি কোন কাজের বেতন বেশি?
হাঙ্গেরি একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হলেও, প্রবাসীদের জন্য কিছু নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্র রয়েছে যেখান থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি আয় করা সম্ভব। এই ধরনের উচ্চ বেতনের ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো:
- কনস্ট্রাকশন শ্রমিক,
- ইলেকট্রিশিয়ান,
- প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি,
- ড্রাইভিং,
- হোটেল ও রেস্টুরেন্ট স্টাফ,
- প্রোডাকশন লাইন অপারেটর,
- প্যাকেজিং কর্মী,
- মেশিন অপারেটর,
- ফুড ডেলিভারি সার্ভিস ইত্যাদি।
বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসা নিয়ে হাঙ্গেরিতে যেতে চাইলে আপনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এক বা একাধিক কাজের ওপর দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করা। এই প্রস্তুতি আপনাকে সেখানে পৌঁছে তুলনামূলকভাবে বেশি বেতনে কাজ করার সুযোগ পেতে সাহায্য করবে।
হাঙ্গেরি যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬
হাঙ্গেরি যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা ক্যাটাগরি অনুসারে মোট খরচ পরিবর্তিত হয়। যদি কোনো ব্যক্তি নিজে নিজে সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে সরাসরি দূতাবাসে গিয়ে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন, তবে খরচ তুলনামূলকভাবে কম হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য সাধারণত প্রায় ৮ লক্ষ টাকা থেকে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে, স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে গেলে খরচ কিছুটা কম হয়, যা প্রায় ৪ লক্ষ টাকা থেকে ৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, যদি কোনো এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং করানো হয়, তবে সাধারণত খরচ বেশি লাগে।
অন্যদিকে, টুরিস্ট ভিসা নিয়ে হাঙ্গেরি যেতে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। হাঙ্গেরি যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের এই খরচের সঠিক ধারণা রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরি যাওয়ার উপায়
হাঙ্গেরি যেতে হলে আপনার উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে সঠিক ভিসা ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে, যেমন: পড়াশোনা, ব্যবসা, ভ্রমণ অথবা কাজ। মনে রাখা জরুরি যে, এই প্রত্যেকটি ক্যাটাগরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
- শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার জন্য অবশ্যই হাঙ্গেরির কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে।
- টুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদনকারীকে নিজের আর্থিক সক্ষমতা এবং একটি ভালো ট্রাভেল রেকর্ড দেখাতে হবে।
- অন্যদিকে, কাজের ভিসার ক্ষেত্রে, হাঙ্গেরিতে আপনাকে অবশ্যই একটি বৈধ চাকরির অফার পেতে হবে।
বাংলাদেশে হাঙ্গেরির দূতাবাস রয়েছে। আপনি আপনার প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি সংগ্রহ করে নিজে অথবা কোনো বিশ্বস্ত এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন প্রক্রিয়া শেষে আপনাকে দূতাবাসে গিয়ে একটি ইন্টারভিউতে অংশ নিতে হবে।
হাঙ্গেরি যেতে কি কি লাগে?
বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য বিভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরি রয়েছে, যেমন: কাজ, পড়াশোনা, ব্যবসা, বা ভ্রমণ। এই প্রতিটি ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিসা আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। আপনার উদ্দেশ্যের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
📌আরো পড়ুন👉রোমানিয়া যেতে কি কি লাগে?
- বৈধ পাসপোর্ট
- হাঙ্গেরি ভিসা আবেদন ফরম
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- ভিসা আবেদন ফি
- জাতীয় পরিচয় পত্র
- আইইএলটিএস স্কোর
- আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ (ব্যাংক স্টেটমেন্ট)
- মেডিকেল রিপোর্ট সার্টিফিকেট
- পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির অফার লেটার
- রিকমেন্ডেশন লেটার
- ট্রাভেল রেকর্ড
হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ২০২৬
হাঙ্গেরির কাজের ভিসা অনেক বাংলাদেশীর কাছেই ইউরোপে যাওয়ার একটি আকর্ষণীয় বিকল্প। এর মূল কারণ হলো, ইউরোপের অন্যান্য দেশের ভিসার তুলনায় হাঙ্গেরির ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। ইউরোপের এই দেশটি শিক্ষা এবং কাজের জন্য বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য একটি চমৎকার গন্তব্য হতে পারে।

হাঙ্গেরি একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং এখানে প্রবাসীরা প্রতি মাসে এক লাখ টাকারও বেশি উপার্জন করার সুযোগ পায়। এর পাশাপাশি, শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার ফাঁকে পার্ট-টাইম কাজ করে বাড়তি আয় করতে পারে।
সাধারণত, একজন বাংলাদেশী নাগরিককে হাঙ্গেরিতে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশীদের জন্য এই ওয়ার্ক পারমিট পাওয়াটা একটু চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণ হলো, বাংলাদেশ থেকে অনেকে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে ইউরোপের অন্যান্য দেশে চলে যান। এই পরিস্থিতির জন্যই ওয়ার্ক পারমিট প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আপনি যদি হাঙ্গেরিতে দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে অবশ্যই আপনাকে বাংলাদেশ থেকেই যথাযথ ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে সেখানে প্রবেশ করতে হবে। হাঙ্গেরির ওয়ার্ক পারমিট পেতে হলে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সঠিক ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ কত
বর্তমানে বাংলাদেশীদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াটি অনেকটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, এখন বাংলাদেশীদের জন্য হাঙ্গেরির ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়াটা বেশ দুরূহ। ওয়ার্ক পারমিট ভিসার প্রধান সুবিধা হলো, এই ভিসায় আপনি হাঙ্গেরিতে দীর্ঘদিন যাবত থাকার সুযোগ পান। এই কারণেই এই ভিসা পদ্ধতিটি বেশ জনপ্রিয়।
📌আরো পড়ুন👉জাপানের ভিসার দাম কত ২০২৬
তবে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই কিছু নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। এই শর্তগুলো সঠিকভাবে পূরণ করতে পারলেই সেখানকার দূতাবাস আপনাকে প্রবেশের অনুমতি দেবে।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসার ক্ষেত্রে খরচের বিষয়টি নির্ভর করে আপনি কোন মাধ্যমে যাচ্ছেন তার ওপর। আপনি যদি বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে যেতে চান, তবে আপনার আনুমানিক খরচ হতে পারে ৬ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, যদি সরকারিভাবে যাওয়ার সুযোগ পান, তবে খরচ কিছুটা কম হবে।
সরকারিভাবে হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে চাইলে খরচ পড়বে প্রায় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা। তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী এই খরচের পরিমাণ কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ও সঠিক তথ্য জানার জন্য আপনি সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।
এছাড়াও, যদি আপনি হাঙ্গেরিতে ভ্রমণ ভিসায় যেতে চান, সেই ক্ষেত্রে আপনার খরচ পড়বে প্রায় ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকা। সরকারিভাবে যেতে পারলে এই খরচ আরও কিছুটা কম হতে পারে। এই বিষয়েও আপনি বিভিন্ন সরকারি বা সরকার অনুমোদিত এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে সঠিক তথ্য জেনে নিতে পারেন।
হাঙ্গেরি কাজের ভিসা প্রসেসিং
বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য হাঙ্গেরির কাজের ভিসা প্রসেসিং তুলনামূলকভাবে সহজ, কারণ ঢাকায় হাঙ্গেরির দূতাবাস রয়েছে। এই ভিসার জন্য আবেদনকারীরা নিজে নিজে অথবা এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন।
যদি আপনি স্ব-উদ্যোগে আবেদন করতে চান, তবে প্রক্রিয়াটি শুরু করতে হবে আন্তর্জাতিক জব পোর্টালগুলোর মাধ্যমে হাঙ্গেরির চাকরির জন্য আবেদন করে। আপনার লক্ষ্য হবে একটি জব অফার লেটার সংগ্রহ করা। বিভিন্ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিপ্রার্থীরা সাধারণত এই অফার লেটার পেয়ে থাকেন।
অন্যদিকে, যদি আপনি এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং করেন, তবে আপনাকে জব অফার লেটার জোগাড় করার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে না। এজেন্সি আপনার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা নেবে এবং তাদের দায়িত্বে সম্পূর্ণ ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে দেবে।
ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর, আবেদনকারীদের দূতাবাসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ একটি সাক্ষাৎকার দিতে হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারের জন্য অবশ্যই আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। এই ধাপগুলো অনুসরণ করেই সাধারণত হাঙ্গেরির কাজের ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়াটি শেষ করা হয়।
হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া
হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সম্পর্কে জানতে চান এমন অনেক মানুষই প্রায়শই গুগলে অনুসন্ধান করে থাকেন। আপনি যদি মনোযোগ দিয়ে এই আলোচনাটি সম্পূর্ণ পড়েন, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। উল্লেখ্য, হাঙ্গেরি হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত একটি শেনজেনভুক্ত দেশ।
বর্তমানে হাঙ্গেরির কাজের ভিসা পাওয়া তুলনামূলকভাবে অনেক কঠিন। তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। বেশিরভাগ বাংলাদেশী নাগরিক হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য এজেন্সির মাধ্যমে তাদের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকেন। এই প্রক্রিয়ার সুবিধা হলো, বাংলাদেশে হাঙ্গেরির দূতাবাস রয়েছে।
হাঙ্গেরি দেশে কাজের জন্য যাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়সসীমা সাধারণত ১৮ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি যে, যদি আপনার বয়স ৪০ বছরের কম হয়, তাহলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি আপনার জন্য একটি বাড়তি সুবিধা বা ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে হাঙ্গেরিতে যেতে চান, তবে এর মূল শর্ত হলো আপনাকে হাঙ্গেরি থেকে একটি বৈধ কাজের অফার বা চাকরির প্রস্তাব পেতে হবে। কাজের অফার পাওয়ার পর, আপনাকে ভিসা আবেদনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই ধাপে আপনাকে:
- আবেদন ফরম সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।
- আপনার ভিসা আবেদনপত্র এবং সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করতে হবে।
- এরপর এগুলি সহ ভিসা আবেদন ফি হাঙ্গেরির দূতাবাসে গিয়ে জমা দিতে হবে।
এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন
যদি আপনি কোনো এজেন্সির মাধ্যমে ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চান, তাহলে তারা আপনার সকল কাগজপত্র তৈরি করা এবং জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবে।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনাকে এমন একটি এজেন্সি বেছে নিতে হবে যারা বিশ্বস্ত এবং যাদের হাঙ্গেরিতে লোক পাঠানোর ইতিবাচক ও সফল ইতিহাস রয়েছে। একটি নির্ভরযোগ্য এজেন্সি খুঁজে বের করা আপনার জন্য এই প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে তুলবে।
সময়সীমা
হাঙ্গেরির কাজের ভিসা (ওয়ার্ক পারমিট) পেতে সাধারণত ২ মাস থেকে ৩ মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, ভিসার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকরণ (প্রসেসিং) শেষ হতে প্রায় ৫ থেকে ৬ মাস সময় লেগে যেতে পারে।
হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট চেক অনলাইন
আপনি যখন হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য ওয়ার্ক পারমিট ভিসার আবেদন করবেন, তখন আপনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি আসল কিনা তা যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া। বর্তমানে অনেক অসাধু দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী হাঙ্গেরির নকল বা দুই নম্বর ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সরবরাহ করে থাকে, যার ফলে একজন সাধারণ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এই সমস্যা এড়ানোর জন্য, আপনি যদি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় হাঙ্গেরি যেতে চান, তবে অবশ্যই আপনার পারমিটটি যাচাই করে নিতে হবে।
মনে রাখবেন, হাঙ্গেরির ওয়ার্ক পারমিট অনলাইনে যাচাই করার মতো কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট সাধারণত নেই। তাই, আপনার ওয়ার্ক পারমিট ভিসাটি আসল কিনা তা নিশ্চিতভাবে যাচাই করার জন্য আপনাকে অবশ্যই সরাসরি হাঙ্গেরির দূতাবাসে (এম্বাসি) যোগাযোগ করতে হবে।
যাচাইয়ের মাধ্যম
- আপনি সরাসরি দূতাবাসে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
- অথবা, আপনি দূতাবাসকে ইমেল করার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।
আপনি যদি ইমেলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন এবং পারমিটের বিবরণ তাদের কাছে পাঠান, তবে তারা আপনাকে আপনার পারমিটটির বৈধতা জাস্টিফাই করে দেবে।
এছাড়াও, যদি আপনার ইচ্ছা থাকে, তবে এই ধরনের যাচাইকরণে কিছু কোম্পানিও সহযোগিতা করে থাকে। সেই ক্ষেত্রে, তাদের মাধ্যমে পারমিট যাচাই করার আগে, আপনার কাছে থাকা পারমিটের সমস্ত নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে (যেমন পারমিটের নম্বর, যে কোম্পানি কাজের অফার দিয়েছে তার বিবরণ ইত্যাদি)।
কোম্পানির নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং ট্যাক্স নম্বর—এই তিনটি তথ্য যদি কোম্পানিটি সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করে থাকে, তবে সেই তথ্যগুলো দিয়ে আপনি তাদের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ নম্বরগুলো ব্যবহার করলে সাধারণত একটি কোম্পানিকে ভালো বা নির্ভরযোগ্য বলে ধরে নেওয়া যায়।
কোম্পানি যাচাইয়ের পদ্ধতি
হাঙ্গেরির কোম্পানি আসল নাকি নকল, তা যাচাই করতে হলে আপনাকে কিছু ধাপ অনুসরণ করতে হবে। এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আপনি নিচের ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে পারেন:
ওয়েবসাইট: nemzeticegtar.hu
এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনাকে নিম্নোক্ত ধাপগুলো মানতে হবে:
- প্রথমে, আপনাকে ‘কোম্পানির ডাটা’ (Company Data) অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে।
- এরপর, সেখানে কোম্পানির নাম লিখতে হবে।
- তারপর, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ইনপুট দিতে হবে।
- পরবর্তী ধাপে, কোম্পানির ট্যাক্স নম্বর প্রদান করতে হবে।
- সবশেষে, সার্চ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
- সার্চ করার পরে, আপনি সেই কোম্পানিটির সকল তথ্য বিস্তারিত আকারে পেয়ে যাবেন।
আপনার ভিসা ও কোম্পানির তথ্য এইভাবে যাচাই করা হয়ে গেলে, আপনি আপনার এজেন্সির কাছ থেকে সেই কোম্পানি এবং ভিসা সংক্রান্ত অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় তথ্য বিস্তারিতভাবে জেনে নেবেন।
হাঙ্গেরি কোন কাজের চাহিদা বেশি?
পৃথিবীর যেকোনো দেশেই কাজের জন্য যান না কেন, আপনার অবশ্যই কাজের ওপর যথেষ্ট দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা থাকা উচিত। এর কারণ হলো, বিশ্বের প্রতিটি দেশই কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করে থাকে। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে আপনাকে কখনই বেকার বসে থাকতে হবে না এবং আপনি যেকোনো কাজ সহজেই খুঁজে নিতে পারবেন।
এটি বিশেষভাবে প্রযোজ্য তাদের ক্ষেত্রে, যাদের হয়তো শিক্ষাগত যোগ্যতা কম, কিন্তু হাতে-কলমে কাজের দক্ষতা রয়েছে তাদেরও বিশ্বের কোথাও বসে থাকতে হয় না। যদি বিশ্বের যেকোনো দেশের কোম্পানিতে আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা প্রমাণিত হয়, তাহলে আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বেতন পাবেন।
📌আরো পড়ুন👉সুইজারল্যান্ডে কোন কাজের চাহিদা বেশি
- কনস্ট্রাকশনের কাজ
- হোটেল এবং রেস্টুরেন্টের কাজ
- ওয়েল্ডিং শ্রমিকের কাজ
- ইলেকট্রিশিয়ান
- প্লাম্বিং এর কাজ
- পেইন্টিং এর কাজ
- ড্রাইভিং এর কাজ
- ক্লিনারের কাজ
হাঙ্গেরি কাজের বাজারে উপরে উল্লেখিত কাজগুলোর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। তাই, আপনি যদি হাঙ্গেরিতে যাওয়ার আগেই এই কাজগুলোর ওপর প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করে যেতে পারেন, তবে তা আপনার জন্য অত্যন্ত লাভজনক হবে। এর ফলস্বরূপ, আপনি সেখানে গিয়ে ভালো পরিমাণে টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন এবং আপনাকে বেকার বসে থাকতে হবে না।
হাঙ্গেরি যেতে কত বছর বয়স লাগে?
বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরি যাওয়ার জন্য বয়সের কোনো নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা নেই, তবে ভিসা আবেদনের জন্য ন্যূনতম ১৮ বছর বয়স হওয়া আবশ্যক।
ওয়ার্ক ভিসা (কাজের ভিসা):
- কাজের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে হাঙ্গেরি যেতে ইচ্ছুক আগ্রহী ব্যক্তির বয়স কমপক্ষে ২০ বছর হতে হবে।
- তবে, যারা হাঙ্গেরির কাজের ভিসার জন্য আবেদন করতে চাইছেন, তাদের বয়স যদি ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হয়, তাহলে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত বেশি থাকে।
অন্যান্য ভিসা:
- অন্যদিকে, স্টুডেন্ট ভিসা এবং ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বিশেষ বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হয় না।
হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট পেতে কত দিন লাগে
অনেকেই জানতে চান যে হাঙ্গেরির ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেতে ঠিক কত দিন সময় লাগতে পারে। যদি আপনি আপনার আবেদনটি সঠিকভাবে পূরণ করেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ডকুমেন্টগুলো সঠিক পথে জমা দেন, তাহলে সাধারণত বেশি সময় লাগার কথা নয়।
সঠিকভাবে আবেদন করা হলে, আপনি সাধারণত ৩ মাসের মধ্যেই হাঙ্গেরির ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পেয়ে যেতে পারেন। তবে, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে মানুষের হাঙ্গেরি পৌঁছাতে ৪ থেকে ৫ মাস সময়ও লাগতে পারে। বর্তমানে হাঙ্গেরিতে যাওয়ার কম খরচের কারণে অনেকেই এই দেশে কাজের জন্য যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
হাঙ্গেরি ১ টাকা বাংলাদেশের কত টাকা
বর্তমানে, হাঙ্গেরির ১ ফোরিন্ট (মুদ্রা) এর মূল্যমান বাংলাদেশের টাকার হিসাবে ৩৭ পয়সার মতো। তবে, মনে রাখা ভালো, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই বিনিময় হার যেকোনো সময় কমবেশি হতে পারে।
লেখকের শেষ মতামত
হাঙ্গেরি বর্তমানে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। ইউরোপের এই দেশটিতে কাজ করার এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ থাকায় অনেকেই এখানে যাওয়ার জন্য গভীর আগ্রহ প্রকাশ করে থাকেন।
এই আগ্রহের মূল বিষয়গুলো মাথায় রেখেই আমাদের আলোচনায় হাঙ্গেরিতে কাজ করতে যাওয়া, হাঙ্গেরি ওয়ার্ক পারমিট ভিসার খরচ কত? এবং হাঙ্গেরি সর্বনিম্ন বেতন কত নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে।
পরিশেষে বলব, হাঙ্গেরিতে কাজ করতে যাওয়ার আগে আগ্রহী কর্মীদের বেতনের কাঠামো, ভিসার খরচ এবং বাজারের বাস্তবতা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। সঠিক তথ্য, বৈধ পথ এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা নিয়ে অগ্রসর হলে হাঙ্গেরিতে একটি সফল কর্মজীবন গড়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।