মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে ২০২৬ – মালয়েশিয়া কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে: মালয়েশিয়ায় কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন যারা, তাদের জন্য এই তথ্যটি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে সেখানে যেতে আনুমানিক কত টাকা খরচ হতে পারে। এই খরচ সম্পর্কে যদি আপনার একটি স্পষ্ট ধারণা থাকে, তবে আপনি দালাল বা বিভিন্ন এজেন্সির প্রতারণা থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।

মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে

বর্তমানে মালয়েশিয়া দ্রুত উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদেরকে একটি উন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলস্বরূপ, এই দেশে কর্মীরা তুলনামূলকভাবে ভালো অঙ্কের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম। বিশেষত, বর্তমানে সেখানে দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। 

এই কারণেই প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ একটি উন্নত জীবনযাপনের আশায় মালয়েশিয়ার ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে সেখানে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে, এই যাত্রার পূর্বে মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে, সেই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। 

এর পাশাপাশি, কোন ধরনের ভিসার জন্য কেমন খরচ, কোন কাজের জন্য বেতন কেমন, এবং বর্তমানে কাজের চাহিদা কেমন আছে এই সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্যগুলোও ভালোভাবে জেনে রাখা প্রয়োজন।

মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে 

মালয়েশিয়া যাওয়ার মোট খরচ মূলত বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। এই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ভিসার ক্যাটাগরি, ভিসার মেয়াদ এবং ভিসা প্রসেসিং-এর মাধ্যম। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া ভ্রমণের জন্য আনুমানিক ৩ লক্ষ টাকা থেকে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। এই খরচটি গড়ের ভিত্তিতে ধরা হলেও বিভিন্ন কারণে এর পরিমাণ কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।

📌আরো পড়ুন👉বাংলাদেশ থেকে রোমানিয়া যেতে কত টাকা লাগে

অনেকের ধারণা, সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া গমনে খরচ সাধারণত কম লাগে। তবে মালয়েশিয়ান ভিসার ব্যাপক চাহিদার কারণে সরকারি প্রক্রিয়ায় খুব কম খরচে যাওয়া বেশ কঠিন। 

প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যেতেও প্রায় ৩ লক্ষ টাকার বেশি খরচ হয়ে থাকে। এর বিপরীতে, আপনি যদি বেসরকারি বিভিন্ন এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া যান, তবে এই খরচের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

মালয়েশিয়া ভিসার দাম কত ২০২৬

মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে প্রবেশ করার জন্য দেশটির বৈধ ভিসা থাকাটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একসময় মালয়েশিয়ার ভিসা তৈরি করতে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হতো এবং ভিসা আবেদনের ফি-ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। 

তবে, ধারণা করা হচ্ছে বর্তমানে সেই খরচ আবার হাতের মুঠোয় চলে আসবে। মালয়েশিয়ার ভিসার অনুমোদন সরকারি ও বেসরকারি উভয় প্রক্রিয়াতেই দেওয়া হয়ে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই, সরকারি প্রক্রিয়ায় ভিসা তৈরি করার খরচ কম হলেও, বেসরকারি প্রক্রিয়ায় সেই খরচ অনেক বেশি।

বর্তমানে বেসরকারিভাবে ভিসা তৈরি করতে সর্বনিম্ন প্রায় ৬ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। অন্যদিকে, সরকারি প্রক্রিয়ায় গেলে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার মধ্যেই ভিসা তৈরি করা সম্ভব হয়।

১. মালয়েশিয়া স্টুডেন্ট ভিসা খরচ কত

আপনি যদি মালয়েশিয়ায় পৌঁছে উচ্চশিক্ষা লাভ করতে চান, তাহলে আপনাকে সবার প্রথমে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে এই ভিসার আবেদন বাবদ সর্বোচ্চ ২ লক্ষ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

তবে মনে রাখবেন, আপনি কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হচ্ছেন এবং আপনার ভিসার মেয়াদ কত দিনের হবে, তার ওপর ভিত্তি করে মালয়েশিয়ান স্টুডেন্ট ভিসার এই খরচ কিছুটা কম বা বেশিও হতে পারে।

২. মালয়েশিয়া টুরিস্ট ভিসা কত টাকা

আপনি যদি ব্যক্তিগতভাবে মালয়েশিয়া ভ্রমণের জন্য যেতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই টুরিস্ট ভিসা নিতে হবে এবং সেই সাথে বিমানের টিকিট কাটতে হবে। টিকিটের দাম অবশ্য এয়ারলাইন্সের ওপর ভিত্তি করে কম বা বেশি হতে পারে। 

ঢাকা থেকে মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য আপনি এয়ার এশিয়া, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ার অথবা রিজেন্ট এয়ারওয়েজের টিকিট কাটতে পারেন। মালয়েশিয়ার টুরিস্ট ভিসার খরচ নির্ভর করে আপনি সিঙ্গেল এন্ট্রি নাকি মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা নিচ্ছেন তার ওপর। সাধারণত, সিঙ্গেল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসার দাম কম হয়।

যদিও সাধারণভাবে ৫০,০০০ টাকা থেকে ১,৫০,০০০ টাকায় টুরিস্ট প্যাকেজ পাওয়া যেতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া টুরিস্ট ভিসার সর্বোচ্চ দাম প্রায় ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

তবে একটি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভিসার ধরন এবং আপনি কত সময়ের জন্য ভিসা নিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করেই ভিসার চূড়ান্ত দাম পুরোপুরি নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ, ন্যূনতম ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকায় টুরিস্ট ভিসা পাওয়া যেতে পারে এবং এর সর্বোচ্চ দাম হতে পারে ৩ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ টাকা।

৩. মালয়েশিয়া কৃষি ভিসা খরচ কত?

মালয়েশিয়ায় কৃষি ভিসা নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে যান, তারা সেখানে মূলত কৃষিকাজ করার সুযোগ পান। এই কাজগুলোর মধ্যে প্রধানত পাম বাগানে কাজ করা এবং বাগান দেখাশোনা করার মতো বিভিন্ন ধরনের কাজ অন্তর্ভুক্ত।

মালয়েশিয়ার পাম ফলের বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা সাধারণত প্রতি মাসে বাংলাদেশের মুদ্রায় ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেয়ে থাকেন। তবে, যারা বাংলাদেশ থেকে কৃষি ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে চান, তাদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় আনুমানিক ৪ লক্ষ টাকার মতো খরচ হতে পারে।

৪. মালয়েশিয়া ফ্রি ভিসা খরচ কত?

মালয়েশিয়াতে তথাকথিত ‘ফ্রি ভিসা’ পাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ বলে মনে করা হয়। মালয়েশিয়ার ফ্রি ভিসা হলো এমন একটি ভিসা, যার মাধ্যমে কর্মীকে কোনো নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করতে হয় না। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এই ফ্রি ভিসার সাহায্যে আপনি মালয়েশিয়াতে স্বাধীনভাবে যেকোনো ধরনের কাজ খুঁজে নিতে এবং করতে পারবেন।

বর্তমানে, একদম পাসপোর্ট তৈরি করা থেকে শুরু করে মালয়েশিয়া পর্যন্ত পৌঁছানো এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় ফ্রি ভিসার জন্য মোট খরচ প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার মতো হয়ে থাকে।

৫. মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসার দাম কত

মালয়েশিয়ার ফ্যাক্টরি ভিসা এবং কোম্পানি ভিসা গুলো যদিও পাওয়া কিছুটা কঠিন, তবে এগুলোর মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে বেশি বেতন উপার্জন করা যায়। এই ভিসাগুলো সাধারণত একটি নির্দিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। যদি কোনো কোম্পানি বা ফ্যাক্টরি থেকে চাকরির অফার লেটার পান, তবে আপনি খুব সহজে মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি ভিসা তৈরি করতে পারবেন।

একটি ফ্যাক্টরি ভিসার ন্যূনতম খরচ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছে এবং সর্বোচ্চ খরচ ৪ লক্ষ থেকে ৪.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এই খরচটি আপনি সরকারি নাকি বেসরকারি কোন প্রক্রিয়ায় ভিসা তৈরি করছেন, সেই ধরনের ওপর ভিত্তি করে পরিবর্তন হতে পারে।

মালয়েশিয়া কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়া হলো এশিয়ার একটি উন্নয়নশীল দেশ, এবং এই দেশে বিভিন্ন সেক্টরে শ্রমিকদের কাজের বেশ চাহিদা রয়েছে। যারা বাংলাদেশ থেকে কাজের ভিসা (ওয়ার্ক ভিসা) নিয়ে মালয়েশিয়া যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য সেখানে কাজের বেতন সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

মালয়েশিয়া কাজের বেতন কত

📌আরো পড়ুন👉জাপানে বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন কত?

বর্তমানে মালয়েশিয়ায় কাজের বেতন সাধারণত ৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, আপনি কোন ধরনের কাজ করছেন, আপনার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা কেমন, তার ওপর ভিত্তি করে ব্যক্তিভেদে এই বেতনের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

১. মালয়েশিয়া রেস্টুরেন্ট কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়ার রেস্টুরেন্ট সেক্টরে নতুন অবস্থায় একজন হেল্পারের সর্বনিম্ন বেসিক বা মূল বেতন সাধারণত ১৫০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত হয়ে থাকে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৯,০০০ টাকার কাছাকাছি। আপনি যদি সেখানে ওয়েটার পদে কাজ করেন, তাহলে আপনার বেতন সাধারণত ১৬০০ রিঙ্গিত বা তার থেকে সামান্য কিছু বেশি হতে পারে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪১,৬০০ টাকার মতো। 

অন্যদিকে, যদি আপনি মহিলা ওয়েটার হন, তাহলে আপনার বেতনের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে তা প্রায় ১৮০০ রিঙ্গিত বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৬,৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

২. মালয়েশিয়া ফ্যাক্টরি কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরি কাজের ক্ষেত্রে দারুণ সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। যারা মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন, তাদের বেতন সাধারণত ১৮০০ রিঙ্গিত থেকে শুরু করে ২৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ থেকে যাওয়া বেশিরভাগ শ্রমিকই মূলত ফ্যাক্টরি কাজের জন্যই মালয়েশিয়াতে যান। মালয়েশিয়াতে ফ্যাক্টরি কাজের পাশাপাশি যদি কোনো কর্মী ওভারটাইম কাজ করার সুযোগ পান, তবে তিনি অনায়াসে প্রতি মাসে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারেন।

৩. মালয়েশিয়া কনস্ট্রাকশন কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়াতে কনস্ট্রাকশন কাজের ক্ষেত্রে সাধারণত বেতন ২,০০০ রিঙ্গিত থেকে শুরু হয় এবং তা ২,৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত দেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও, এই কাজে নিয়োজিত কর্মীরা চাইলে ওভারটাইম করে আরও বেশি টাকা উপার্জনের সুযোগ পান।

এর ফলস্বরূপ, একজন দক্ষ কনস্ট্রাকশন কর্মী মালয়েশিয়াতে কাজ করে মাসে খুব সহজেই ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত ইনকাম করতে পারেন। এই তথ্য থেকেই বোঝা যায় যে মালয়েশিয়াতে কনস্ট্রাকশন কাজের সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদা বর্তমানে কেমন।

৪. মালয়েশিয়া ইলেকট্রনিক কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়াতে ইলেকট্রনিক কাজের জন্য সাধারণত ২২০০ থেকে ২৫০০ রিঙ্গিত বেতন দেওয়া হয়। এর মানে হলো বাংলা টাকায় এটি ৪৫,০০০ থেকে ৫৫,০০০ টাকারও বেশি। এছাড়াও, মালয়েশিয়াতে ইলেকট্রনিক কাজের ক্ষেত্রে ওভারটাইম করার সুযোগ রয়েছে, যা থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব।

একজন দক্ষ ইলেকট্রনিক কর্মী প্রতি মাসে এই কাজ করে খুব সহজেই ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত উপার্জন করতে পারেন। এই তথ্য থেকেই বোঝা যায় যে এই ক্ষেত্রে আয়ের সুযোগ কতটা ভালো।

৫. মালয়েশিয়া কৃষি কাজের বেতন কত?

মালয়েশিয়ায় কৃষি শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন মাসিক বেতন হলো ১,৪০০ রিংগিত। তবে, কৃষিক্ষেত্রে যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা রয়েছে, তাদের বেতনের শুরুটা হয় আরও বেশি ২,০০০ রিংগিত থেকে যা ৩,০০০ রিংগিত পর্যন্ত হতে পারে।

আপনার যদি কৃষি কাজের প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকে, তাহলে মালয়েশিয়াতে কাজ করে আপনি এই অভিজ্ঞতার সুবিধা নিতে পারেন। দক্ষতার ভিত্তিতে আপনি সহজেই প্রতি মাসে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা বা তারও বেশি উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

মালয়েশিয়া সর্বনিম্ন বেতন কত 

মালয়েশিয়া সরকার কাজের জন্য একটি সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে, যা বর্তমানে প্রায় ১,৭০০ রিংগিত। যদিও সরকারিভাবে এই বেতন নির্ধারিত, তবে প্রায়শই দেখা যায় যে প্রবাসী শ্রমিকেরা এই নির্ধারিত বেতনের চেয়ে কম অর্থ পেয়ে থাকেন।

মালয়েশিয়ার শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রমিকদের দৈনিক ৮ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে মোট ৪৫ ঘণ্টা ডিউটি করতে হয়। কর্মীরা চাইলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ওভারটাইম কাজ করার সুযোগ পান। এক্ষেত্রে, মালয়েশিয়াতে কর্মরত বেশিরভাগ বাঙালি প্রবাসী শ্রমিকেরা সাধারণত ঘন্টা চুক্তিতে কাজ করে থাকেন।

মালয়েশিয়া কোন কাজের বেতন বেশি?

মালয়েশিয়াতে সবচেয়ে বেশি বেতনের কাজ কোনটি, এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই জাগতে পারে। সেখানে সর্বোচ্চ বেতন পেয়ে থাকেন সি-লেভেলের নির্বাহী কর্মকর্তারা। এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মাসিক আয়ের পরিমাণ বিশাল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭২ লক্ষ ৬০ হাজার ৯৪০ টাকা।

তবে, এটাও মনে রাখা জরুরি যে চাইলেই কোনো বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়াতে গিয়ে এত সহজে এই ধরনের শীর্ষ পদে কাজ করার সুযোগ পান না। সাধারণত, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সেখানে কিছু নির্দিষ্ট খাতে তুলনামূলক ভালো বেতনের সুযোগ রয়েছে। এই কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ইলেকট্রিশিয়ান
  • হোটেল বয়
  • ড্রাইভিং

বিশেষ করে, যদি কোনো বাংলাদেশি কর্মী কোনো হোটেলের ওয়াটার বয় হিসেবে কাজ পান, তবে তার মাসিক আয় ৪ লক্ষ টাকারও বেশি হতে পারে। এর কারণ হলো, এই ধরনের কাজের ক্ষেত্রে বেতনের বাইরেও টিপস বা অন্যান্য উৎসের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ থাকে, যা তাদের মোট উপার্জন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

মালয়েশিয়া কোন ভিসা ভালো

বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের এবং অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে আসা নাগরিকদের স্বাগত জানাচ্ছে। এই ভিসাগুলোর মধ্যে প্রধানত তিনটি ভিন্ন বিভাগ রয়েছে: কাজ করার উদ্দেশ্যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বা দীর্ঘ সময়ের জন্য বসবাসের জন্য ফ্যামিলি ভিসা, এবং শুধুমাত্র ভ্রমণের জন্য টুরিস্ট ভিসা।

মালয়েশিয়ায় এই মুহূর্তে যেহেতু অনেক ধরনের ভিসা চালু আছে, তাই নির্দিষ্ট করে কোনো একটি ভিসাকে ‘সেরা’ বলা কঠিন। কোন ভিসাটি সবচেয়ে ভালো, তার তালিকা তৈরি করা হলে সেটি সম্পূর্ণভাবে আবেদনকারীর উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভর করবে। 

তবে, যারা মূলত কাজের সন্ধানে মালয়েশিয়া যেতে চান, তাদের কাছে নিঃসন্দেহে মালয়েশিয়া ওয়ার্ক পারমিট ভিসাই পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার জন্য যেসব ভিসার আবেদন করা হয়, তার মধ্যে ওয়ার্ক ভিসার আবেদনই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। 

এর পাশাপাশি, যেহেতু মালয়েশিয়ায় শিক্ষাব্যবস্থা ও পড়াশোনার মান যথেষ্ট উন্নত, তাই উচ্চশিক্ষা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী স্টুডেন্ট ভিসায় সেখানে পাড়ি জমান। এছাড়া, মালয়েশিয়ায় অনেক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র থাকায় প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে টুরিস্ট ভিসার জন্যও আবেদন করে থাকেন।

মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি?

মালয়েশিয়া একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন খাতে এবং সেক্টরে কাজের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। বর্তমানে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে কাজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে:

  • কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, 
  • কারখানা শ্রমিক, 
  • পাম বাগান, 
  • ইলেকট্রিশিয়ান, 
  • প্লাম্বিং, 
  • পেইন্টার, 
  • সুপার মার্কেট ইত্যাদি কাজের চাহিদা বেশি রয়েছে।

সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার উপায়

মালয়েশিয়া সরকারের মাধ্যমে বৈধভাবে যেতে চাইলে প্রথমে আপনাকে “আমি প্রবাসী” (Ami Probashi) অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেখানে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমেই বিভিন্ন মালয়েশীয় কোম্পানিতে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। 

চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর, বিএমইআইটি (BMET) রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই রেজিস্ট্রেশন ছাড়া মালয়েশিয়ার ভিসার জন্য আবেদন করা যায় না। মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিসার ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়। 

উদাহরণস্বরূপ, স্টুডেন্ট ভিসা বা টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্টেশনের প্রয়োজন হয়। তবে, কাজের উদ্দেশ্যে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে গেলে তুলনামূলকভাবে কম ডকুমেন্টেশন লাগে। এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমেও মালয়েশিয়া যাওয়া যেতে পারে।

মালয়েশিয়া যেতে কত বছর বয়স লাগে

মালয়েশিয়ায় কাজের ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বয়স একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত। আবেদনকারীকে অবশ্যই ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে থাকতে হবে। সাধারণত, ২১ বছরের কম বয়সী কারও কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদিত হয় না। 

📌আরো পড়ুন👉নরওয়ে যেতে কত বছর বয়স লাগে

অন্যদিকে, ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে, যার ফলস্বরূপ তাদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই ক্ষীণ হয়ে যায়। বয়সের এই বাধ্যতামূলক সীমা ছাড়াও, ভিসা প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পূরণ করা অপরিহার্য:

  • স্বাস্থ্য পরীক্ষা: কাজের জন্য আবেদনকারী শারীরিকভাবে উপযুক্ত কিনা, তা নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি বাধ্যতামূলক ধাপ।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট: এটি প্রমাণ করে যে আবেদনকারীর কোনো ফৌজদারি রেকর্ড নেই এবং তিনি আইনিভাবে স্বচ্ছ।
  • স্পন্সর কোম্পানির অনুমোদন: মালয়েশিয়ার কোনো কোম্পানি আবেদনকারীকে নিয়োগ করতে প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে, এটিও নিশ্চিত করতে হয়।

এই পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি: কিছু এজেন্সি হয়তো নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারে। তবে এমন পথে হাঁটলে ভবিষ্যতে আপনার ভিসা সংক্রান্ত গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বৈধ পথে এবং নিয়ম মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া যেতে কত সময় লাগে

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার দূরত্ব আকাশপথে প্রায় ৩,৭৪৮ কিলোমিটার। এই দূরত্ব অতিক্রম করতে ফ্লাইটের সময়ের তারতম্য ঘটে।

  • ননস্টপ ফ্লাইট: আপনি যদি সরাসরি (ননস্টপ) ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছাতে আনুমানিক ৪ ঘণ্টার মধ্যেই সময় লাগে।
  • ওয়ান-স্টপ ফ্লাইট: তবে, যদি পথে একটি বিরতি (ওয়ান-স্টপ) থাকে, তাহলে মোট ভ্রমণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় পৌঁছাতে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। এই অতিরিক্ত সময় বিরতির স্থান ও স্থায়িত্বের উপর নির্ভর করে।

লেখকের শেষ মতামত

বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের মালয়েশিয়া গমনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি কোনো অভিজ্ঞতা বা স্পষ্ট ধারণা থাকে না। এই কারণে, তারা প্রায় সবাই তাদের সম্পূর্ণ কার্যক্রম দালাল বা বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকেন।

এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধু দালাল বা মধ্যস্থতাকারী সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করে থাকে। তাই, মালয়েশিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো এজেন্সি বা দালালদের সাথে লেনদেন করার সময় অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

আমাদের এই আলোচনা থেকে আশা করা যায়, আপনারা মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে, সেখানে বেতন কত এবং কাজের চাহিদা কেমন—এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন।

আজকের এই তথ্যগুলি যদি আপনার সামান্যতম উপকারেও আসে, তবেই আমাদের এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে। তাই, লেখাটি ভালো লাগলে এটি আপনার বন্ধু-বান্ধবদের মাঝে শেয়ার করার অনুরোধ রইল। ধন্যবাদ।

Sharing is Caring

Leave a Comment