বর্তমান সময়ে ইউরোপে কাজ করার জন্য যে কয়েকটি দেশ বাংলাদেশি ও এশিয়ান কর্মীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তার মধ্যে চেক রিপাবলিক (Czech Republic) অন্যতম। উন্নত শিল্পব্যবস্থা, নিয়মিত চাকরির সুযোগ এবং তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচের কারণে অনেকেই জানতে চান— চেক রিপাবলিকের বেতন কত? বিশেষ করে ২০২৬ সালে বিভিন্ন পেশায় মাসিক আয় কেমন হতে পারে, সেটি নিয়ে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ও বাস্তবধর্মী তথ্যের আলোকে আলোচনা করব— কীভাবে কাজের সন্ধান শুরু করবেন? , চেক রিপাবলিক পারমিট ভিসার প্রকারভেদ , ভিসার প্রয়োজনে ও যোগ্যতা, কোন কাজে চাহিদা বেশি, মিনিমাম ও গড় বেতন, পেশাভেদে আয়ের পার্থক্য। যারা চেক রিপাবলিকে কাজ করতে যেতে চান বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই তথ্যগুলো হবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সহায়ক।
কীভাবে কাজের সন্ধান শুরু করবেন?
আপনি যখন চেক রিপাবলিকে যাওয়ার চিন্তা করছেন। তখন আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে আপনি সেখানে কি কাজের জন্য যাবেন এবং সেই কাজটি আপনি কিভাবে অনুসন্ধান করে বের করবেন সেই সম্পর্কে। চলুন তাহলে আমরা আলোচনা করি আপনি চেক রিপার দিকে যাবার জন্য কাজের অনুসন্ধান কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে।
অনলাইন জব পোর্টালঃ আপনি রিপাবলিকে যেতে হলে আপনাকে আগে কাজ খুজে বের করতে হবে এবং যে কোম্পানি থেকে কাজ পাবেন সেই কোম্পানির সাথে আপনার চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করতে হয়। আপনার পছন্দের সেই কাজটি খুঁজে পেতে কোনো সন্ধান করুন Jobs.cz, Prace.cz এবং LinkedIn-এর মতো ওয়েবসাইট গুলোতে যেখানে চেক রিপাবলিকের বিভিন্ন কাজের সার্কুলার থাকে । এ সফল ওয়েবসাইট বা অন্য কোন সোর্সে আপনার নিয়মিত ফলো করতে হবে বা কাজ করতে হবে যেন আপনার পছন্দের কাজটি আপনার নাগালের বাইরে না যায় ।
📌আরো পড়ুন👉জাপানে বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন কত?
রিক্রুটিং এজেন্সিঃ আপনি যখন চেক রিপাবলিকের যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তখন আপনি খুজলে অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি খুঁজে পাবেন যারা বিদেশী চেক রিপাবলিকে যারা যেতে চাই তাদের জন্য কাজ বিভিন্ন ধরনের খুঁজে দেয়। তাই আপনি সকল দিকে খোঁজ নিয়ে একটা বিশ্বস্ত প্রেসেন্সি সাথে যোগাযোগ করুন অথবা আপনার পছন্দের কাজটি পেতে Manpower, Adecco এবং Grafton Recruitment-এর মতো এজেন্সিগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করতে পারেন যারা আপনাকে সেখানে কাজের ব্যবস্থা করে দিবেন ।
নেটওয়ার্কিংঃ রেকর্ডিং এজেন্সি ছাড়া আপনার আরও একটি কাজ খুঁজে পাওয়ার মাধ্যম হতে পারে সেটা হচ্ছে চেন রিপাবলিক এ বসবাসরত আপনার কোন পরিচিত বা বন্ধু-বান্ধবের সাথে যোগাযোগ করা। আপনি যদি এমন কোন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে পারেন তাহলে তারা এখানে আপনার কাজের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন।
চেক রিপাবলিক পারমিট ভিসার প্রকারভেদ
- ইমিগ্রেন্ট ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
- শর্ট টার্ম ওয়ার্ক পারমিট ভিসা।
ইমিগ্রান্ট ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
শর্ট টার্ন ওয়ার্ক পারমিট ভিসা
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা কি?
- employee card
- work permit + long term visa
- blue card ( দক্ষ পেশার জন্য )
Employee card কি?
চেক রিপাবলিক ভিসার প্রয়োজনে ও যোগ্যতা

পারমিট ভিসার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া
চেক রিপাবলিক একটি উন্নত দেশ তাই এদেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য আবেদন করাও একটি খুবই জটিল প্রক্রিয়া। চলুন এই জটিল বিষয়টি ধাপে ধাপে বোঝানো চেষ্টা করি। তবে আপনি ওয়ার্ক ফরমেট ভিসা আবেদন করার পূর্বে আপনার জানা উচিত চেক রিপাবলিকের বেতন কত? 2026 এই সম্পর্কে।
আপনি যদি চেক রিপাবলিকের মত দেশে যেতে চান তাহলে আপনার সর্বপ্রথম যেটি প্রয়োজন হবে সেটা হলো চেক রিপাবলিক দেশটির যে কোন কোম্পানির নিয়োগকর্তার জব অফার। আপনার এই জব অফারটি আপনি কিভাবে পেতে পারেন। অফার ২টি হলো-
- সরাসরি ভাবে
- লাইসেন্স প্রাপ্ত যেকোনো এজেন্সির মাধ্যমে
আপনি যখন এ দেশটিতে যেতে চাচ্ছেন তখন আপনাকে এই দেশটিতে যাবার জন্য আবেদন করতে হয়। এই আবেদনের সময় আপনার কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয়। এই প্রয়োজনে কাগজপত্র গুলো আপনাকে আবেদনের পূর্বেই প্রস্তুত করতে হয়। সেই কাগজপত্রগুলো হল
- কমপক্ষে ছয় মাসের বৈধ পাসপোর্ট ।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- অরিজিনাল জন্ম সনদ এবং এই সনদের ইংরেজি অনুবাদ ।
- শিক্ষাগত যোগ্যতার মূলপত্র এবং এটা অবশ্যই ইংরেজি অনুবাদ করা।
- নিয়োগকর্তা দ্বারা স্বাক্ষরিত কাজের চুক্তিপত্র ।
- যেখানে থাকবেন তার প্রমাণপত্র অর্থাৎ ভাড়ার চুক্তিপত্র।
- চেক প্রজাতন্ত্রে স্বাস্থ্য বীমা অবশ্যই থাকতে হবে।
- বাংলাদেশের পুলিশের ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট ।
- মেডিকেল সার্টিফিকেট ।
এজেন্সি সেন্টারে / এম্বাসিতে আবেদন : আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে চেক রিপাবলিক যেতে চান তাহলে আপনি একটি চেক রিপাবলিক এম্বাসি বা এজেন্সি সেন্টারে গিয়ে যোগাযোগ করে সেখান থেকে আবেদন করতে পারেন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে প্রথমে সে এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করে তাদের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।
📌আরো পড়ুন👉ডেনমার্ক কাজের বেতন কত?
চতুর্থ ভিসা প্রসেসিং সময় : আপনি চেক পাবলিক জন্য সিদ্ধান্ত নিলে আপনাকে প্রথমেচেক রিপাবলিক এর নির্দিষ্ট এজেন্সিতে গিয়ে আবেদন জন্য যোগাযোগ করতে হবে এবং আপনার এই আবেদন প্রেক্ষিতে ভিসা প্রসেসিং কাজ শুরু হবে। আপনার ভিসা প্রসেসিং কমপ্লিট হতে সাধারণত 60 থেকে 120 দিন কিংবা তার বেশিও সময় লাগবে পারে। তখন আপনাকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে হতাশ হওয়া যাবে না।
চেক রিপাবলিকে ভিসার আবেদনের যোগ্যতা
- বয়স অবশ্যই ১৮ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে
- জব অফর বা কন্ট্রাক্ট এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর থাকতে হবে
- মেডিকেল সার্টিফিকেট থাকতে হবে
- পুলিশ ভেরিফিকেশন এর সার্টিফিকেট থাকতে হবে
- পাসপোর্টের মেয়াদ অবশ্যই কমপক্ষে ১.৫ থেকে ২ বছর হতে হবে
চেক রিপাবলিকে কোন কাজে চাহিদা বেশি
- ফ্যাক্টরি ও প্রোডাকশন ওয়ার্কার
- ওয়েলডার
- মেশিন অপারেটর
- কনস্ট্রাকশন লেবার
- ক্লিনার
- হোটেল ও রেস্টুরেন্ট স্টাফ
- ডেলিভারি ওয়ার্কার
- আইটি ও টেকনিক্যাল পেশা দক্ষদের জন্য।
ওয়ার্ক পারমিট ভিসা সফল আবেদনের কৌশল
- আবেদন করার সময় সকল কাগজপত্র আসল ও সঠিক ভাবে দিবেন।
- আবেদনটি যেন অবশ্যই সময় মত হয় সেই দিকে বিশেষ নজর রাখবেন।
- নিয়মিত চেক প্রজাতন্ত্রের দূতাবাসে যোগাযোগ করবেন এবং তাদের বলা নির্দেশ অনুসারে কাজ করবেন।
প্রয়োজনও কিছু লিংক
চেক রিপাবলিক দেশটিতে যেতে চান তাহলে নিম্নলিখিত লিংক থেকে আপনি আপনার আরো কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে বা জানতে পারবেন।
চেক প্রজাতন্ত্রের ভিসা সংক্রান্ত তথ্যঃ Ministry of Foreign Affairs of the Czech Republic
কাজের সুযোগের জন্যঃ Jobs.cz, Prace.cz, LinkedIn
চেক রিপাবলিক যেতে খরচ কত?
আপনি বাংলাদেশ থেকে ইউরোপিয়ান এই দেশটিতে দুই ধরনের ভিসা নিয়ে যেতে পারেন এক হল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা এবং অপরটি হল স্টুডেন্ট ভিসা। তবে দুঃখের বিষয় এটাই যে আমাদের বাংলাদেশে চেক রিপাবলিক এর কোন এম্বেসি নেই। আপনি যদি এ দেশটিতে যেতে চান তাহলে আপনাকে আমাদের নিকটস্থ দেশ ভারতে গিয়ে এর ভিসা প্রসেসিং করতে হবে।
📌আরো পড়ুন👉মালয়েশিয়া কোন কাজের চাহিদা বেশি?
আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে চেক রিপাবলিক দেশটিতে যেতে চান তাহলে আপনার আনুমানিক খরচ পড়বে প্রায় 10 থেকে 15 লক্ষ টাকা মত। বাংলাদেশের বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে এই দেশটিতে যেতে পারবেন কিন্তু সরকারিভাবে এদেশটিতে যাবার কোন ব্যবস্থা নেই আমাদের বাংলাদেশ।
চেক রিপাবলিকের বেতন কত? 2026
আপনি যেহেতু ইউরোপের দেশ চেক রিপাবলিকে যেতে চাচ্ছেন, তাই আপনার চেক রিপাবলিকের বেতন কত? 2026 সম্পর্কে ধারণা রাখাটা খুব জরুরী। চেক রিপাবলিকের বেতন সাধারণত আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ,কাজের অভিজ্ঞতা, এবং কাজের ধরনের উপর ভিত্তি করে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। যার শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বেশি তাদের বেতন তুলনামূলকভাবে সাধারণ মানুষের থেকে অনেকটাই বেশি।
বর্তমান সময়ের চেক রিপাবলীকের বেতন অন্যান্য দেশ থেকে তুলনামূলকভাবে একটু ভালো। চেক রিপাবলিকের বেতন প্রায় বর্তমানে এক থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যে হবে। তবে বাংলাদেশ থেকে যারা সাধারণ কাজ করে তাদের বেতন হিসেবে এই দেশে প্রায় প্রতিমাসে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
চেক রিপাবলিকের মিনিমাম বেতন (Minimum Salary)
চেক রিপাবলিক সরকার একটি মিনিমাম বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছেন। চেক রিপাবলিক সরকারের নির্ধারিত মিনিমাম বেতন অনুযায়ী ২০২৬ সালে একজন ফুলটাইম কর্মীর ন্যূনতম মাসিক বেতন প্রায় 18,900 CZK।
বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দাঁড়ায় আনুমানিক ৯৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা।
📌আরো পড়ুন👉মালয়েশিয়া যেতে কত টাকা লাগে
এই মিনিমাম বেতন যে সকল সেক্টরের প্রযোজ্য সেগুলো হল –
- ফ্যাক্টরি শ্রমিক
- প্যাকিং ও ওয়্যারহাউস কর্মী
- ক্লিনার
- কনস্ট্রাকশন হেলপার
তবে বাস্তবে অনেক কোম্পানিতে মিনিমাম বেতনের পাশাপাশি সেখানে ওভারটাইম ও নাইট শিফট ভাতার প্রচলন রয়েছে। তাই আপনি যদি ওভারটাইম এবং নাইট শিফটে কাজ করেন তাহলে আপনার মোট আয় কিছুটা বেশি বেশি হবে।
চেক রিপাবলিকের গড় বেতন (Average Salary)
চেক রিপাবলিকের গড় মাসিক বেতন এর কথা জানলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। চেক রিপাবলিকের গড় বেতন প্রায় 43,000 CZK। যেটা বাংলাদেশি টাকায় কনভার্ট করলে দাড়ায় প্রায় ২,২০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ টাকা।
এই গড় বেতন অনেকটাই নির্ভর আপনার অবস্থান কাজের ধরনের উপর। যেমন
- কোন শহরে কাজ করা হচ্ছে
- কাজের ধরন
- কর্মীর অভিজ্ঞতা
- ভাষাজ্ঞান (ইংরেজি বা চেক ভাষা)
- কোম্পানির ধরন
প্রাগ (Prague) শহরে গড় বেতন বেশি হলেও সেখানে জীবনযাত্রার খরচও তুলনামূলক বেশি।
ফ্যাক্টরি ও ওয়্যারহাউস কর্মীদের বেতন
চেক রিপাবলিকে যত ধরনের কাজ রয়েছে তার মধ্যে ফ্যাক্টরি ও ওয়্যারহাউস কাজ চেক রিপাবলিকে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত চাকরির মধ্যে পড়ে। এসব কাজে সাধারণত প্যাকিং, প্রোডাকশন লাইন অপারেটর ও মেশিন হেলপার হিসেবে কাজ করতে হয়। এদের মাসিক বেতন প্রায় 20,000 – 30,000 CZK। যেটি বাংলাদেশি টাকা প্রায় ১,০৫,০০০ – ১,৬০,০০০ টাকার মত।এই ধরনের কাজে সাধারণত অভিজ্ঞতা না থাকলেও কাজ পাওয়া যায়। এই সকল কাজের ক্ষেত্রে ওভারটাইমের সুযোগ থাকে। রাতের শিফটে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং এক্ষেত্রে বেশি বেতন দেওয়া হয়।
কনস্ট্রাকশন ও বিল্ডিং শ্রমিকের বেতন
চেক রিপাবলিক দেশটিতে নির্মাণ খাতে কাজ করা শ্রমিকদের বেতন তুলনামূলক বেশি দেয়। কারণ কাজ অনেকটাই কষ্টকর এবং শারীরিকভাবে অনেক পরিশ্রম করতে হয়।কনস্ট্রাকশন ও বিল্ডিং শ্রমিকের মাসিক বেতন প্রায় 25,000 – 40,000 CZK। যেটি বাংলাদেশি টাকায় ফ্রাই ১,৩০,০০০ – ২,১০,০০০ টাকা। কনস্ট্রাকশন ও বিল্ডিং শ্রমিকের খাতে যারা কাজ করে তারা হল-
- রাজমিস্ত্রি
- টাইলস মিস্ত্রি
- ইলেকট্রিশিয়ান
- প্লাম্বার
কনস্ট্রাকশন ও বিল্ডিং শ্রমিকের মধ্যে যাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে, তারা তুলনামূলক বেশি বেতন পান।
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মীদের বেতন
চেক রিপাবলিক পর্যটনপ্রধান দেশ হওয়ায় হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কর্মীর চাহিদা সবসময় থাকে। হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মীদের মাসিক বেতন প্রায় 22,000 – 35,000 CZK। যেটা বাংলাদেশি টাকা প্রায় ১,১৫,০০০ – ১,৮৫,০০০ টাকা।
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মীদের কাজের মধ্যের রয়েছে-
- কুক
- ওয়েটার
- কিচেন হেলপার
- ক্লিনার
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কাজ পায় সবচেয়ে বেশি যারা ইংরেজি জানে।
ড্রাইভারের বেতন
চেক রিপাবলিক দেশটিতে ডেলিভারি ও ট্রাক ড্রাইভারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এখানে কাজের চাহিদা যেমন বাড়ছে ঠিক তেমনি এদের বেতন ও তরতর করে বেড়ে চলেছে। বর্তমানে ড্রাইভার এর মাসিক বেতন প্রায় 30,000 – 45,000 CZK। বাংলাদেশি টাকা প্রায় ১,৬০,০০০ – ২,৪০,০০০ টাকা।
📌আরো পড়ুন👉হাঙ্গেরি শ্রমিকদের বেতন কত?
চেক রিপাবলিকে ড্রাইভিং করতে হলে আপনার অবশ্যই ইউরোপিয়ান লাইসেন্স থাকতে হবে। এখানে অভিজ্ঞ ড্রাইভারদের বেতন তুলনামূলকভাবে বেশি। ড্রাইভিং সেক্টরে নাইট শিফটের ব্যবস্থা রয়েছে। নাইট শিফটে কাজ করলে অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যায়।
আইটি ও টেকনিক্যাল চাকরির বেতন
চেক রিপাবলিক দৃষ্টিতে আইটি সেক্টরে প্রচুর লোকের চাহিদা রয়েছে। এবং এই আইটি সেক্টরে বেতন সবচেয়ে বেশি।আইটি ও টেকনিক্যাল চাকরির মাসিক বেতন প্রায় 60,000 – 120,000 CZK। বাংলাদেশি টাকা প্রায় ৩,২০,০০০ – ৬,৪০,০০০ টাকা।
এই আইটি ও টেকনিক্যাল চাকুরী করে যে সকল ব্যক্তি তারা হল
- সফটওয়্যার ডেভেলপার
- নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার
- ডেটা অ্যানালিস্ট
তবে এ আইটি ও টেকনিক্যাল চাকরি করতে হলে ডিগ্রি ও দক্ষতা বাধ্যতামূলক।
শহরভেদে বেতনের পার্থক্য
চেক রিপাবলিকের শহর ভেদে কাজের বেতনের পার্থক্য রয়েছে। যেমন
- প্রাগ (Prague): বেতন বেশি, খরচ বেশি
- ব্র্নো (Brno): মাঝারি বেতন ও খরচ
- ছোট শহর: বেতন কম, খরচ কম
- গ্রামে বা ছোট শহরে কাজ করলে সেভিংস তুলনামূলক বেশি হয়।
কাজের সময় ও ওভারটাইম
চেক রিপাবলিকে সাধারণত কাজের সময় ও ওভারটাইম প্রচলন রয়েছে। যেমন
- সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ
- দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজ
- ওভারটাইমে আলাদা টাকা
- নাইট শিফটে বেশি রেট
এটি শ্রম আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
মন্তব্য : চেক রিপাবলিকের বেতন কত? 2026
চেক রিপাবলিক বেতন ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় মাঝারি হলেও জীবনযাত্রার খরচ কম হওয়ায় এখানে ভালো সেভিংস করা সম্ভব। যারা ফ্যাক্টরি, কনস্ট্রাকশন, রেস্টুরেন্ট বা ড্রাইভারের কাজ করতে চান, তাদের জন্য চেক রিপাবলিক একটি বাস্তবসম্মত গন্তব্য।
সঠিক ওয়ার্ক পারমিট, ভালো নিয়োগকর্তা এবং পরিশ্রম থাকলে চেক রিপাবলিকে কাজ করে পরিবারকে ভালোভাবে সাপোর্ট করা যায়।
FAQs
ভাষা না জানলেও কি চেক রিপাবলিকে কাজ পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, অনেক ফ্যাক্টরি, ওয়্যারহাউস ও কনস্ট্রাকশন কাজে চেক ভাষা না জানলেও কাজ পাওয়া যায়। তবে ইংরেজি জানলে কাজ পাওয়া সহজ হয় এবং বেতনও তুলনামূলক ভালো হয়।
চেক রিপাবলিকে গড় মাসিক বেতন কত?
চেক রিপাবলিকের গড় মাসিক বেতন প্রায় 43,000 CZK। বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ২,২০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ টাকা।
কোন কাজে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া যায়?
- চেক রিপাবলিকে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া যায়—
- আইটি ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
- ডেটা অ্যানালিস্ট
- অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ান ও টেকনিশিয়ান
- ট্রাক ও ডেলিভারি ড্রাইভার
এসব পেশায় বেতন সাধারণত 60,000 CZK থেকে 120,000 CZK পর্যন্ত হতে পারে।
২০২৬ সালে চেক রিপাবলিকের মিনিমাম বেতন কত?
২০২৬ সালে চেক রিপাবলিকের সরকারি মিনিমাম বেতন আনুমানিক 18,900 CZK প্রতি মাস। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৯৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা (রেট অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে)।
রেস্টুরেন্ট ও হোটেল কর্মীদের বেতন কত?
হোটেল ও রেস্টুরেন্ট কর্মীদের বেতন সাধারণত 22,000 থেকে 35,000 CZK। কাজ ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে বেতন কম-বেশি হয়।